বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে
ওবায়দুল্লাহ রনি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৭:৩৭ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ | ০৯:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে এবার ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। গত মার্চে প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে যা ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় ২০২৪ সালের আগস্টে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ-গ্যাস না পাওয়া, সরকার পতনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাওয়া ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বর্তমানের ঋণ প্রবৃদ্ধি এযাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। সুদহার বিবেচনায় নিলে প্রকৃতপক্ষে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক। কেননা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হিসাব করা হয় সুদহার যোগ করে। গত মার্চে ব্যাংকগুলো গড়ে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করেছে। আমানতের গড় সুদহার ছিল ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। ঋণ ও আমানতে সুদহারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) ছিল ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান সমকালকে বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, উচ্চ সুদহার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে হয়তো এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন ঋণ নিচ্ছেন না, এটাই বড় বিষয়। সব মিলিয়ে কঠিন সময় যাচ্ছে। এ সময়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যত বেশি আলোচনা করা যাবে, তত সমাধান আসবে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে আগামী বাজেট একটা উপায় হতে পারে। বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান করলে প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অর্থায়ন নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও ব্যাংকের বিকল্প তেমন নেই। অন্যান্য দেশে ব্যাংকের বাইরে বন্ড, পুঁজিবাজার অর্থায়নের ভালো বিকল্প হলেও বাংলাদেশে তা সেভাবে গড়ে ওঠেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর কাছে এখন তারল্যের কোনো সংকট নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ পর্যন্ত বাজার থেকে প্রায় ৬১৪ কোটি ডলার কিনে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। আবার সরকারের ঋণও বাজেট নির্ধারিত সীমার মধ্যে আছে। এরপরও ঋণ বৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। একটি সময় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে ছিল। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর কলকারখানা বন্ধসহ নানা কারণে অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে আসে। এরপরও ২০২০ সালে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এরপর আবার বেড়ে দুই অঙ্কে ওঠে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি আবার এক অঙ্কে তথা ৯ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমে আসে। সেখান থেকে কমতে কমতে গত বছরের মার্চে ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশে আসে। এখন তা আরও কমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণের একটি অংশ অপব্যবহার হয়েছে। ঋণ নিয়ে পাচারসহ নানা জালিয়াতি হয়েছে। সেসব ঋণ অনাদায়ী হয়ে এখন খেলাপি উঠেছে ৩০ শতাংশের ওপরে। ওই সময়ে যেসব ব্যবসায়ী বেশি ঋণ নিতেন তাদের অধিকাংশই এখন পলাতক কিংবা জেলে আছেন। অনেকের কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে ঋণ পরিস্থিতি এ রকম অবস্থায় নেমেছে।
বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসায়ীরা বেশ আগে থেকে নীতি সুদহার কমানোর দাবি তুললেও ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তা ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে তা কমানো যাচ্ছে না।
- বিষয় :
- ঋণ
