ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাক্রম

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাক্রম
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৩:৩৮ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৩:৪০

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর গণহত্যার অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে লড়তে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি নেদারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সু চির উপস্থিতিতে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মঙ্গলবার শুরু হয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার শুনানি।

২০১৭ সালের আগস্টে একটি সামরিক অভিযানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী জাতিগতভাবে নির্মূল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের বিতাড়িত করে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাক্রম

আগস্ট ২০১৭

রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট রাতে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ চেকপোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য মারা যান বলে মিয়ানমার সরকার দাবি করে। এরপরই রাজ্যটিতে শুরু হয় সেনা অভিযান। নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। 

সেপ্টেম্বর ২০১৭

সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান নেয়। প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে। 

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা অভিযোগ করে, তাদের স্বজনদের অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ, লুটের মতো ঘটনাও ঘটেছে। 

রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি তা অস্বীকার করে জানান, রাখাইনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। 

অক্টোবর ২০১৭

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলকে জানান, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়।

নভেম্বর ২০১৭

রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পরে অং সান সু চি প্রথম রাজ্যটি সফর করেন।

ডিসেম্বর ২০১৭

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তদন্তের আহ্বান জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেট।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওকেকে (২৮) গ্রেপ্তার করে দেশটির সরকার। 

জানুয়ারি ২০১৮

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর তাদের হত্যার কথা স্বীকার করে। রাখাইনের রাজধানী সিতভি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ঊপকূলীয় ইন দীন গ্রামে হত্যার পর তাদের গণকবর দেওয়া হয় বলেও তারা জানায়।

মার্চ ২০১৮

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে সেখানে সেনাবাহিনী তাদের ঘাঁটি বানিয়েছে। 

এপ্রিল ২০১৮

ইন দীনে হত্যার দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাত সদস্যকে কারাদন্ড দেওয়া হয়। ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ওকে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জুলাই ২০১৮

রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করতে মিয়ানমার একটি কমিশন গঠন করে।

আগস্ট ২০১৮

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মিয়ানমারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের আচরণের জন্য গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও গণধর্ষণ করেছে।

অক্টোবর ২০১৮

মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চলছে বলে জানান মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান। 

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দা ও চাপ সত্ত্বেও নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর ওপর দমনপীড়ন বিন্দুমাত্র বন্ধ হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন এখনও চলছে। 

মার্চ ২০১৯

মিয়ানমার সেনাবাহিনী জানায়, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তের জন্য তারা একটি সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। 

সেপ্টেম্বর ২০১৯

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রাক্ট ফাইন্ডিং মিশন জানায়, রোহিঙ্গারা এখনও গণহত্যার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। মিয়ানমার এখনও তাদের দমনপীড়ন থেকে একচুলও নড়েনি। 

মে ২০১৯

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ওকে মুক্তি পান। সেইসঙ্গে ইন দীনে হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত সেনাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্তি দেওয়া হয়। 

নভেম্বর ২০১৯ 

রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে 'গণহত্যা' আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

গাম্বিয়ার অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের আবাসন ধ্বংস করেছে মিয়ানমার। সূত্র আল জাজিরা।

আরও পড়ুন

×