ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শীর্ষ ১০ গন্তব্যের ৯টিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে

শীর্ষ ১০ গন্তব্যের ৯টিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে
×

আবু হেনা মুহিব

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশি মুদ্রা আয়ের মূল উৎস দেশের রপ্তানি খাত। এ খাতের প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক। সমজাতীয় পণ্যসহ মোট রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাকের অংশ ৮৬ শতাংশের মতো। গুরুত্বপূর্ণ এই পণ্যের রপ্তানি টানা গত আট মাস কমছে। জোটগত প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জোটের বাইরে শীর্ষ বাজার ও একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অপ্রচলিত শ্রেণির নতুন বাজার–কোনো গন্তব্যে রপ্তানিতে সুবিধা করা যাচ্ছে না। প্রধান এবং আলোচিত প্রায় সব দেশেই রপ্তানি কমছে। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে রপ্তানি আয়ের বিবেচনায় শীর্ষ ১০ বাজারে রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গেল মার্চ মাস পর্যন্ত ৯ মাসে শীর্ষ ১০ বাজারের মধ্যে রয়েছে–যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান ও ডেনমার্ক। এসব বাজারের মধ্যে ৯টি থেকে রপ্তানি আয় কমেছে আগের একই সময়ের তুলনায়। একমাত্র ব্যতিক্রম স্পেন। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ শতাংশের মতো। 
শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে রপ্তানি কমেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশ জার্মানিতে। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ মাসে দেশটিতে রপ্তানি কম হয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। পরিমাণ কমেছে ৫৩ কোটি ডলার। গত ৯ মাসের রপ্তানি আয় ৩২৭ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হারে রপ্তানি কম হয়েছে ডেনমার্কে ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। ৮০ কোটি ডলারের রপ্তানি ৬৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে রপ্তানি কম হয়েছে ফ্রান্সে। ১৬৫ কোটি ডলার থেকে রপ্তানি কমে এসেছে ১৪৫ কোটিতে। 

অন্যদিকে পরিমাণে বেশি রপ্তানি হয় এমন দেশের মধ্যে একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কম হয়েছে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৭৪ কোটি ডলার। পরিমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি বাজার ফ্রান্স। তৃতীয় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে রয়েছে ইইউ জোট থেকে বেরিয়ে আসা ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৩০ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৩৬ কোটি ডলার। শতাংশের বিবেচনায় রপ্তানি কম হয়েছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। 
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল সমকালকে বলেন, অভিন্ন কারণে সব দেশে রপ্তানি কমছে। এগুলো হচ্ছে, মার্কিন পাল্টা শুল্ক, শুল্কের প্রভাবে প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি এবং দেশে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা। সর্বশেষ সমস্যা মধ্যপ্রাচ্য সংকট। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুমান ছিল, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার পর অনেক অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। এপ্রিল কিংবা মে মাস থেকে সন্তোষজনক রপ্তানি আদেশ আমরা পাবো, যা আগস্ট মাস নাগাদ রপ্তানি চিত্রে দেখা যাবে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আবার সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ রপ্তানি খাতে সুখবর আসবে বলা মুশকিল। 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি গন্তব্যকে মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। প্রচলিত বাজার এবং অপ্রচলিত বা নতুন বাজার। প্রচলিত বাজার বলতে দীর্ঘ দিন ধরে যে সব বাজারে রপ্তানি হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, কানাডা ও যুক্তরাজ্য রয়েছে এই শ্রেণিতে। অন্যদিকে এসব বাজারের বাইরে অন্য সব বাজারকে নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
নতুন বাজারের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বড় বাজার এশিয়ার দেশ জাপান। বাংলাদেশের পোশাকের শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে দেশটির অবস্থান নবম। গত ৯ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৭৯ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের একই সময়ে ছিল ৯৬ কোটি ডলার। এ সময় রপ্তানি কম হয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে আলোচিত বাজার হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো দেশ। এসব দেশকে উদীয়মান বাজার হিসেবে সম্ভাবনাময় মনে করছেন রপ্তানিকারকেরা।

আরও পড়ুন

×