হারিয়ে যাওয়া পান্ডুলিপি
যে লেখা হারিয়ে গেছে
প্রচ্ছদ :: আনিসুজ্জামান সোহেল
আনোয়ারা সৈয়দ হক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
এই নশ্বর জীবনে কোনো একজন প্রকৃত লেখকের কোনো পান্ডুলিপি হারায়নি, এ হতেই পারে না!
কারণ লেখক বাইরে থেকে দেখতে যতই স্মার্ট হোন না কেন ভেতরে ভেতরে তিনি আলুঝালু। এই আলুঝালু তাঁর অন্তর্গত স্বভাব। কারণ তাঁর মাথায় একটি মাত্র লেখা নয়, শত শত লেখা কিলবিল করে এবং তিনি তাদের সর্বক্ষণই ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। এটা তাঁকে রাখতেই হয়; তাছাড়া বেঁচে থাকবার উপায় নেই! তা না হলে এক লেখার মধ্যে অন্য লেখা এসে উঁকিঝুঁকি মারবে। সেটা কোনো লেখকই হতে দিতে চান না, বরং অলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো নিজের করোটির ভেতরে সাজিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন।
তাছাড়া আমাদের দেশের একজন লেখক শুধু অবিমিশ্র লেখক হয়ে বেঁচে থাকতে পারেন না। লেখকের লেখা ছাড়া আরও অনেক কাজ আছে, তাঁর অফিস আছে। কারণ তাঁকে খেটে খেতে হয়, তার সংসার আছে, তাঁকে সংসারও চালাতে হয়। গায়ে ফুঁ দিয়ে আমাদের দেশের লেখকেরা পথ চলতে পারেন না। আবার লেখার ব্যাপারেও তাঁর কোনো ছাড় নেই। কারণ লেখা তাঁর ভালো হতেই হবে। পাঠকের মনোগ্রাহী হতেই হবে। নতুবা তাঁর লেখার প্রতি পাঠকের বিন্দুমাত্র কোনো দায় নেই; নেই কোনো দয়া বা করুণা। কারণ লেখা অমার্জিত হলে সেই লেখা ডাস্টবিনের দিকে নিজেই হেঁটে হেঁটে রওনা হয়! এটা মোটামুটি সব লেখকই জানেন এবং তাই মনে মনে উদ্বিগ্নও থাকেন।
তবে এখন কম্পিউটারের যুগ, লেখা আগের চেয়ে অনেক বেশি সংরক্ষিত থাকে সন্দেহ নেই। এখন লিখে আমরা আকাশের দিকে পাঠিয়ে দিই, সেখানে তারা সুরক্ষিত থাকে। তবু তারপরও নিজেদের অসাবধানতার জন্য অনেক লেখা হারায়।
আমি পুরাতন দিনের লেখক। জীবনের শুরু থেকেই হাতে লিখে আমার লেখার হাতেখড়ি। দিস্তা দিস্তা লেখা কাগজ আমার বাড়িতে এককালে টিনের ট্রাংক অধিকার করে রাখত। এখন তাদের অধিকাংশই গায়েব হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে হাতে লেখা গল্প, উপন্যাস একবার ছেপে বের হয়ে গেলে কে এদের খবর রাখে। কিন্তু তবু খবর রাখতে হয়। কারণ এদের মধ্যেই আবার গোঁজা থাকে ভবিষ্যতের নতুন লেখার মালমসলা। কখনও খসড়া হিসেবে। কখনও পনেরো-বিশ পৃষ্ঠা নতুন লেখার ভূমিকা হিসেবে। পুরোনো লেখা যখন বাতিলের খাতায় ঢোকে, তখন অনেক নতুন লেখাও ওদের সঙ্গে অনেক সময় ঢুকে যায়।
পরে আর সেসব নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনার হদিস খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ লেখকের মাথার চিন্তারাও খুব শিফটিং। এই আসে, এই হারিয়ে যায়, যদি না তৎক্ষণাৎ তাদের ধরে রাখা যায়, বিশেষ করে কবিতার ব্যাপারে এটা একশো ভাগ সত্যি।
দেশ-বিদেশ করবার জন্য আমার বহু পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে। অনেক গল্প, একটি বা দুটি উপন্যাস, অনেক রচনা, কিছু কবিতাও হারিয়েছে। হারিয়েছে অনেক অসমাপ্ত লেখা, আবার বহু লেখার খসড়াও। তবে আমার এক আত্মীয় বলতেন, অতো লিখে কী হবে বাবু? সব লেখাই তো একদিন হারিয়ে যাবে! অতো না লিখে জীবন উপভোগ করো।
কথাটা সত্যি, কিন্তু তাঁকে আমি বোঝাতে পারিনি যে লেখাই হচ্ছে আমার জীবন উপভোগ করা! হাস্যকর একটা কথা। ঘরের কোণে বসে টেবিলে মাথা ঝুঁকিয়ে দিনের পর দিন অক্ষর লিপিবদ্ধ করে ধরে রাখার অর্থ কী হয়? কে পড়বে এসব? কে পড়ে মনে রাখবে। আর কেনই বা মনে রাখবে?
