গানের মাধ্যমে জীবনের অনুভূতিগুলো ফিরিয়ে আনার প্রয়াস
অলিভিয়া ডিন
সাইফান সানাফ
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৫৯ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৩০
আধুনিক ব্রিটিশ সংগীতের ভুবনে যে কয়েকজন ধীরে ধীরে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছেন অলিভিয়া ডিন তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর গান শুনলে মনে হয় তিনি শুধু গানই গাইছেন না, কোনো এক অনুভূতির গল্প বলছেন। তাঁর গানে প্রেম আছে, আছে বন্ধুত্ব, আছে হারানোর বেদনা আর ফিরে পাওয়ার আনন্দ।
নিজের লেখা অনুভূতির সঙ্গে পপের অনন্য মিশ্রণ তাঁকে আলাদা করেছে সমসাময়িক শিল্পীদের ভিড়ে। গ্র্যামি জয়ী এ গায়িকা এবার হাজির হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘দ্য আর্ট অব লাভিং’ নিয়ে। যেখানে ভালোবাসার নানা রূপকে তিনি ধরেছেন নিজের মায়াবী সুরে। জ্যাক নাহোমের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় তৈরি অ্যালবামটি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়– রয়েছে বন্ধুত্ব, আত্মপ্রেম, বিচ্ছেদ, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগের গল্প। ‘দ্য আর্ট অব লাভিং’ অ্যালবামের শুরুতেই রয়েছে ‘সো ইজি (টু ফল ইন লাভ)’।
গানটির মধ্য দিয়ে অলিভিয়া মনে করিয়ে দেন, ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার আগে নিজের মূল্য বুঝতে শেখাও জরুরি। অ্যালবামের পরবর্তী গানগুলোয় ভালোবাসার আরও গভীর ও ব্যক্তিগত দিক সামনে আসে। ‘লেট অ্যালোন দ্য ওয়ান আই লাভ’, ‘লাউড’ ও ‘ক্লোজ আপ’-এর মতো গানে অলিভিয়ার কণ্ঠে ধরা পড়ে এক ধরনের আবেগ। কোথাও সম্পর্কের অনিশ্চয়তা, কোথাও নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করে নেওয়া, আবার কোথাও ভালোবাসার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরার সাহস। প্রতিটি গানেই রয়েছে আলাদা গল্প। ‘আ কাপল মিনিটস’, ‘লেডি লেডি’, ‘নাইস টু ইচ আদার’ ও ‘ম্যান আই নিড’।
এসব গানে অলিভিয়ার নিজস্ব গীতিকবিতার মিশেল তাঁকে সমসাময়িক শিল্পীদের ভিড়ে আলাদা করে তুলেছে। অ্যালবামের শেষ গান ‘আই’ভ সিন ইট’ যেন পুরো যাত্রার একটি আবেগঘন সমাপ্তি। জীবনের বিভিন্ন সম্পর্ক আমাদের মনে যে চিহ্ন রেখে যায়, সেই স্মৃতি ও কৃতজ্ঞতাই গানটির মূল অনুভূতি। ফলে অ্যালবামের শেষ প্রান্তে এসে শ্রোতার মনে থেকে যায় এক ধরনের প্রশান্তি।
অলিভিয়ার কাছে ভালোবাসা কেবল হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো জাদুকরী অনুভূতি নয়। এটি যত্ন, সময় ও চর্চার বিষয়। তাঁর ভাষায়, ভালোবাসা অনেকটা কোনো একটা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো। যার জন্য সময় দিতে হয়, অনুশীলন করতে হয়, যত্ন নিতে হয়। অলিভিয়া নিজেকে একজন রোমান্টিক মানুষ হিসেবেই দেখেন এবং তাঁর গানের মধ্য দিয়ে জীবনে ভালোবাসার অনুভূতিটিকে ফিরিয়ে আনতে চান। তিনি ভালোবাসাকে নিখুঁত কোনো রূপকথা হিসেবে দেখান না। বরং এর আনন্দের পাশাপাশি অনিশ্চয়তা, হতাশা, অপেক্ষা ও আত্ম অনুসন্ধানের জায়গাগুলোকেও তুলে ধরেন। এখানেই তাঁর গান হয়ে ওঠে আরও মানবিক।
শ্রোতারা তাঁর গান শুনে শুধু সুর উপভোগ করেন না; নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও মিল খুঁজে পান। তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘মেসি’ প্রকাশের পরই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। অ্যালবামটি অলিভিয়াকে পপসংগীতের অন্যতম সম্ভাবনাময় কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। শুধু স্টুডিওতেই নয়, মঞ্চেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন অলিভিয়া। নতুন অ্যালবামকে সামনে রেখে ২০২৬ সালে বড় পরিসরের একাধিক লাইভ শোতে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের সিএফজি ব্যাংক অ্যারেনা থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে থাকছে তাঁর কনসার্ট। আগামীকাল থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত একাধিক শো রয়েছে তাঁর। এরপর আটলান্টা, হিউস্টন ও অস্টিনেও পরিবেশনা করবেন তিনি। আসছে ২৭ সেপ্টেম্বর সান্তা মনিকার ‘ওশান’স ওয়ে ফেস্টিভ্যাল’-এ অংশ নেওয়ার পর অক্টোবরে অলিভিয়ার সংগীতযাত্রা পৌঁছাবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে।
৫ ও ৬ অক্টোবর মেলবোর্নের রড লাভার অ্যারেনা, ৯ ও ১০ অক্টোবর সিডনির কুডোস ব্যাংক অ্যারেনা এবং ১৩ অক্টোবর ব্রিসবেন এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারে পরিবেশনা রয়েছে তাঁর। ১৭ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের স্পার্ক অ্যারেনায় শো দিয়ে এই পর্বের যাত্রা শেষ করবেন তিনি। অলিভিয়ার এ আন্তর্জাতিক সফর তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন। যার ফলে অলিভিয়ার ভালোবাসার গল্প এখন ছড়িয়ে পড়ছে ব্রিটেন থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে।
- বিষয় :
- সংগীত
- সংগীতশিল্পী
- অলিভিয়া ডিন