ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ভারতে বিধানসভা নির্বাচন

তামিলনাড়ুতে থালাপতি-ঝড়, নেপথ্যে পাঁচ কারণ

তামিলনাড়ুতে থালাপতি-ঝড়, নেপথ্যে পাঁচ কারণ
×

থালাপতি বিজয়

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০২:২০

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের তুমুল জনপ্রিয় নেতা বিনোদন জগতের সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) বিপুল ব্যবধানে বিজয়ের পথে। রাজনীতির ময়দানে প্রথমবার নির্বাচনে লড়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হতে চলেছেন তামিলনাড়ুর আগামী মুখ্যমন্ত্রী।

লোকসভা ভোটের আগেই নিজের রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভারতের রাজনীতিতে বড় চমক দিয়েছিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়। গতকাল সোমবার রাত ৮টায় সর্বশেষ খবরে আনন্দবাজার জানায়, তামিলনাড়ুতে ১৫৫টি আসনে টিভিকে, কেরালায় ৮৯ আসনে ইউডিএফ, আসামে ৯৮ আসনে বিজেপি এবং পুদুচেরিতে এনডিএ জোট এগিয়ে রয়েছে ১৫ আসনে।

থালাপতি রাজনীতিতে এসেই বাজিমাত করেছেন। তামিলনাড়ুতে অল্পদিনেই তাঁর টিভিকে একক বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৮টায় খবর লেখার সময় রাজ্যের ২৩৪টি আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮ আসন পেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। থালাপতির ভক্তরা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে ভেঙে দিয়েছেন। থালাপতির বিজয়ের নেপথ্যে টাইমস অব ইন্ডিয়া পাঁচটি কারণের কথা উল্লেখ করেছে। কারণগুলো হলো– তারকা শক্তি, ডিএমকে রাজনৈতিক শত্রু, বিজেপি আদর্শগত প্রতিপক্ষ, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রচার, ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণের অনীহা এবং ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। 
তামিলনাড়ুতে সিনেমা ও রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক। চলচ্চিত্র তারকারা প্রায়ই পূজনীয় এবং সিনেমা কেবল বিনোদনই দেয় না; জনজীবনকেও প্রভাবিত করে। টিভিকের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পেছনে বিজয়ের সিনেমাগুলোই মূল কারণ হতে পারে।

নির্বাচনের আগে থালাপতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা দেন, টিভিকে-কে কেউ কোনো নির্দিষ্ট রঙে রাঙাতে বা তাদের ‘বি টিম’ বানাতে পারবে না। প্রচারণার সময় থালাপতি ‘ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়বিচার’-এর প্রতি জোর দেন। 

কয়েক দশক ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে ও এআইএডিএমকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে ভোটাররা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
টিভিকের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো জনগণের নজর কেড়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে– প্রতিটি বিয়ের কনের জন্য আট গ্রাম সোনা, নারী গৃহকর্ত্রীদের জন্য মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা এবং সৎ প্রশাসন তৈরির অঙ্গীকার।

কেরালায় পালাবদলের ইঙ্গিত
বিধানসভা নির্বাচনে কেরালায় বাম দুর্গে বড়সড় ধসের ইঙ্গিত মিলেছে। গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় প্রাথমিক ফলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফকে পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, কেরালার মোট ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ ২৩টি আসনে জয় ধরে রাখায় ইউডিএফ জোট ইতোমধ্যে সরকার গড়ার জন্য ৭৬ আসনের গণ্ডি পার করে ফেলে। ফলে দীর্ঘ এক দশক পর কেরালায় ফের কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। 
 
আসামে এগিয়ে বিজেপি জোট
আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ৭০টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দ্য হিন্দু বলছে, ১২৬টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা সোমবার সকাল ৮টায় শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি দাবি করেছে, এনডিএ প্রায় ১০০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গৌরব গগৈর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস আশাবাদী হলেও ভোটের ফলে তার প্রভাব নেই। 

পুদুচেরি বিজেপিরই
প্রত্যাশামাফিক জয়ে পুদুচেরিতে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আঞ্চলিক দল এনআর কংগ্রেসকে হাত করে সেখানে সরকার গঠনের পথে এনডিএ। পুদুচেরির ৩০ আসনের মধ্যে এনডিএ জোট জয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এনআরসি জোট ১৭ আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস আটটি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষমতা ফের থাকছে গেরুয়া বাহিনীর হাতে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপতি রাজু শ্রীনিবাস বর্মা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, বিধানসভা নির্বাচনের পর পুদুচেরিতে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রেখেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

আরও পড়ুন

×