ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দক্ষ জনশক্তি গঠনে জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো

দক্ষ জনশক্তি গঠনে জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো
×

আকবর হোসেন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩২ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩৪

অন্তবর্তী সরকার বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর (বিএনকিউএফ) অনুমোদন দিয়ে গেছে। এটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো অনেক দেশে আছে, যেমন ইউরোপীয় দেশগুলো, আইরল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, কেনিয়া, পাকিস্তান, নামিবিয়া ইত্যাদি। এটা বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় সুবিধা হতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশি সনদগুলো আন্তর্জাতিকভাবে আরো স্বীকৃত হবে এবং দক্ষ কর্মীরা বিদেশি বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে পারবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে আট বছর ধরে কাজ চলছিল। এতে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত, গবেষণা, কর্মশালা ও নীতিগত আলোচনার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই কাঠামো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত, আধুনিক এবং বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে তৈরি হয়। একই সাথে সরকার কার্যকর করার জন্য অনুমোদন দিলেন।

এই যোগ্যতা কাঠামো আছে ইউরোপীয় দেশসমূহে। ইউরোপের অনেক দেশেই জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো আছে এবং তারা একে ইউরোপীয় যোগ্যতা কাঠামোর (ইকিউএফ) সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডে এই কাঠামো চলমান রয়েছে। এসব দেশের দিকে চোখ বুলালেই শিক্ষার মান সম্পর্কে একটি ছবি দৃশ্যমান হয়। 

এশিয়া ও আফ্রিকার আরও কিছু দেশ এই কাঠামোর আওতায় আসছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশ ইদানীং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো গড়ে তুলছে বা উন্নয়ন করছে। সেই দেশগুলোতে কাঠামো রূপায়ণ বা উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় সুবিধা হতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশি সনদগুলো আন্তর্জাতিকভাবে আরো স্বীকৃত হবে এবং দক্ষকর্মীরা বিদেশি বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।

এর লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও শিখনফলকে এমনভাবে মানসম্মত করা, যাতে দেশের নাগরিকেরা দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান সূচক হচ্ছে দক্ষতা ও শিক্ষার মান। দেশে শিক্ষার চলমান ধারার মধ্যে এতদিন এই কাঠামো কার্যকর সমন্বয় করতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে বিএনএফকিউ বলে মনে করছি।

২০২৪ সাল থেকে বিএনকিউএফ-এর লেভেল ১৫ অনুযায়ী সনদ প্রদান শুরু করে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এটি দক্ষতা খাতকে আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা কাঠামোর সাথে ভারসাম্য রাখতে শক্ত ভূমিকায় রয়েছে। বিএনকিউএফকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল। এরফলে সূদর প্রসারী প্রভাব দেশ শিক্ষায় এবং বিদেশে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে।

বিএনকিউএফ উন্নয়নে ২০১৮ সাল থেকে কাজ শুরু হয়। উচ্চ পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি এবং ৭টি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। এতে ৪৫টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। প্রায় ৯৫টির বেশি কর্মশালা, সংলাপ ও নীতিগত বৈঠকের পরই চূড়ান্ত রুপ পায়। বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, যা সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসার চলমান ধারার শিক্ষাকে এক ছাতার নিচে সমন্বিত কাঠামোয় আনবে। ফলে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি ও সাফল্যের পথ হবে আরও বেগবান, স্বচ্ছ, পূর্বনির্ধারিত ও দক্ষ জনশক্তির গতিশীলতা বাড়বে।

আকবর হোসেন: সাংবাদিক
 

আরও পড়ুন

×