ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সতেজ থাকতে

সতেজ থাকতে
×

শারমিন সেতু

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০১ জুন ২০২২ | ০০:২৬

খাদ্য আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। খাবারের ওপর নির্ভর করে আমাদের সুস্থতা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের বাইরে থাকতে হয়। আবার অনেকেই আছেন যাদের দিনের বেশিরভাগ সময়েই ঘরের ভেতরেই সময় কাটাতে হয়। ঘর বা বাইরে সর্বত্র কাজ করতে করতে একসময় ক্লান্তি ভর করে। এই ক্লান্তি দূর করে কীভাবে নিজেকে সতেজ রাখা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন নাঈমা রুবী, ডায়েটিশিয়ান, নিউরোজেন হেলথ কেয়ার লিমিটেড; ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, বিটিআরএফ।

১। সারাদিন কাজের ক্লান্তি থেকে শরীর সতেজ রাখতে দিনের শুরুতেই শর্করা, প্রোটিন এবং পরিমাণমতো ফ্যাট আছে এমন খাবার দিয়ে ভরপেট নাশতা করা প্রয়োজনীয়। নাশতায় আমরা সাধারণত রুটি, আলু ভাজি বা সুজি খেয়ে থাকি, যার সবটাই শর্করা। শুধু শর্করা আমাদের জন্য উপকারী নয়। তাই সঙ্গে যদি কিছু প্রোটিন রাখা যায় তাহলে তা আমাদের জন্য উপকারী। সে ক্ষেত্রে একটি ডিম আমাদের খুব ভালো প্রোটিনের জোগান দেয়। পাশাপাশি কারও যদি ডিমে অনীহা থাকে তবে যেসব শাকসবজিতে প্রোটিন আছে সেসব রাখা যেতে পারে নাশতায় যেমন- পালংশাক, ব্রকলি, মিষ্টি আলু ইত্যাদি।
তাছাড়াও শরীর সতেজ রাখতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পানীয় গ্রহণ করতেই হবে। এ ছাড়া লেবু, কিশমিশ, রসুন, অলিভ অয়েল, কলা, মাশরুম, মধু খাওয়া যেতে পারে। গ্রিন টি এবং ঘরে তৈরি বিভিন্ন পাতলা সুপও শরীরকে বেশ সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

২। আমাদের ছয় ঋতুর দেশ। এখানে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায় এবং ঋতুভেদে আমাদের শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাই বিভিন্ন ঋতুতে খাবার গ্রহণে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করলে তা আমাদের জন্য উপকারী হবে। যেমন- গ্রীষ্ফ্মকালে আমাদের অনেক ঘাম হয়, ফলে

আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ পানি বের হয়ে যায়। তাই এ সময়ে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। এ সময়ে ডাবের পানি খুব উপকারী।

অতিরিক্ত গরমে চর্বিযুক্ত মাছ, মাংস, চিংড়ি, কাঁকড়া, মসলাদার খাবার, জাঙ্ক ফুড, ভাজাপোড়া ইত্যাদি খাবার কম গ্রহণ করতে হবে। কারণ এগুলো দেহে তাপ সৃষ্টি করে।

৩। বর্তমানে কমবেশি সবারই এসিডিটির সমস্যা আছে। কলা, ঠান্ডা দুধ, জিরা, আদা পানি, লবঙ্গ, রসুন, ডাবের পানি এসিডিটি কমাতে সহায়তা করে। এসিডিটি কমাতে নিল্ফেম্নাক্ত উপায়গুলো অবলম্বন করলে তা উপকারী হতে পারে :
 > সকালে খালি পেটে এক গল্গাস পানি বা দুই কোয়া রসুন খাওয়া।
 > খাবার গ্রহণের ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করা।
 > খাওয়ার পরপরই অনেক বেশি পানি পান না করা। ভাত খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করা।
 > তৈলাক্ত এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা। মাংস, ডিম, বিরিয়ানি, মোগলাই,

> চায়নিজের মতো খাবারগুলো দুপুরবেলার মেন্যুতে অন্তর্ভুক্ত করুন। রাতের জন্য

> হালকা খাবার বেছে নিন। রাতের মেন্যুতে শাকসবজি, ছোট মাছ এসব রাখুন।
 > ব্যাবহূত তেল পুনরায় ব্যবহার না করা।
 > মুলা, রাজমা, ইচড় গ্রহণ না করা।
 > রাতের ঘুম নিশ্চিত করা, অর্থাৎ রাত না জাগা।

৪। ব্রণ থেকে বাঁচার উপায় : মেয়ে বা ছেলে উভয়ের জন্যই ব্রণ খুবই দুশ্চিন্তার একটি বিষয়। ব্রণের সঙ্গেও খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাভ্যাস অনেকাংশে জড়িত। ব্রণের কারণে অনেকেই হীনমন্যতায় ভোগে এবং অনেক সময় সতেজ ত্বককেও মলিন দেখায় ব্রণজাতীয় সমস্যার কারণে। তো কীভাবে ব্রণ থেকে রক্ষা করে নিজেকে সতেজ করে তুলতে পারেন সংক্ষেপে তা জেনে নিই।

> দুধজাতীয় খাবার, মসলাদার ও তৈলাক্ত খাবার ব্রণের কারণ হতে পারে। এমনকি কফি বেশি পান করলেও ব্রণ হতে পারে।
 > ব্রণের সমস্যা কমাতে ভিটামিন সি খুবই উপকারী। কারণ এটি ত্বকের ভেতর থেকে পরিস্কার করে ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতে সহায়তা করে।
 > আঁশযুক্ত যে কোনো খাবার ব্রণের প্রকোপ কমাতে উপকারী। এ ধরনের খাবার রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। ওটমিল, > গাজর, আপেল, বিনস ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ পাওয়া যায়।
 > ওমেগা থ্রি-সমৃদ্ধ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এমন খাবার ব্রণ হওয়ার প্রকোপ কমায়। এ ধরনের খাবার আইজিএফ ওয়ান নামে এক ধরনের প্রোটিন

> উৎপাদনের পরিমাণ কমায়। এই প্রোটিনের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে। স্যামন মাছ বা সামুদ্রিক মাছ ওমেগা থ্রিতে পরিপূর্ণ।
 ব্রণ কমাতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে এমন খাবার বেশি বেশি খাওয়া জরুরি। যে কোনো ধরনের বাদাম অ্যান্টি অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। এই পুষ্টিকর উপাদান কোষে ক্ষয়রোধ ও সংক্রমণ কমায়।
 ব্রণ কমাতে যে কোনো খাবারের সঙ্গে প্রোবায়োটিক খাওয়া উপকারী। টক দই হলো এক ধরনের প্রোবায়োটিক, যা সব ধরনের খাবারের সঙ্গেই খাওয়া যায়। টক দইতে আছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। সাধারণ দুগ্ধজাতীয় খাবারের বিভিন্ন উপাদান ব্রণ বাড়ায়। কিন্তু টক দই ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
 ভিটামিন এ ব্রণ কমাতে উপকারী খাদ্য উপাদান। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে, যা সহজেই ব্রণ কমাতে খাওয়া যায়। পাকা পেঁপে ভিটামিন কে, এ ও সি'তে পরিপূর্ণ। ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পাকা পেঁপে দারুণ। ব্রণ হওয়ার পরিমাণ কমানো, পোরস পরিস্কার রাখা ও ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পাকা পেঁপে বেশি বেশি খেতে হবে। া


 মডেল :স্নিগ্ধা ছবি :মঞ্জুরুল আলম

আরও পড়ুন

×