রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ফলের ভূমিকা
ডা. শাহজাদা সেলিম
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই প্রথমে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন। কারণ তাদের ধারণা, ফল মিষ্টি, সে জন্যে রক্তে সুগার বাড়াবে। অথচ বাস্তবতা হলো, ডায়াবেটিস থাকলেও ফল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে, সঠিক ধরনের ফল এবং সঠিকভাবে খেলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি–কোনো একটি ফল একাই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে না। মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন, ওষুধ এবং ডায়াবেটিসের ধরন–সবকিছু মিলে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
ফল কেন খাবেন?
আস্ত ফলে থাকে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান। খাদ্যআঁশ খাবার থেকে গ্লুকোজ শোষণের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই মিষ্টি বা মিষ্টান্নের পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে গোটা ফল খাওয়া ভালো বিকল্প হতে পারে।
পেয়ারা–দেশি ফলের দারুণ পছন্দ
পেয়ারা আমাদের পরিচিত ও সহজলভ্য ফল। এতে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। ডায়াবেটিসে পেয়ারাকে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে ‘কাঁচা পেয়ারা রক্তের সুগার কমায়’ বা এটি ‘প্রাকৃতিক মেটফরমিন’–এ ধরনের দাবি করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পেয়ারা খেলে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা মিষ্টি মসলা না মেশানোই ভালো।
জাম–আমাদের পরিচিত উপকারী ফল
জাম বা কালোজামে বিভিন্ন পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। জামবীজের গুঁড়া বা জামপাতা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান রক্তের সুগার কমায়–এমন প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে এগুলোকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার মতো পর্যাপ্ত শক্তিশালী প্রমাণ নেই। তাই জাম খেতে চাইলে গোটা ফল হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো, কিন্তু ওষুধের পরিবর্তে জামবীজের গুঁড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
আপেল, কমলা ও মালটা
আপেল, কমলা ও মালটায় খাদ্যআঁশ রয়েছে এবং এগুলো গোটা ফল হিসেবে খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা অনেক মিষ্টি খাবার বা মিষ্টি পানীয়ের তুলনায় কম হতে পারে।
বিশেষ করে কমলা বা মালটা জুস করে না খেয়ে গোটা ফল খাওয়া ভালো। কারণ জুস করার সময় ফলের আঁশের কাঠামো নষ্ট হয় এবং অল্প সময়ে বেশি পরিমাণ ফলের চিনি গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়।
বেরি জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি ও ব্ল্যাকবেরির মতো বেরি জাতীয় ফলে খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন পলিফেনল রয়েছে। এগুলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে আমাদের দেশে এগুলো তুলনামূলক ব্যয়বহুল। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদেশি ফল কিনতেই হবে–এমন কোনো কথা নেই। দেশি ও মৌসুমি ফলও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডো অন্য অনেক ফলের তুলনায় আলাদা। এতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খাদ্যআঁশ তুলনামূলক বেশি। তাই রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ানোর আশঙ্কাও কম। তবে অ্যাভোকাডো খেলে অন্য খাবারের রক্তে শর্করার মাত্রা ‘সমান’ হয়ে যাবে–এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
(বাকি অংশ পরবর্তী সংখায় প্রকাশিত হবে)
[সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ]
- বিষয় :
- ফলে রাসায়নিক