শেয়ারবাজারে লভ্যাংশ বিতরণের শর্ত শিথিল
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০ | ০৪:৪১
শেয়ারবাজারে লভ্যাংশ বিতরণের শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যক্তি শ্রেণির স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকুলে এখনই লভ্যাংশ বিতরণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে হবে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর।
রোববার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৯ সালের লভ্যাংশ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে গত ১১ সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি বিবেচনায় লভ্যাংশ বিতরণের সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়। ওই সার্কুলারের আংশিক সংশোধন করে গতকালের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অধিকতর স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, শুধুমাত্র ব্যক্তি শ্রেণির স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকুলে ২০১৯ সালের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বিতরণ করা যাবে। তবে ওই সার্কুলারের অন্যান্য সব নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদেও লভ্যাংশ বিতরণে কোনো বিধিনিষেধ থাকলো না। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে প্রাতিষ্ঠানিক ও উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া যাবে না। গভর্নর ফজলে কবিরের সাথে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বৈঠকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ বিতরণের শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে এবার ব্যাংক চাইলেই অনেক বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না। নীতিমালার আলোকে ২০১৯ সালে প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডেফারেল সুবিধার অধীন নয় (প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় নেয়নি যে ব্যাংক) এমন ব্যাংকের মূলধনের পরিমাণ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের সাড়ে ১২ শতাংশ বা তার বেশি হলে সামর্থ্য অনুসারে ওই ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদসহ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। ডেফারেল সুবিধার অধীন না থাকা যেসব ব্যাংকের মূলধন ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশের মধ্যে তারা সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ নগদসহ ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। আর ডেফারেল সুবিধার আওতায় থাকা যেসব ব্যাংকের সম্পূর্ণভাবে প্রভিশন সমন্বয়ের পর মূলধন সংরক্ষণের হার ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বা তার বেশি সে সব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নগদসহ ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
আর ডেফারেল সুবিধা সমন্বয়ের পর যেসব ব্যাংকের মূলধন ১১ দশমিক ২৫ শতকাংশের কম তবে নূন্যতম ১০ শতাংশ হবে তারা ৫ শতাংশ স্টক দিতে পারবে। ইতিমধ্যে যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ দিয়েছে তাদের লভ্যাংশের হার এই নির্দেশনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে তা স্থগিত করে শিগগির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।