ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে যা খাবেন

ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে যা খাবেন
×
×

  নাহিদা আহমেদ

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু জ্বরের সময় যেমন সঠিক খাদ্যব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জ্বর থেকে সেরে ওঠার পরও পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ জরুরি। অসুস্থতার কারণে শরীরে দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ হয়ে ওঠার সময় সুষম খাবার গ্রহণ এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসা প্রয়োজন।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান
শরীরের কোষের গঠন ও পুনরুদ্ধারে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, ডাল ও ছানা রাখা যেতে পারে। যাদের ক্ষুধা কম, তারা অল্প অল্প করে বারবার খাবার খেতে পারেন। এতে একবারে বেশি খাবার খাওয়ার চাপ কমবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ সহজ হবে।

সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন
ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় জাউ, নরম ভাত, খিচুড়ি, সবজির স্যুপ ও পাতলা ঝোল খাওয়া যেতে পারে। মুরগি ও সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ থেকে তরল, প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে শুধু তরল খাবারের ওপর নির্ভর না করে শারীরিক অবস্থা ও ক্ষুধা অনুযায়ী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

ফল ও শাকসবজি রাখুন খাদ্যতালিকায়
কমলা, মাল্টা, পাকা পেঁপে, কলা, পেয়ারা ও অন্যান্য তাজা ফল ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের ভালো উৎস। পাশাপাশি পালংশাক, ব্রকলি, গাজর, লাউসহ বিভিন্ন রঙের শাকসবজি খাওয়া উচিত। এসব খাবার শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
বেদানা খাওয়া যেতে পারে, তবে এটি ডেঙ্গুতে প্লেটলেট দ্রুত বাড়ায়–এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই কোনো একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়াই ভালো।

পর্যাপ্ত তরল পান করুন
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময় পানিশূন্যতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, পাতলা স্যুপ এবং চিনি ছাড়া ফলের রস গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্‌রোগ থাকলে তরল ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
গোটা ফল সাধারণত ফলের রসের চেয়ে ভালো, কারণ এতে খাদ্যআঁশ বেশি থাকে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলা উচিত।
কোন খাবার এড়াবেন?
অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করলে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত চা-কফি এবং অ্যালকোহল থেকেও বিরত থাকা ভালো। তবে সবার জন্য সব খাবার নিষিদ্ধ নয়; ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও সহনশীলতা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরও তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। জ্বর কমে গেলে সব ঝুঁকি কেটে গেছে–এমন ভাবা ঠিক নয়। সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাবার ও নিয়মিত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, কোনো বিশেষ খাবার একাই ডেঙ্গু সারায় না। সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাদ্য এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ দ্রুত ও নিরাপদে সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করে। 
[পুষ্টিবিদ ] 

আরও পড়ুন

×