বেতন-বোনাস পরিশোধ প্রায় শতভাগ কারখানায়
তৈরি পােশাক খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিস্থিতি জানাতে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে গতকাল বুধবার আয়ােজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং পর্ষদ সদস্যরা ফটাে রিলিজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের আগে গতকাল পর্যন্ত প্রায় শতভাগ পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। মাত্র দুটি কারখানা গতকাল দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছেন তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির এবং সংগঠনের পরিচালকরা।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করতে সক্ষম হয়নি মাত্র দুটি কারখানা। বাকি সব কারখানায় পরিশোধ হয়েছে। অন্যদিকে ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায়। চারটি কারখানায় বোনাস পরিশোধ গতকাল দুপুর পর্যন্ত বাকি ছিল। বেতন-বোনাস হয়নি এমন কারখানায় পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম দিয়েছে। মহাসড়কে চাপ কমাতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং বাকি বেশির ভাগ কারখানায় বুধবার ও কিছু কারখানায় বৃহস্পতিবার ছুটি দেওয়া হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকট কাটাতে সহায়ক হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতায় শিল্পাঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতিরও একটি বর্ণনা দেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গত আট মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তিনটি বড় চাপ এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এগুলো হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
শ্রমিক নেতারা এবারের ঈদে বেতন-বোনাস পরিশোধ পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট। জানতে চাইলে শ্রমিক নেতারা বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান গতকাল সমকালকে বলেন, অন্য যে কোনোবারের চেয়ে পরিস্থিতি এবার ভালো। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার অর্থছাড় ও মজুরি পরিশোধে নমনীয় ঋণের সুবাদে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কারখানাগুলোতে বেতন-বোনাস পরিশোধে সমস্যা হয়নি। বিধি অনুযায়ী পাওনা পেয়েছেন শ্রমিকরা। তবে সাব-কন্টাক্ট্র শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা আছে। অবশ্য এ নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই। কারণ এসব কারখানার মালিক ও শ্রমিক নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
- বিষয় :
- বিজিএমইএ
