বন্ধ কারখানা চালু করতে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ চায় সরকার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বন্ধ ও লোকসানি ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ চায় সরকার। এসব কারখানা পরিচালনায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), জয়েন্ট ভেঞ্চার, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা কিংবা সরাসরি বিক্রির মতো বিভিন্ন মডেল বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
গত ২০ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের শিল্প উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। গতকাল মঙ্গলবার বিডার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা ঋণসহায়তা চান। তারা বলেন, রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ঋণের সুদহার বা খরচ কমানোর অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী ঋণের সুদহার কমানোর ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনের আওতায় থাকা ৪৪টি বন্ধ বা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি কারখানার অবস্থান, জমির পরিমাণ, বিদ্যমান অবকাঠামো, বন্দর থেকে দূরত্ব, যোগাযোগ সুবিধা এবং সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটিও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে বন্ধ ও অসুস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে সেগুলো পুনরুজ্জীবনের জন্য কার্যকর প্রস্তাব তৈরি করা।
জানা গেছে, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গ্যাস সংযোগ, নীতিগত সহায়তা এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে। বন্ধ ও লোকসানি কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ১২টি, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) ৪টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১০টি, বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ১৩টি এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন প্রায় ৫টি প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ কারখানার জমি ইতোমধ্যে উন্নয়ন করা হয়েছে এবং সেখানে বিদ্যমান অবকাঠামো রয়েছে। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। এ কারণে এসব শিল্প ইউনিট বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।
কয়েকটি কারখানার মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আমিন জুট মিলসসহ বিভিন্ন পাটকল, চিনিকল, টেক্সটাইল মিল ও রাসায়নিক শিল্প ইউনিটের উল্লেখ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের জমির পরিমাণ কয়েক একর থেকে কয়েকশ একর পর্যন্ত রয়েছে। এরমধ্যে আমিন জুট মিলসের প্রায় ৮০ থেকে ১৫০ একর জমি রয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি মিল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে ৪৪টি কারখানার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, জমির পরিমাণ ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিডা সূত্রে জানা গেছে, আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব জমা দিলে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনা গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এসব কারখানা চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে অবশ্যই এসব প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চালু করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে অনেক উন্নয়ন কাজও হয়েছে। সরকার বিনিয়োগকারীদের নীতি, ঋণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। সে লক্ষ্যে দ্রুত কাজ চলছে ।
- বিষয় :
- বিনিয়োগ