এর কোনো উত্তর নেই। যদি উত্তর পাওয়া যেত, তাহলে নব্বই ভাগ লেখক লেখালিখি বন্ধ করে দিতেন।
সত্যি বলতে, একজন বিশ্বখ্যাত লেখকের যে জীবন, একজন অখ্যাত দেশের অখ্যাত লেখকেরও সেই একই জীবন!
তাই এসব কথা শুনে মন খারাপ হলেও তার জন্যে দমে যাইনি। ছিটেফোঁটা যতটুকু তখনও মাথায় ছিল সেটুকু নিয়েই আবার নতুন করে লিখতে বসে গেছি।
আমার বাড়ির যিনি সার্বক্ষণিক লেখক ছিলেন, সেই সৈয়দ শামসুল হকেরও পাণ্ডুলিপি হারিয়েছে, অথচ আমরা জানি তিনি কতই না সচেতন ছিলেন লেখার ব্যাপারে।
তবে আমার জীবনও ছিল একজন লেখকের সঙ্গে বসবাস। আর সে জন্য আমার জীবনটা কোনোদিন মসৃণ ছিল না। সংসারের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গেই ছিল লেখার তাগিদ। ছিল তাই হুটোহুটির জীবন, দৌড়োদৌড়ির জীবন, উচ্চশিক্ষার তাগিদ, দেশ-বিদেশে ছোটাছুটি, বিদেশের চাকরি ছেড়ে দেশের চাকরি, আবার দেশের চাকরি ছেড়ে বিদেশের চাকরি। সে ছিল এক হুলুস্থুল জীবন।
ভুলে গেলে চলবে না, আমরা ছিলাম সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে আসা উচ্চাভিলাষী মধ্যবিত্ত।
ছিল লেখক হওয়ার বাসনা। ছিল সামাজিক হওয়ার বাসনা। ছিল স্বচ্ছন্দভাবে জীবন যাপনের বাসনা। আর ছিল সারাটা জীবন লিখে যাওয়ার বাসনা। আর সেই লেখায় তুলে নেওয়ার বাসনা মানুষের জীবনের গভীর সত্যগুলো।
জীবনের কাছে খুব কি বেশি চাওয়া হলো?
তার ওপর আমার জীবনসঙ্গী সৈয়দ হকও কোনোদিন সুস্থ শারীরিক জীবনের দেখা পাননি। সর্বদাই তাঁর কোনো না কোনো অসুস্থতা ছিল। অসুস্থতা ছিল আমার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগে থেকেই। ছিল তাঁর দুই ফুসফুস ভর্তি টিউবারকুলোসিস। সেই যুগে টিবি হয়ে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হতো। কিন্তু তিনি তখন মরেননি। কারণ ভাগ্য বিধাতা তাঁকে পরে আরও অনেক বড় অসুখ দেবেন বলে মনে মনে স্থির করেছিলেন। আর তাই ঠিক আশি বছর পর্যন্ত তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
তাঁর ছিল হৃৎপিণ্ডের অসুখ, ছিল ক্রনিক দাঁত ব্যথা, ছিল ফুসফুসের ক্যান্সার।
সেই যুগে তাঁর ওপেন হার্ট বাইপাস অপারেশন হয় যখন, অপারেশন টেবিলেই ১০০ জনের ভেতরে পাঁচজন মারা যেত। সেই কঠিন অপারেশন করেও তিনি বেঁচে ছিলেন; যেহেতু বিধাতা তাঁকে জীবন সায়াহ্নে ক্যান্সার দেবেন বলে।
সেসবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছিল তাঁর লেখা। ছিল বড় বড় বই লেখারও জীবন। কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, চিত্রনাট্য। তার পরেও ছিল ছবি আঁকা। বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা। গাছের কাণ্ড নিয়ে নানা রকমের কারিকুরি, ছিল দেশের ভেতরেই ক্রমাগত ভ্রমণ।
আর বিদেশ তো ছিলই।
আর ভ্রমণের সময় সিগারেটের প্যাকেটের শাদা জায়গায় দেশলাইয়ের খোলের ভেতরটায় ছোট ছোট কবিতার পঙক্তি। তার কিছু হারিয়ে যেত, কিছু পকেটে থেকে যেত।
সবচেয়ে বড় একটা তাঁর ক্ষতি হয়েছিল যখন তিনি খুব সম্ভব ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’-এর হাতে লেখা প্রথম খণ্ডটি হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেদিন বিকেলে তিনি কোনো জায়গায় হয়তো যাচ্ছিলেন। হাতে ছিল তাঁর উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। উপর থেকে নিচে নেমে তিনি ড্রাইভার সাহেবকে কিছু নির্দেশ দিচ্ছিলেন, সেই সময় গাড়ির বনেটের ওপর রেখে দিয়েছিলেন উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি।
কথা বলতে বলতে তারপর তিনি গাড়িতে গিয়ে বসেছিলেন। পাণ্ডুলিপিটি পড়ে ছিল সেই বনেটের ওপরেই। আর ড্রাইভারও ছিল খুব স্মার্ট। সে কোনোদিকে না তাকিয়ে চালিয়ে দিল গাড়ি। এবং রাজপথ দিয়ে চলতে লাগল দ্রুত গতিতে। হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি কোথায় উড়ে চলে গেল!
