ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

নারী সংসদ সদস্যের পদত্যাগ

জবাবদিহির দৃষ্টান্ত হইয়া উঠুক

জবাবদিহির দৃষ্টান্ত হইয়া উঠুক
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মিরপুরে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়াইয়া দিবার ঘটনার জের ধরিয়া সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ জবাবদিহির ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হইয়া থাকিবে। সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা গিয়াছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই তিনি পদত্যাগ করিতে কার্যত বাধ্য হইয়াছেন। নির্বাচিত সরকারের সময়ে এই প্রকার অচিন্তনীয় ঘটনা সংগত কারণেই জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়াছিল। আইনশৃঙ্খলার অশনিসংকেত এই অপকর্মে সংশ্লিষ্ট অনেকেই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার অনুসারী বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে। যদিও তিনি প্রথম হইতেই এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকিবার অভিযোগ অস্বীকার করিয়া আসিয়াছেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যের পদত্যাগ, তৎসহিত একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কমিটিও বাতিল করিয়াছে দলটি। ইতোপূর্বে এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করিয়াছে পুলিশ।

ইহাও ইতিবাচক, সাম্প্রতিক বিবিধ নেতিবাচক ঘটনায় বিএনপির যাহাদের নাম জনসমক্ষে আসিয়াছে, তাহাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া সমকালের প্রতিবেদনে প্রকাশ পাইয়াছে। ইহার পূর্বে সরকারের নির্দেশনায় পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা হইতে উহার মহাপরিদর্শক যেইভাবে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সতর্কবাণী উচ্চারণ করিয়াছেন– অপরাধে যুক্ত হইলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হইবে না; উহাও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বস্তুত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকিবার অভিযোগ উঠিয়াছে দীর্ঘসময় ধরিয়া। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হইতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা যেই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকিবার কারণে সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হইয়াছেন, তৎকারণে দলটি ভাবমূর্তির সংকটে পতিত হইয়াছে। ইতোপূর্বে উল্লেখযোগ্য কমিটি বাতিল এবং ব্যক্তিকে দল হইতে বহিষ্কারের পরও এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসে নাই। এখন একজন সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের উদ্যোগে দলটির নেতাকর্মীদের নিকট কঠোর বার্তা যাইবে– নিঃসন্দেহে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবহিত করিয়াছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে উত্থিত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হইলে তাঁহার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও লওয়া হইবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে সরকার সক্রিয় হইবার পূর্ব পর্যন্ত যেইভাবে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করিয়াছে, উহাও প্রশ্নবিদ্ধ। 
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসাবে তাহাদের উক্ত রাত্রিকালের ভূমিকা সমালোচনার জন্ম দিয়াছে। 
বস্তুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের পর সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যেই সকল সিদ্ধান্ত লইয়াছে, ঐগুলি সংগত ও সময়োপযোগী। তবে এইগুলিকে কেবল অস্থায়ী বা বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়া হিসেবে নহে বরং রাজনৈতিক দলের ব্যাপক আত্মশুদ্ধিমূলক কর্মপরিকল্পনার সূচনা হিসাবে বিবেচ্য। তৎসহিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি হইতে শিক্ষা লইয়া সকল জনপ্রতিনিধির জন্য যুগোপযোগী ও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন করিতে হইবে।
 

আরও পড়ুন

×