মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা
×
ফকির আলমগীর
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
নেলসন ম্যান্ডেলার জীবন ও তার জীবনক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে দুনিয়াব্যাপী, যা ছিল মহাকাব্যিক গল্পের বিংশ শতাব্দীর অনুপ্রেরণা। ম্যান্ডেলার সবচেয়ে বড় কীর্তি হচ্ছে তিনি স্বাধীনতা, শান্তি, সুন্দর জীবন প্রত্যাশা ও মানুষের আশার স্বপ্নকে ইতিহাসের সঙ্গে মেলাতে পেরেছিলেন। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি, নেলসন ম্যান্ডেলা হয়ে ওঠেন আফ্রিকার নেতা এবং ক্রমান্বয়ে সারা দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের নেতা। মুক্তির জয়গানে তখন তাবত দুনিয়া মুখরিত হয়।
১৯৬২ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি একটানা প্রায় ২৮ বছর কারাজীবন কাটিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার কালো চুল হয়ে ওঠে ধূসর বর্ণ। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে প্রায় ১৭ মাস দেশের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন গড়ে তুলতে হয়। ১৯৬৪ সালের জুন মাসে রিভোনিয়া মামলার আসামি হিসেবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু তার সাময়িক পরাজয়ের অর্থ এই নয় যে, তিনি বিজয় অর্জন করতে পারবেন না। বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের এই দমন-পীড়ন তাকে পরাস্ত করতে পারেনি। জয় হয়েছে ম্যান্ডেলারই; জয় হয়েছে মানবতার। তিনি আজ বিশ্বের কাছে শান্তি, মানবতা ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক। তার ৯০তম জন্মদিন আমরা উদযাপন করেছিলাম ১৮ জুলাই ২০০৮ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে। সেই থেকে প্রতি বছর আমরা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন উদযাপন করে আসছি 'ঋষিজ'-এর পক্ষ থেকে। লন্ডনের হাইড পার্কে জমকালো কনসার্টের মধ্য দিয়ে ম্যান্ডেলার জন্মদিন উদযাপন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। কনসার্টে বিশ্বের তারকা শিল্পীদের সুর-মূর্ছনায় উজ্জীবিত হয়ে আমিও গেয়েছিলাম- 'কালো কালো মানুষের দেশে ওই কালো মাটিতে রক্তের স্রোতের শামিল/নেলসন ম্যান্ডেলা তুমি অমর কবিতার অন্ত্যমিল।'
অবিস্মরণীয় নেলসন ম্যান্ডেলা, বিশ্বের বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিশ্বমানবের অকৃত্রিম বন্ধু। বর্ণবাদ-পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি। শান্তিতে নোবেল পান ১৯৯৩ সালে এই অবিসংবাদিত নেতা। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে এই মহান নেতার জীবনাবসান ঘটে।
আজ ম্যান্ডেলা বেঁচে নেই; কিন্তু তার সঙ্গে আমার দুর্লভ স্মৃতির কথা মনে পড়ছে। বেশি করে মনে পড়ছে তার ঢাকা সফরের কথা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১৯৯৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, মুক্তিকামী মানুষের নেতা ম্যান্ডেলার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। আর তিন নেতাকে আলোকিত করে মঞ্চে ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ মার্চ তিন দিনের এই ঢাকা সফরটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিকামী মানুষের নেতা ম্যান্ডেলার প্রথম ও শেষ ঢাকা সফর। তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ভাষণ দিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানে। শিল্পকলা একাডেমির গতানুগতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলার ভাষণের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। সবাই তখন গুনগুনিয়ে গাচ্ছিলেন আমার জনপ্রিয় গানটি- 'কালো কালো মানুষের দেশে ওই কালো মাটিতে'; তারুণ্যের উচ্চকণ্ঠে তখন জনসমুদ্রে ঢেউ জেগেছিল। গণজোয়ারে সেদিন ভেসে গিয়েছিল শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমি সস্ত্রীক শেরাটনে মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। শেরাটন থেকে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে হোটেল লবিতে ছবি তুলি আর সাহস করে আমি তাকে নিয়ে আমার গানটা গাইতে শুরু করি। সাম্য সুরের ঐকতানে ম্যান্ডেলা সেদিন গানের সঙ্গে আফ্রিকান ঢঙে নেচেছিলেন। ম্যান্ডেলা সেদিন বলেছিলেন, 'আমি বাংলার বন্ধু হতে চাই।' ম্যান্ডেলার মন্তব্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
