পদাবলি
অলংকরণ :: আনিসুজ্জামান সোহেল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৫
পরিহাস
মাসুদ খান
একটা বয়সে এসে মানুষেরা ভাবে—
সবকিছু যদি শুরু করা যেত আবার প্রথম থেকে!
আকাশে মুচকি হাসে মেঘ—
ডিমভরা কইয়ের মতন শান্ত বিজলিভরা মেঘ।
ঘুম থেকে জেগে উঠে তড়িঘড়ি লতিয়ে উঠতে থাকে বিলম্বিত লতাগুলি
দমকা বাতাসের সঙ্গে বিতর্কমুখর হয়ে ওঠে
তুখোড় তার্কিক কলাপাতা।
অথচ জগতে সবই পুনরুক্তিময়,
পুনরুৎপাদনশীল, চক্রাকার। তারপরও এই ভ্রান্তিপাশ,
এ জ্যান্ত জ্বলন্ত পরিহাস!
জবাবদিহিতা দাঁড়িয়ে আছে
আরিফ মঈনুদ্দীন
সুগন্ধি বারতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কে
সারা দিনমান, রাত্রিশেষে নতুন সূর্যের
বিনয়ী বিনম্র পদছাপ স্মরণ করিয়ে দেয়
আবারও রাত্রি আসবে
সগৌরব মহিমায় দিন শেষ করার প্রত্যয়ে
পূর্বাহ্ণেই বলেছিলো,
আমার যাওয়া এবং আসা—এই যে মহান খেলা
তুমিও তার বাইরে নয়
তোমার সকাল আছে—বিকাল সন্ধ্যা রাত্তির আছে
জীবনের প্রারম্ভ যেমন আছে সমাপ্তিও আছে
মাঝখানে কী কী করেছো তার তামামি শেষে
হিসাব দেওয়ার পালা
জবাবদিহিতা দাঁড়িয়ে আছে বিচারদণ্ড নিয়ে
পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই
হয়তো নিকৃষ্ট শাস্তির আগুন—
নয়তো পুরস্কারের ডালি
করুণার দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষরা
এক পা দুপা করে এগোচ্ছে বনমালি।
স্পর্শের অসমাপ্ত
সাহিদ রেজা
আহা!
তোমার হাতটা দাও—ভয় পেয়ো না,
আঙুলের ফাঁকে একটু জায়গা রেখো
আমার নিঃশব্দ কথাদের জন্য।
পাচ্ছো আমাকে?
নাকি এখনও-দূরত্বের কুয়াশায় দাঁড়িয়ে আছো?
আর একটু এগিয়ে এসো—
একটু খানি, খানিকটা নরম,
কিঞ্চিৎ তপ্ত-একটা অনুভূতির কাছে।
শোনো, ওই যে বুকের ভেতর
নীরবে কেঁপে ওঠে কিছু—ওটাই তো বুক,
ওই জমিতেই বাস করে প্রেম।
সেখানে কোনো কাঁটাতার নেই,
নেই কোনো সীমানা-শুধু তোমার জন্য
এক টুকরো উর্বর মাটি
বছরের পর বছর অপেক্ষায়।
তুমি একবার হাত রাখলেই
মাটি হয়ে যায় বসন্ত,
নিঃশ্বাসে জন্ম নেয় ফুল,
আর আমার সমস্ত একাকিত্ব
তোমার নামে-
একটি কবিতা হয়ে যায়।
বিস্মরণ
শারদুল সজল
আমার কিছুই মনে থাকে না, কিছুই না
নাম, বংশ পরিচয় কিম্বা
আমি কোথায় আছি, কি করছি
কবে বাড়ি থেকে বের হয়েছি
কিম্বা আমার জন্মতারিখ, আত্মীয়ের মুখ
মা বাবা, প্রিয়তমা, স্পর্শ—
বাড়ি ফেরার রাস্তা, নদীর গন্ধ
কিছুই মনে থাকে না
যেমন মনে থাকছে না—
কবে কবর খুঁড়ে আমাকে তুলে এনেছি
- বিষয় :
- কবিতা