ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যা ভালো লাগে তাই করুন

যা ভালো লাগে তাই করুন
×

বেয়ার গ্রিলস

বেয়ার গ্রিলস

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৩ | ১৮:০০

বেয়ার গ্রিলস। ব্রিটিশ দুঃসাহসী অভিযাত্রী। টিভি সিরিজ ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’-এর জন্য বিখ্যাত। বিখ্যাত এই অভিযাত্রীর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণামূলক কথা তুলে এনেছেন রোমাঞ্চ তালুকদার।

কলেজের পড়াশোনা ভালো লাগত না আমার। বিশেষ করে, বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হতো বলে। সে বয়সে পর্বাতারোহণ ও মার্শাল আর্টের প্রতি ঝুঁকে পড়ি। মনে পড়ে, কারাতে খেলার দিনগুলোর শুরুতে এমন একদল বন্ধু পাশে পেয়েছিলাম, যারা প্রত্যেকেই শক্তি ও সামর্থ্যে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু দিন দিন তারা সবাই সরে গেলেও আমি রয়ে গেলাম এ পথে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ের ভেতর পাহাড়ে চড়ার লড়াইটা বেশ ভালো লাগত।

আমিও ভয় পাই
অনেকেই বলে যে, আমি কিছুই ভয় পাই না। আসলে এমন না কিন্তু। যদিও স্রষ্টার প্রতি যে বিশ্বাস তা আমার ভেতরে জাগতিক ভয়-ডরকে কমিয়ে দিয়েছে। মিলিটারি প্রশিক্ষণের সময় যখন আমি স্কাই-ড্রাইভিংয়ের দুর্ঘটনায় পড়ি তখন চিকিৎসক ধরে নিয়েছিলেন, আমি সারা জীবনের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাব। তারপর থেকে এখনও প্যারাস্যুট দেখলেই আমার ভয় লাগে! কিন্তু এই মহাজগতে আমি একাই লড়ছি না– এই বোধটি আমাকে সাহস জোগায়। নিজের ওপর রাখা আস্থায়ই আমাকে ঘরের বাইরে, উন্মুক্ত পরিবেশে টেনে নিয়ে যায়। ফলে, পাহাড়-পর্বত কিংবা জঙ্গল– যেখানেই যাই, কোনো না কোনো অলৌকিকতার মুখোমুখি হয়ে পড়ি। যেহেতু মনে করি, প্রতিটি অভিযাত্রা শেষেই রয়েছে বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা, ফলে মৃত্যুভয় কমে আসে।

বাবার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা
কিশোর বয়সে নিজেকেই নিজে বলেছি, এমনভাবে এগিয়ে চলো, যেন তোমার বাবা স্বয়ং রয়েছেন তোমার পাশে। বলে রাখি, আমার বয়স বিশে পৌঁছানোর আগেই বাবা মারা গিয়েছেন। অসাধারণ এক বাবা ছিলেন তিনি। ভীষণ মিশুক ও ফুর্তিবাজ। তিনিই আমাকে অভিযানে বেরিয়ে পড়ার ব্যাপারে নিরন্তর প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। বাবা বলতেন, আমি যেন নিজের বন্ধুদের দিকে তাকাই আর মনের সাড়ায় এগিয়ে চলি। তাঁর কাছ থেকেই প্রেরণা পেয়েছি, কখনও কোনোকিছু দেখে ভড়কে না যাওয়ার।

যা ভালো লাগে তা করে যাও
স্কুলের পাঠ শেষে আর্মিতে যখন যোগ দিই, তখন আমার অন্য বন্ধুরা সবাই অফিসার হিসেবে যোগ দিলেও আমি বরং দিয়েছিলাম একজন প্রাইভেট হিসেবে। কেননা নিজের মতো করে একটা পথ খুঁজে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল আমার। নিজের কিশোর বয়সে যখন ফিরে তাকাই, দেখি এক লাজুক বিয়ার গ্রিলসকে, যে কি-না আত্মপরিচয় খুঁজে পেতে মরিয়া। ট্রেন্ডি পোশাক পরতে আর চুলে স্পাইক করতে ভালো লাগত তখন। যদি পারতাম, সেই কিশোরটাকে বলতাম, শোনো, এত পরিপাটি থাকার কোনো মানে নেই। তোমাকে মানায় না এসব। কোনো কিছু ভালো না লাগলে মন খারাপ করার কিছু নেই; বরং যা করতে ভালো লাগে করে যাও, আর মুখে রাখো হাসি।

অভিযাত্রীর জীবন...
তরুণ বয়সে টিভি-পার্সোনালিটি হয়ে ওঠার ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহই ছিল না। টিভি কোনোদিনই আমার রাডারে ধরা পড়েনি। খ্যাতি কোনোদিনই আমার লক্ষ্যবস্তু  হয়ে উঠতে পারেনি। কেউ যদি বলে, তুমি তো টিভিরই লোক; আমি বলব, ‘ওহ, তাই নাকি? খুব হাস্যকর না ব্যাপারটা?’ লোকজন হয়তো আমাকে টিভির কল্যাণেই চেনে; কিন্তু এতটা বুনো উন্মাদনার ভেতর দিয়ে যায় একেকজন অভিযাত্রীর জীবন, যা কোনো টেলিভিশনের ক্যামেরার পক্ষে ধারণ করা সম্ভব নয়। কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তার ভেতর দিয়ে যেতে হয় একেকজন অভিযাত্রীকে।

নিজের একটি পারিবারিক ছবি সব সময়ই জুতার মধ্যে করে বয়ে চলি আমি। সব সময় সঙ্গে রাখি স্যাটেলাইট ফোন। প্রতি রাতে, ছবিতে দেখা সন্তানদের ‘শুভরাত্রি’ বলে ঘুমোতে যাই। সময় পেলে বই পড়তে ভালোবাসি। জীবনী গ্রন্থগুলো আমাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। তার মধ্যমণি হয়ে আছেন মাদার তেরেসা!

আরও পড়ুন

×