ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

৪ বছর বয়সে শুরু, সাফল্য-সম্পদে পূর্ণ ছিল এই অভিনেত্রীর জীবন

৪ বছর বয়সে শুরু, সাফল্য-সম্পদে পূর্ণ ছিল এই অভিনেত্রীর জীবন
×

শ্রীদেবী

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৪৮ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৪৯

ভারতীয় সিনেমার প্রথম সারির নারী সুপারস্টারদের কথা উঠলে সবার আগে যে নামগুলো আসে, তার মধ্যে অন্যতম শ্রীদেবী। অভিনয়, নাচ, সৌন্দর্য ও বহুমুখী প্রতিভায় তিনি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, যার কারণে ৯০-এর দশকে তাকে বলা হতো ‘ফিমেল অমিতাভ বচ্চন’।

২০১৮ সালে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রে বড় শূন্যতা তৈরি করে। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি যে সাফল্য ও সম্পদ রেখে গেছেন, তা আজও তাকে আলাদা করে রাখে।

১৯৬৭ সালে তামিল পৌরাণিক সিনেমা ‘কন্ধন করুণাই’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে অভিষেক হয় শ্রীদেবীর। তখন তার বয়স মাত্র চার বছর।

১৯৭৫ সালে ‘জুলি’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে হিন্দি সিনেমায় কাজ করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে ১৩ বছর বয়সে তামিল সিনেমা ‘মুন্দ্রু মুদিচু’-তে প্রথমবার নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর ১৯৭৯ সালে ‘সোলভা সাওয়ান’ দিয়ে হিন্দি সিনেমায় নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—চার ভাষার সিনেমায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন শ্রীদেবী।

বর্তমানে চলচ্চিত্রে পারিশ্রমিকের বৈষম্য নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ৯০-এর দশকেই শ্রীদেবী নারী অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন।

১৯৯৩ সালের ‘রূপ কি রানি চোরো কা রাজা’ সিনেমার জন্য তিনি ১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় এটি ছিল কোনো নারী অভিনেত্রীর জন্য নজিরবিহীন পারিশ্রমিক।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার চিরঞ্জীবীও প্রায় একই পরিমাণ পারিশ্রমিক নিতেন। এমনকি নব্বই দশকের মাঝামাঝি অমিতাভ বচ্চন ও কমল হাসান যখন পারিশ্রমিক বাড়াতে শুরু করেন, তখন শ্রীদেবী তাদের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক দাবি করতেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

‘লামহে’ (১৯৯১), ‘খুদা গওয়াহ’ (১৯৯২), ‘গুমরাহ’ (১৯৯৩), ‘লাডলা’ (১৯৯৪) ও ‘জুদাই’ (১৯৯৭)-এর মতো একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দেন শ্রীদেবী। তার জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সিনেমা করার প্রস্তাবও একসময় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত ‘খুদা গওয়াহ’ সিনেমায় দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়।

প্রযোজক বনি কাপুরকে বিয়ের পর ৯০-এর দশকের শেষ দিকে অভিনয় থেকে বিরতি নেন শ্রীদেবী। প্রায় এক দশক পর ২০১২ সালে গৌরী শিন্ডের ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ দিয়ে বড় পর্দায় ফেরেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের পরও তার পারিশ্রমিক ছিল বেশ চড়া।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৫ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিতেন।

‘মোনিমিন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় শ্রীদেবীর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫০ কোটি রুপি। সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা থেকে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিলেন।

‘আইবিটাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার প্রায় ৯ কোটি রুপি মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহ ছিল। এর মধ্যে অডি, ফোর্ড ও পোর্শে কেয়েনের মতো গাড়ি ছিল। পোর্শে কেয়েন ছিল তার পছন্দের গাড়িগুলোর একটি। এ ছাড়া মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে তার তিনটি বাংলো ছিল, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য ৮০ কোটি রুপির বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে পানিতে ডুবে মারা যান শ্রীদেবী। বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তবে মৃত্যুর আট বছর পরও ভারতীয় সিনেমায় তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তা অটুট। অভিনয়, পারিশ্রমিক এবং তারকা-ক্ষমতার দিক থেকে শ্রীদেবীর ক্যারিয়ার আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন

×