বর্ণবাদবিরোধী, গণতন্ত্রীকামী, মুক্তির দিশারি নেলসন ম্যান্ডেলা আজ ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী জনতার প্রেরণার উৎস। ম্যান্ডেলা একালের এক বিস্ময়। ম্যান্ডেলা আজ তাই ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, সৃজনশীলতা আর ধৈর্যের প্রতীক।
গণসংগীতশিল্পী
১৯৬২ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি একটানা প্রায় ২৮ বছর কারাজীবন কাটিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার কালো চুল হয়ে ওঠে ধূসর বর্ণ। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে প্রায় ১৭ মাস দেশের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন গড়ে তুলতে হয়। ১৯৬৪ সালের জুন মাসে রিভোনিয়া মামলার আসামি হিসেবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু তার সাময়িক পরাজয়ের অর্থ এই নয় যে, তিনি বিজয় অর্জন করতে পারবেন না। বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকারের এই দমন-পীড়ন তাকে পরাস্ত করতে পারেনি। জয় হয়েছে ম্যান্ডেলারই; জয় হয়েছে মানবতার। তিনি আজ বিশ্বের কাছে শান্তি, মানবতা ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক। তার ৯০তম জন্মদিন আমরা উদযাপন করেছিলাম ১৮ জুলাই ২০০৮ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে। সেই থেকে প্রতি বছর আমরা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন উদযাপন করে আসছি 'ঋষিজ'-এর পক্ষ থেকে। লন্ডনের হাইড পার্কে জমকালো কনসার্টের মধ্য দিয়ে ম্যান্ডেলার জন্মদিন উদযাপন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। কনসার্টে বিশ্বের তারকা শিল্পীদের সুর-মূর্ছনায় উজ্জীবিত হয়ে আমিও গেয়েছিলাম- 'কালো কালো মানুষের দেশে ওই কালো মাটিতে রক্তের স্রোতের শামিল/নেলসন ম্যান্ডেলা তুমি অমর কবিতার অন্ত্যমিল।'
অবিস্মরণীয় নেলসন ম্যান্ডেলা, বিশ্বের বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিশ্বমানবের অকৃত্রিম বন্ধু। বর্ণবাদ-পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি। শান্তিতে নোবেল পান ১৯৯৩ সালে এই অবিসংবাদিত নেতা। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে এই মহান নেতার জীবনাবসান ঘটে।
আজ ম্যান্ডেলা বেঁচে নেই; কিন্তু তার সঙ্গে আমার দুর্লভ স্মৃতির কথা মনে পড়ছে। বেশি করে মনে পড়ছে তার ঢাকা সফরের কথা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১৯৯৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, মুক্তিকামী মানুষের নেতা ম্যান্ডেলার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। আর তিন নেতাকে আলোকিত করে মঞ্চে ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ মার্চ তিন দিনের এই ঢাকা সফরটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিকামী মানুষের নেতা ম্যান্ডেলার প্রথম ও শেষ ঢাকা সফর। তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ভাষণ দিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানে। শিল্পকলা একাডেমির গতানুগতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলার ভাষণের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। সবাই তখন গুনগুনিয়ে গাচ্ছিলেন আমার জনপ্রিয় গানটি- 'কালো কালো মানুষের দেশে ওই কালো মাটিতে'; তারুণ্যের উচ্চকণ্ঠে তখন জনসমুদ্রে ঢেউ জেগেছিল। গণজোয়ারে সেদিন ভেসে গিয়েছিল শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমি সস্ত্রীক শেরাটনে মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। শেরাটন থেকে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে হোটেল লবিতে ছবি তুলি আর সাহস করে আমি তাকে নিয়ে আমার গানটা গাইতে শুরু করি। সাম্য সুরের ঐকতানে ম্যান্ডেলা সেদিন গানের সঙ্গে আফ্রিকান ঢঙে নেচেছিলেন। ম্যান্ডেলা সেদিন বলেছিলেন, 'আমি বাংলার বন্ধু হতে চাই।' ম্যান্ডেলার মন্তব্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
বর্ণবাদবিরোধী, গণতন্ত্রীকামী, মুক্তির দিশারি নেলসন ম্যান্ডেলা আজ ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী জনতার প্রেরণার উৎস। ম্যান্ডেলা একালের এক বিস্ময়। ম্যান্ডেলা আজ তাই ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, সৃজনশীলতা আর ধৈর্যের প্রতীক।
গণসংগীতশিল্পী
- বিষয় :
- প্রেরণা