যেভাবে পাবেন নির্বিঘ্ন ঘুম
ডাক্তারবাড়ি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভালো ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। ঘুমের অভাবে আমাদের আবেগিক কাজ গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়। আবেগকে নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুমের অভাবে ছোট হয়ে যায়, ফলে তাদের কর্মক্ষমতা কমে আসে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই, ঘুমের ব্যাঘাতকে অনেক মানসিক রোগের একটি কারণ বা উপসর্গ হিসেবে ধরা হয়। বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) ছাড়াও উদ্বেগজনিত (অ্যাংজাইটি) রোগে ঘুমের অভাব দেখা যায়। যারা ক্রনিক ইনসমনিয়ায় (দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা) ভোগেন, তাদের জন্য ‘ঘুম আসছে না’ এই দুশ্চিন্তাটিও অ্যাংজাইটির জন্ম দিতে
পারে। সোম্যাটোফর্ম বা সাইকোটিক ডিসঅর্ডারগুলোর জন্যও ঘুমের অভাব একটি অন্যতম কারণ হতে পারে।
ঘুমের পর্যায়কে তিন ভাগে বিশ্লেষণ করা যায়: ঘুম আসতে লাগার সময়, ঘুম বজায় রাখার ক্ষমতা এবং সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যাওয়া (আর্লি মর্নিং অ্যাওয়েকেনিং)। অ্যাংজাইটির ক্ষেত্রে ঘুম আসতে দেরি হয়, আর দুঃস্বপ্ন বা বারবার ঘুম ভাঙার প্রবণতা দেখা দেয়, যা ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, বিষণ্নতার ক্ষেত্রে আর্লি মর্নিং অ্যাওয়েকেনিং দেখা যায় এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্তি থেকে যায়। অতিরিক্ত ঘুম অনেক সময় ক্লান্তির সংকেত, যা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। মানসিক চাপ অতিরিক্ত হলে মস্তিষ্ক চাপ সামলাতে না পেরে ঘুমিয়ে পড়ে, যা এক ধরনের ‘এড়িয়ে যাওয়া’ ভালো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে, আর মন ভালো থাকলে ঘুমও নির্বিঘ্ন হয়। ডিপ্রেশনের কারণে যেমন ঘুম কমতে পারে, তেমনি বেড়েও যেতে পারে। তবে, সাত-আট ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা আছে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘুমের মান বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা জরুরি। সময় নির্দিষ্ট না হলে ঘুমের চক্র (স্লিপ সাইকেল) ঠিক থাকে না, যা অনিদ্রার কারণ হয়। শিফট ডিউটির কারণে যাদের ঘুমের প্যাটার্ন ব্যাহত হয়, তাদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রবণতাও বেশি থাকে। সাধারণভাবে প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট। বিছানায় শোয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ঘুম আসা ভালো লক্ষণ; এর চেয়ে বেশি সময় লাগলে তা মানসিক সমস্যার পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে সতেজ লাগলে এবং শরীরে ক্লান্তির ছাপ না থাকলে বুঝতে হবে ঘুম ভালো হয়েছে। ভালো ঘুম কাজের মান এবং সামাজিক মেলামেশা বাড়ায়, ফলে ডিপ্রেশনও কম হয়। ভালো ঘুমের পথে প্রধান অন্তরায় হলো মোবাইল ফোন।
ঘুমানোর আগে মানসিক বা শারীরিক যেকোনো ধরনের উত্তেজনা, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও সিগারেট অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। মোবাইল বন্ধ করা সম্ভব না হলেও ইন্টারনেট বন্ধ রাখুন। আউটডোর এক্সারসাইজ ডিপ্রেশন
কমাতে সাহায্য করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সারা সপ্তাহ কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে একসঙ্গে অনেকটা সময় ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করা উচিত।
- বিষয় :
- ঘুম