ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সেতু অভিযান

সেতু অভিযান
×
×

ছবি এঁকেছেন সাফায়েত সাগর

গল্প লিখেছেন ফারহানা মান্নান

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১০ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চকচকে বাদামি, চ্যাপ্টা শরীর আর মাথায় লম্বা দুটো শুঁড়– এই হলো তেলু তেলাপোকা। আমগাছের গোড়ায় পচা কাঠের ছোট্ট এক ফাঁকে তার আস্তানা।
তেলুর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সে সারাক্ষণ সমস্যা খুঁজে বেড়ায়। আর সমস্যা পেলেই বলে–
হুমম… সমস্যা যখন আছে, বুদ্ধির একটা রাস্তা নিশ্চয়ই আছে!
আজও তেলু ম্যাগনিফাইং গ্লাস হাতে বেরিয়েছে। সঙ্গে তার খুদে তেলাপোকার দল– দস্যিবাহিনী!
– লেফট, রাইট, লেফট!
– লেফট, রাইট, লেফট!
হঠাৎ তেলু থমকে দাঁড়ালো। শুঁড় দুটো নড়ছে। একবার ডানে, একবার বাঁয়ে।
– হুমম… কিছু একটা ঠিক লাগছে না!
ঠিক তখনই দস্যিবাহিনীর একজন চেঁচিয়ে উঠলো– ওই যে! ওইদিকে দেখো!
কাল রাতের বৃষ্টিতে আমগাছের গোড়ায় পানি জমেছে। তার মাঝখানে পচা কাঠের টুকরোয় আটকে আছে পাঁচটি খুদে তেলাপোকা!
– তেলু ভাই! আমাদের বাঁচাও!
দস্যিবাহিনী ছুটতে গেলো।
– স্টপ! আগে ভাবতে হবে!
তেলু ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে চারপাশ পরীক্ষা করলো। তারপর বললো– আমাদের একটা সেতু বানাতে হবে!
- কী দিয়ে?
- পাতা আর শলাকা দিয়ে!
দস্যিবাহিনীকে দুই দলে ভাগ করলো তেলু।
একদিকে হলুদডোরা তেলাপোকার দল–ডোরা দল। অন্যদিকে লম্বালেজি তেলাপোকার দল– লেজি দল।
ডোরা দলকে পাতা আর লেজি দলকে 
শলাকা আনতে পাঠালো।
কিছুক্ষণ পর– ইউরেকা! ইউরেকা! পেয়েছি!
ডোরা দল নিয়ে এসেছে দুটো পাতা। একটা কচি, অন্যটা শুকনো।
– দুটো কেন?
– কোনটা ভালো হবে বুঝতে পারিনি। তাই দুটোই এনেছি!
তেলু খুশি হয়ে বললো– বাহ্! তাহলে পরীক্ষা করা যাবে!
লেজি দলও হাজির। তাদের কাছে কচি আর শুকনো দুই ধরনের শলাকা।
তেলু বললো– দেখি, কোন জুটিতে সবচেয়ে মজবুত সেতু হয়!
প্রথমে কচি পাতা আর কচি শলাকা।
একজন পা রাখতেই দুল! দুল! দুল!
– ওরে! সেতু বেঁকে যাচ্ছে!
দ্বিতীয়বার শুকনো পাতা আর শুকনো শলাকা।
মচ! মচ! মড়াৎ!
পাতা ফেটে গেলো!
তৃতীয়বার শুকনো পাতা আর কচি শলাকা।
এবারও একই বিপত্তি!
তেলু মাথা চুলকালো।
– হুমম… শক্ত হলেই ভালো নয়, আবার বেশি নরম হলেও চলে না!
চতুর্থবার শুকনো শক্ত শলাকার ওপর কচি পাতা বিছানো হলো।
একজন সাবধানে পা রাখলো।
এক পা… দুই পা…।
সেতু একটু নড়লো। কিন্তু ভাঙলো না!
– ইয়াহু!
তেলু শুঁড় নেড়ে বললো– এতো তাড়াতাড়ি ইয়াহু নয়! সবাই পার হতে পারে কিনা, দেখতে হবে!
এবার আটকে পড়া তেলাপোকাদের নামতে বলা হলো। প্রথমজন পার হলো। এরপর দ্বিতীয়জন… তৃতীয়জনও!
কিন্তু চতুর্থজন উঠতেই– ক্যাঁচ!
সেতুটা একটু দেবে গেলো!
– হল্ট! সবাই দাঁড়াও!
তেলু পরীক্ষা করে বললো– আরও শলাকা লাগবে! চটপট!
দস্যিবাহিনী ছুটলো।
শাঁই শাঁই করে! 
আরও শলাকা জুড়ে সেতু মজবুত করা হলো।
এবার বাকি দুজনও নিরাপদে পার হয়ে এলো!
– হুররে! হুররে!
তারস্বরে সবাই চেঁচাতে লাগলো।
– পার্টি! পার্টি! পার্টি!
সবাই আনন্দে শুঁড় নাচাতে লাগলো। তেলুও খুশি। বড় দলবল নিয়ে রেসকিউ মিশন শেষ করে তেলু বাড়ির পথে পা বাড়ালো। 
যেতে যেতে কী ভেবে হঠাৎ সে থমকে দাঁড়ালো। আবারও শুঁড় নেড়ে সকলের দিকে স্থির চোখে তাকালো।
– হুমম, আবার একটা সমস্যা পেলাম!
– কী সমস্যা? কী সমস্যা? সবাই একসঙ্গে জানতে চাইলো।
তেলু গম্ভীর মুখে বললো– ভাবছি, পার্টি দিলে মন্দ হয় না! কিন্তু…!
কিন্তু কী ওস্তাদ? একটা খুদে তেলাপোকা জিজ্ঞাসা করলো।
তেলু বললো– এতো বড় পার্টি হবে কোথায়? আর খাবারই বা কী হবে?
দস্যিবাহিনী হো হো করে হেসে উঠলো!
তেলু শুঁড় নাচিয়ে বললো– সমস্যা যখন আছে…!
সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলো– বুদ্ধির একটা রাস্তা ঠিক বের হয়ে যাবে!
তারপর দলবল নিয়ে আবার শুরু হলো–
লেফট, রাইট, লেফট!
লেফট, রাইট, লেফট! 

আরও পড়ুন

×