গেল তো গেলই। তার আর খোঁজ পাওয়া গেল না।
মনে পড়তেই সৈয়দ হক গাড়ি আবার ফেরালেন। যেখানে যাচ্ছিলেন সেখানে আর যাওয়া হলো না।
এক ফুট এক ফুট করে গাড়ি চালিয়ে তন্নতন্ন করে রাস্তা খুঁজলেন। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল। নিঃশ্বাস ঘন ঘন পড়ল। কিন্তু পাণ্ডুলিপি আর খুঁজে পেলেন না। পোড়ার কপাল, আমিও তখন ছিলাম বিদেশে, সে সময় তাঁর যে সান্ত্বনার দরকার ছিল সেটাও পেলেন না। মাত্র কয়েক মিনিটের ভেতরেই সেই পাণ্ডুলিপি হাওয়া। আমাদের দেশে এমন কি কোনো সচেতন মানুষ আছেন যারা লেখকদের সম্পর্কে কোনো রকমের ইতিবাচক ভাবনা ভাবেন? আমার মনে হয়, নেই।
আগে হয়তো কখনও ছিল, এখন তো নেই-ই নেই! লেখকদের চারপাশে এখন যেন শুকনো মরুভূমি।
একবার কলকাতা থেকে আমি আর সৈয়দ হক ঢাকায় ফিরছিলাম। আমার স্যুটকেসে ছিল কলকাতা থেকে নতুন সব কেনা বই আর সৈয়দ হকের হাতের লেখা কবিতার ছোট একটি পাণ্ডুলিপি।
ঢাকায় নেমে সেই স্যুটকেসের আর দেখা পেলাম না। আমাদের চোখের সামনে একটি ইয়ং ছেলে যেন আমাদের স্যুটকেসটি খুব ভারী দেখে টপ করে তার লাগেজে তুলে নিল। কিন্তু সেই হুড়োহুড়ির মধ্যে আমরা শনাক্ত করতে না করতেই সে নিমেষে হাওয়া হয়ে গেল।
স্যুটকেস ভারী দেখে সেই লোভী ছেলে স্যুটকেস নিয়ে পলায়ন। ভাবল, না জানি কী সব মহার্ঘ বস্তু তার ভেতরে আছে! সে ভাবতেও পারেনি যা সে খুব অপছন্দ করে অর্থাৎ বই, তাই দিয়ে স্যুটকেস ভরা!
আমরা সেদিন মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলাম।
তারপর কয়েক মাস বাদে আবার স্যুটকেস হারানোর শোক ভুলেও গেলাম।
বেশ কিছুদিন বাদে, এক ভদ্রলোকের ঘ্যাড়ঘেড়ে কথা মোবাইলে শুনতে পেলাম। মাঝবয়সী ভদ্রলোক আমার টেলিফোন খাতায় খুঁজে পেয়ে বললেন, আপনি কি অমুক?
আমি বললাম, জি, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, আপনার একটা স্যুটকেস আমার ছেলে ভুল করে এয়ারপোর্ট থেকে তুলে এনে বাসায় ফেলে রেখে বিদেশে চলে গেছে। মানে আমেরিকায় চলে গেছে, পড়তে। সে চলে গেলে তার ঘরের খাটের নিচে আমি স্যুটকেসটা পেয়েছি। তাকে ফোন দিতে সে বলল, ভুল করে সে স্যুটকেসটা এয়ারপোর্ট থেকে তুলে এনেছিল। বিদেশে যাওয়ার তাড়াহুড়োয় আর ফেরত দিতে পারেনি।
আমি আপনার মোবাইল নম্বর এক জায়গায় দেখতে পেয়ে আপনাকে ফোন দিলাম। কাউকে ওমুক ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলে আমি স্যুটকেসটা ফেরত দিতে পারি।
তারপর বললেন, এখানে একটা লেখা কবিতার খাতায় একজন ভদ্রলোকের নাম লেখা আছে দেখছি, যিনি নিজেই নিজেকে উদ্দেশ্য করে কবিতা লিখছেন, হা হা।
আমি বললাম, কী রকম?
