ট্যাং ট্যাং টেংরা
ছবি এঁকেছে সাফায়েত সাগর
গল্প লিখেছে হাসনাত মোবারক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
আধা চাচি আম্মার আবার কি হলো! দাদা বলেছেন, চাচি আম্মা নাকি অসুস্থ! আমি তো জানতাম না–
কি অসুখ চাচি আম্মার! কী হয়েছে চাচ্চু?
–জ্বর, ঠান্ডা।
–না না। খুব খারাপ। চাচি আম্মা কি প্রতিদিন গোসলের সময় আমার মতো পানি ঘাঁটায়? বেশি পানি ঘাঁটলেই কিন্তু আমার জ্বর হয়।
–ওহ, আচ্ছা।
–হ্যাঁ। চাচি আম্মারও কি তাই?
– হু-উম।
–না না। খুউব খারাপ। এটা তো ঠিক না। চাচি আম্মা তাহলে তো আমার মতো দুষ্টু। বলে এক পশলা হাসলো সে। আবারও শুরু করলো, ‘বলছি কিন্তু। চাচি আম্মাকে এটা করতে বাধা দেবেন। আপনি কি বাসায়?’
–না। আমি অফিসে।
–তাহলে চাচি আম্মাকে কে দেখছে এখন?
চাচ্চু চুপ রয়েছে দেখে বুড়িটা এবার বললো,
চাচ্চু। আমি কী এখন কোনো ছবি আঁকবো?
–আঁকো। চাচ্চু বললো।
–হ্যাঁ। হ্যাঁ। আঁকবো। কিন্তু চাচ্চু আমাকে তো আগে ছবির গল্প ভাবতে হবে। কী গল্প, কী গল্প যে ভাবি এখন। চাচ্চু আপনি কিন্তু ভাববেন না। নিশ্চয়ই আঁকবো। মাথায় একটা কিছু এলেই ছবি এঁকে ফেলবো। বাই বাই, চাচ্চু। বলে ফোন রাখলো বুড়িটা।
এই হলো জায়রা ত্রিনিতা। বয়স পাঁচ। পড়ে নার্সারি শ্রেণিতে। পত্রিকায় ছবি আঁকে। সেই ছবি আঁকার আগে সে একটা গল্প বানায়। তারপর আঁকা শুরু করে। তার জেঠু ধ্রুব এষ। জেঠু কিছুদিন আগে একটা গল্প লিখলেন। এ গল্পের ছবি আঁকতে হবে জায়রাকে। তার চাচ্চু পড়লো মহাবিপদে। জায়রাকে ছবি আঁকতে বলা হলো। বুড়িটা শুনে বললো, ‘নিশ্চয় এঁকে দিবো। নিশ্চয়ই দিবো। যেহেতু জেঠু বলেছেন। জেঠুর কথা কি কেউ না করতে পারে; বলেন?
তার চাচ্চুও বললো, না, না না। তুমি ঠিক বলেছো।
জেঠুর লেখা গল্প জায়রার মা তাকে পড়ে শোনালেন। গল্প শুনে জায়রা একটা ছবি এঁকে ফেললো। ধ্রুব জেঠুর গল্পে জায়রা বুড়ির আঁকা ছবি। তা ছাপা হলো পত্রিকায়। এরকম আঁকাআঁকি আর গল্প বানানো জায়রা ত্রিনিতার কাজ।
সেদিন সন্ধ্যা। চাচ্চু ওদের বাসায় গেছে। তার প্রথম আঁকা ছবি যে পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। শুরুতে সেটি অনেক খোঁজখুঁজি করে বের করলো। খুঁজতে একটু সময় লাগলো। চাচ্চু যেন বিরক্ত না হয়। ‘একটু অপেক্ষা করুন। দারুণ একটা কিছু আছে কিন্তু।’ বলে মাথা দুলিয়ে দিল এক দৌড়। খুঁজতে লাগলো। অভিযান শেষ হলো। তার ছবি ছাপা হওয়া পত্রিকাটি চাচ্চুর হাতে তুলে দিল। চাচ্চু দেখে জানালো, সে তার এই আঁকা অনেক আগে দেখেছে। জায়রা শুনে অবাক। ‘কে দেখালো? আমার নিজেরই তো মনে ছিল না এই ছবিটার কথা। দাদা মনে না করলে আমি তো ভুলেই যেতাম।’
চাচ্চু বললো, কোথায় আবার! তোমার জেঠুর বাসায় দেখেছি। শুনে জায়রা গালে হাত দিল। বললো, ‘ওমা তাই! জেঠুকে আমার সালাম দেবেন। আর বলবেন আমরা জেঠুকে দেখতে যাবো কিন্তু। দাদার পরীক্ষা শেষ হোক। মা আপনার কথা বলেছে, চাচ্চুর সঙ্গে তোমরা জেঠুর বাসায় যাবা।’
–যাবা এখন। চলো। চাচ্চু বললো।
–না। না। চাচ্চু এখন তো যাওয়া যাবে না।
–কেন?
–আমরা যেতে যেতে তো জেঠু ঘুমিয়ে পড়বে।
–তোমার জেঠু অনেক দেরিতে ঘুমায়। চাচ্চু উত্তর দিল।
–কেন? এটা খু-উব খারাপ! জেঠু যদি না ঘুমায় তাহলে তার সকাল হবে কেমনে!
–তোমার জেঠুর সঙ্গে দেখা হলে বলবো, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে। চাচ্চু বললো।
কিছু সময় পর জায়রার মা এলেন অফিস থেকে। অনেক গল্প বললো জায়রা।
মা জায়রাকে বললেন, জায়রা মণি সারাদিন কী করে যে সময় কাটায়! জায়রা এসো তো কাছে।
জায়রার ঝটপট জবাব, আমি কী করি, তা তুমি দেখবে কী করে! তুমি তো সারাদিন অফিসেই থাকো।
আরও একদিনের ঘটনা। জায়রা আর ওর দাদা গেলো চাচ্চুর বাসায়। দেখে চাচ্চু মাছ কাটতে বসেছে। মাছগুলোর গায়ে কে যেন হালকা কাঁচা-সোনার রং বসিয়ে দিয়েছে। মাছগুলো দেখে জায়রা পুলকিত হলো। দৌড়ে চাচ্চুর কাছে গিয়ে বসলো। তারপর সে একটি মাছের গায়ে তার নরম হাত বোলাতে লাগলো। এরপর মাছটির মুখের কাছে সুতোর মতো অংশটি উঁচু করে ধরে নাম জানতে চাইলো।
চাচ্চু জবাব দিল, টেংরা।
–ওহ! মাছগুলো কি পানিতে খালি ট্যাং ট্যাং করে ঘুরে বেড়ায়? এজন্য একে টেংরা মাছ বলে!’ কথাগুলো বলে হি হি করে হাসতে লাগলো জায়রা ত্রিনিতা। v
- বিষয় :
- গল্প