ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

পদাবলি

পদাবলি
×

অলংকরণ :: দেওয়ান আতিকুর রহমান

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

অনাকাঙ্ক্ষিত  
নাসির আহমেদ

এক অচেনা পথের বাঁকে
হঠাৎ অচল গাড়ি!আমরা দুজন 
নেমে পড়ি ঘন অরণ্যের অন্ধকারে 
গা ছমছম-প্রায় ভৌতিক নিসর্গে!

এখানে থামার কথা ছিল না আমার 
এখানে আসার কথা ছিল না তোমার!
কথা ছিল সমুদ্রের রূপালি সৈকতে 
একা খুলে দেখে নেবো জীবনের একটি নতুন পাতা।

পাতা উল্টে যায়, পাতা ঝরে যায় 
অবাঞ্ছিত হঠাৎ বাতাসে নিভে যায় দিন!
আমাদের প্রতিটি গন্তব্য এইভাবে থেমে যায় 
অকস্মাৎ অচেনা পথের বাঁকে!

যার সাথে দেখা হবে ভেবে এসেছিলে 
তার সাথে দেখা নেই, সঙ্গী অন্যজন! 
এরই নাম অনিশ্চিত আর অনাকাঙ্ক্ষিত 
আশ্চর্য! এমনই জীবন।

 

চাঁদ
আমিনুল ইসলাম 
 
অতীতের ভাঙাঘরে চিত হয়ে শুয়ে সুদিনের মমি মসলিন
আলমারি স্যুটকেস, সিন্দুক—কোথাও একরত্তি হাসি নেই
বেলোয়াড়ি কাচের চুড়িতে শেফালির ষোড়শী কবজির ছাপ 
পুরাতন কাগজের নোটে এমবোস সিল মর্মে ভ্রম জাগে 
নদীর কঙ্কালে রাতের হাওয়া লেগে বেজে ওঠে যে সুর 
তার গায়ে মিশে আছে হারানো দিনের সোনাঝরা রোদ।

মাকড়ের জালে চোখ রেখে পুরোনো উঠোনে বাসা বাঁধে 
পাতাঝরা দিন; মৌনতার এসএমএস পেয়ে ঊরুখোলা 
হাওয়ায় বাধাহীন উড়ে আসে— প্ররোচনার পারফিউম মাখা 
জেনিফার লোপেজের মিনিস্কার্ট, ক্যাটরিনার সোনালি ব্রা
তো ঝুঁকে পড়ে মন; কিন্তু একটি দোঁ-আশ মাটির মুখে 
চোখ পড়তেই লোভের লাগেজ-সহ ফিরে আসি— শাটল ট্রেন

প্রত্যাবৃত্ত সাঁঝে প্রত্ন—আলো ছড়িয়ে হাসে ভালোবাসার চাঁদ।

 

কীর্তিনাশা
আরিফ মইনুদ্দীন
 
কীর্তিনাশা অবিরাম গেয়ে চলে স্বরলিপিহীন নতুন গানের সুর
কত পথ গেলে কোথায় মিলবে তার আরাধ্য যুগল–
                                   কাঙ্ক্ষিত যুগল হাত
যা-কিছু অর্জন সমূলে বিনাশ করে হেঁটে যাচ্ছে
আপনমনে অস্তিত্ব মনে করে মোহন এক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জাল ফেলে
একদল লোক নির্বিকার বসে আছে– তাদেরকে কেউ-একজন
বসিয়ে রেখেছে– যিনি মহা ক্ষমতাধর– ক্ষমতার শ্রেষ্ঠ আকর

তোমার অর্জিত কীর্তি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে, টের পাওয়ার আগে
                                 কথার ছলে হেলায় হারাচ্ছে কৌশল
নির্বিবাদ একজন মানুষ যখন বলে, নিজেরা নিজেরা বুঝে নাও
তাহলেই ভালো– যতটুকু পাবে তাহাই মহার্ঘ
জোর করে ছিনিয়ে আনবে– সেটাই সুতীক্ষ্ণ হাল হয়ে ঢুকে পড়বে
                   পেটে অথবা হৃদয়গঙ্গার গভীর কোমল তলদেশে

যা-কিছু অর্জিত কীর্তি ধীরে ধীরে নিঃশেষে বিলীন হয়ে যাচ্ছে
তাই একটি কথাই শুধু বলে যাই– 
কতটুকু সীমানায় গা এলিয়ে দিলে
শয্যার মাহাত্ম্যে ফুটবে বিজয়ের ফুল
সার্থক তখন দুই জাহান তার– একূল কিংবা ওকূল।

 

বৃত্তের প্রজননে
জেবুন্নেছা জোৎস্না 
 
আমাদের সবুজ ফ্লাওয়ার অব লাইফে 
দুঃখের ঘনত্ব এতোটা ছিলো
যে জল, বাষ্প হয়ে বৃত্তাকারে বৃষ্টি হতে পারে 

অপার সৌন্দর্যে দেখি— 
অপসৃত ছায়াপথে হলদে সূর্যমুখী !
বিষাদের কোষ-ঝিল্লি পুড়ে মৃতবৎ তারা; 
উজানে ফলিত গণিতের দাগ —
সৃষ্টির সকল প্রেম, সংগীত- প্রার্থনা
একে একে রুহের মিছিলে—গ্রোথিত শরীর বৃত্তে 

তুমি আর আমি ভিন্ন দুই মহাবিশ্বে-
মাঝখানে অভিন্ন আলোর অরোরা —
আমাদের চুমুক কেবলই লাল দ্রবণের তিক্ত স্বাদে,
লুফথানসা সিগনেচার অ্যাপেরিটিফের গ্লাসে 

আমাদের অসম্পূর্ণ প্রেম — পূর্ণতার জ্যামিতিতে,
দুই চন্দ্রবৃত্তের মিলনে জন্ম নেয়— ভেসিকা পিসিস 
 

 

আর্তনাদ
সাকিরা পারভীন

হাতের তালুতে ঢুকে পড়া
দুটো লাল কাঁকড়ার আর্তনাদ
তুমি থামাতে পারছ না
নখের মগজে ঢুকে পড়া
টুকরো পাথরের গান
তুমি থামাতে পারছ না
নাভির গহনে সংঘটিত শঙ্খ
তুমি নামাতে পারছ না
পিঠের তলায় উথলে আসা
জোয়ারের জল যতটুকু উস্কে দিতে
পারঙ্গম
মৃত্যু থেকে তোমাকে
তুলে আনার জন্য তা যথেষ্ট নয়
তাই তুমি ক্রমাগত
মৃত্যুর মতন
তোমার দিকেই অগ্রগামী হও
যাতে তুমিই তোমাকে
সবচেয়ে ভালো করে
উপলব্ধির সীমা
অতিক্রম করতে পারো।

আরও পড়ুন

×