তিনি বললেন, তিনি কবিতার একটা নাম লিখেই আবার তার নিচে নিজের নামটা লিখেছেন, আরে, কেউ কি নিজের কবিতার নাম লিখে তার নিচেই নিজের নাম কখনও লেখে? নাম লেখে লেখা শেষ হলে, তাই না?
আমি শুনে বললাম, জি, ঠিক তাই। তা আমি ড্রাইভার সাহেবকে পাঠাচ্ছি আপনার ঠিকানায়। দয়া করে স্যুটকেসটা দিয়ে দেবেন। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
তিন মাস বাদে আমরা যখন স্যুটকেস হাতে পেলাম সেখানে সবকিছু একেবারে ঠিকঠাক পেলাম। একটা বই ও লেখার খাতা এদিক-ওদিক হয়নি। শুধু বইগুলো হুটোপাটি করে কিছু খোঁজা হয়েছে।
কিন্তু এখন আমাদের আর সেই দুরবস্থা আর নেই। এখন তো আমাদের হাতে ল্যাপটপ এসে গেছে।
আমার ধারণায় একজন লেখকের সবচেয়ে কষ্টের কারণ হচ্ছে, তাঁর লেখার পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়া। যার ভেতরে মুদ্রিত থাকে লেখকের চিন্তার ফসল, তাঁর অধ্যবসায়ের ফসল, তাঁর পরিশ্রম এবং রাত্রি জাগরণের ফসল। সর্বোপরি তাঁর স্বপ্নের ফসল।
আমার ব্যক্তিগত জীবনের আরও একটি দুর্ভাগ্যের ব্যাপার এই ফাঁকে বলে নিই। এরপর আর হয়তো কোনেদিন বলার সুযোগ পাব না।
বিলেত যাত্রার আগে আমি আমার এক আত্মীয়ের কাছে ছোট্ট একটি টিনের স্যুটকেস তালাবদ্ধ করে রেখে দিয়ে গিয়েছিলাম।
সেই স্যুটকেসে ছিল বিবাহপূর্ব আমাকে লেখা সৈয়দ হকের চিঠি, তাঁকে লেখা আমার চিঠি, সৈয়দ হকের কাছে তাঁর পিতার লেখা অত্যাশ্চর্য সব চিঠি, কিছু স্যুভেনির, কিছু প্রিয় বন্ধুদের লেখা চিঠি, কিছু পেইন্টিং, সৈয়দ হকের ব্যবহৃত কলম– অদ্ভুত তাদের রং ও চেহারা, সৈয়দ হক সারাটা জীবন নানা ধরনের কলম কিনতে এবং পেতে ভালোবাসতেন, কিন্তু যার কাছে এটা রেখে গিয়েছিলাম, তাঁর কাছে এসবের কোনো মূল্য ছিল না। সুতরাং বিদেশ থেকে ফিরে এসে সেই স্যুটকেসের কোনো চিহ্নই আর খুঁজে পাইনি। শুধু পেয়েছিলাম এখানে-ওখানে গড়িয়ে পড়ে থাকা কিছু কলম। এবং এর জন্য সেই আত্মীয়কে কোনোদিন দুঃখ প্রকাশ করতেও দেখিনি।
সেদিন মনের মধ্যে আমার যে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল আজও তার ধারা বয়ে যাচ্ছে নীরবে, নিভৃতে। সৈয়দ হককে খবরটা দিতে তিনি একটুখানি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলে উঠেছিলেন, আরে বাদ দাও ওসব। সামনে আমাদের এখনও কত কিছু আছে!
তো সামনেই তাকিয়ে আছি।
হারানো চিঠি, হারানো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি তো কী হয়েছে, আরও কত না লেখা চিঠি, আরও কত না লেখা পাণ্ডুলিপি জমা হয়ে আছে আমাদের মাথার মধ্যে, মগজের কেন্দ্রবিন্দুর ভেতরে। তারাও বাইরে বেরিয়ে আসবার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে নিয়ত। এখন মাথা ঠান্ডা রেখে তাদের ধরে ফেললেই হয়!
- বিষয় :
- গল্প