ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রেনে হারানো পাণ্ডুলিপি

গীতাঞ্জলি কিংবা ক্লাস সেভেন ১৯৭৮

গীতাঞ্জলি কিংবা ক্লাস সেভেন ১৯৭৮
×

শিল্পকর্ম:: আয়া তারেক

শাকুর মজিদ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

১৯১২ সালে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডে Song Offerings-এর পাণ্ডুলিপি যদি সত্যি সত্যি রবীন্দ্রনাথ ফেরত না পেতেন, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য তাঁকে নির্ঘাত আরও অপেক্ষা করতে হতো।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর পাণ্ডুলিপি মনের ভুলে লন্ডনের ট্রেনের কামরায় ফেলে এসেছিলেন। আর আমার পাণ্ডুলিপি আমার দেশের ট্রেনের কামরা থেকে চুরি হয়ে গেল। তিনি ফেরত পেলেন। আর আমি?
ঘটনাটি ১৯৮৪ সালের।
এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে একেবারে বেরিয়ে আসার পর বাড়িতে বসে বসে শুধু ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভাবতাম। এমন সময় ধীরাজ ভট্টাচার্য নামের এক লেখকের যখন পুলিশ ছিলাম বইটা পড়ামাত্রই আমার মাথায় এলো—এই নামে আমিও একটা বই লিখে ফেলতে পারি।
কলেজ থেকে আসার সময় কলেজের কিছু স্মারকও নিয়ে এসেছিলাম। তার মধ্যে দুটো দুই দিস্তার রাফ খাতাও ছিল। এই খাতাগুলো আমার খুব প্রিয়। খাকি রঙের বাঁশপাতার কাগজের ওপর কলেজের সিল। খাতা দুটো কৃপণের মতো আগলে রেখেছিলাম কলেজের শেষ কটি দিনও।
আমি সেই খাতাগুলো বের করি। প্রথম পাতার ওপর লিখি—যখন ক্যাডেট ছিলাম। তার নিচে ছোট করে লিখি—শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা।
এটুকু লিখেই আমি শুরু করে দিই ক্যাডেট কলেজের দিনগুলোর কথা।
প্রথম দিন, ১৯৭৮ সালের ২৫ জুন থেকে শুরু হয় আমার কাহিনি। আমি লিখতে থাকি। আমার চোখের সামনে একে একে প্রদর্শিত হতে থাকে আমার ফেলে আসা দিনগুলোর দুঃখকষ্ট, আনন্দ-বেদনা, হারানো-প্রাপ্তির স্মৃতিচিহ্নসমূহ।
তিন-চার দিনের মধ্যে প্রথম খাতাটি শেষ হয়ে যায়। শুরু করি দ্বিতীয় খাতার ওপর লেখা। ক্লাস টেনের এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত আমার ঘটনাসমূহ লিখে দেখি, ওই খাতাও প্রায় শেষ। আমি সেখানেই ক্ষান্ত হই।
এবার আমি উত্তেজনা বোধ করি।
আমি একটা চিঠি লিখে ফেলি ‘মুক্তধারা’র প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহাকে। আমার লেখার দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে তাঁকে জানাই—আশা করি, আমার এই বইটি প্রকাশিত হলে অনেক শিশু-কিশোর এবং তাদের অভিভাবক ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে কিঞ্চিৎ হলেও জ্ঞান লাভ করবেন এবং একজন সাধারণ ছাত্রকেও অসাধারণ হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে—ইত্যাদি, ইত্যাদি।
পরদিন সকালবেলা আমাদের গ্রামের ঈদগাহ বাজারের পোস্ট অফিসে গিয়ে নিজ হাতে চিঠিটি বাক্সের মধ্যে ফেলি এবং বাড়িতে এসে পরবর্তী পর্যায়ের, অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক জীবনের কথাবার্তা লেখার জন্য মনে মনে তৈরি হতে থাকি।
এর মধ্যে বড়জোর এক সপ্তাহ পার হয়েছে। একদিন ঈদগাহ বাজারে পিয়নের সঙ্গে দেখা। তিনি আমার হাতে একটা পোস্টকার্ড ধরিয়ে দেন।
আমাকে পোস্টকার্ডে কেউ কখনও চিঠি লেখেনি। মাঝে মাঝে বাবা বিদেশ থেকে ভিউকার্ডের ওপর দুই-তিন লাইন লিখে চিঠি পাঠাতেন। এই পোস্টকার্ডটি পেয়ে আমি বিস্মিত হই।
লিখেছেন মুক্তধারার প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহা। 
তাঁর চিঠিটি মোটামুটি এ রকম ছিল—‘শ্রী শাকুর, নমস্কার। আপনার পত্র পাঠে আমার মনে হইল আপনার রচনাটি আমরা প্রকাশ করিতে পারিব। আপনি আপনার কলেজের বাংলার অধ্যাপকের একটি ভূমিকাসহ মূল পাণ্ডুলিপিটি সত্বর আমার কাছে পাঠান।’
নিচে স্বাক্ষর—চিত্তরঞ্জন সাহা।
চিঠিটি খালেদকে দেখাই। সে আমার চেয়ে অধিক উত্তেজিত। বলে—তাড়াতাড়ি যা। কাম অইগেছে।
আমি বিকেলবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। রাতের ট্রেনে চিটাগাং যাব। কাল কলেজে দেখা করব নজরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে।
মিস্টার নজরুল ইসলাম দুই-তিন বছর হলো কলেজে এসেছেন। আমাদের বাংলা পড়াতেন। আমাকে তিনি সাংঘাতিক পছন্দ করেন। শ্রীকান্ত নিয়ে আমি যে নোট তৈরি করেছিলাম, তা তিনি রেখে দিয়েছেন—পরবর্তী ক্লাসের ছাত্রদের দেখানোর জন্য। সুতরাং তিনি যে আমার খুব ভালো একটি ‘ভূমিকা’ লিখে দেবেন, আমি নিশ্চিত।
একটা হাতব্যাগে রাফ খাতা দুটো ঢুকিয়ে ফেললাম। সিলেটে এসে রাতের মেইলে উঠলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশে।
দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা। বসার কোনো জায়গা নেই। দাঁড়িয়ে ছিলাম একটা হাতল ধরে। সোয়া ঘণ্টা পর কুলাউড়ায় এসে কয়েকটা সিট খালি হলো। বসার সুযোগ পেলাম।
এ সময় আমার সঙ্গে আলাপ হয় কয়েকজন লোকের। তারাও চট্টগ্রাম যাবে। আমাকে বেশ খাতির করল। একসময় সিটের ওপরের ঝুলন্ত বার্থে আমাকে ঘুমানোরও সুযোগ দিল তারা।
আমি পায়ের জুতা খুলে ব্যাগের মধ্যে ভরে রাখলাম। ফুলপ্যান্ট খুলে একটা পায়জামা পরলাম এবং প্যান্টটি ভাঁজ করে ব্যাগের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম।
বেশ আরামের ঘুম ছিল।
শেষ রাতের দিকে ঘুম ভাঙল। তখন ট্রেন এসেছে কুমিল্লায়।
ঘুম ভাঙার পর লক্ষ করলাম, মাথার নিচে আমার ব্যাগটি নেই। সেখানে শুধু ভাঁজ করা প্যান্টটি আছে, কিন্তু তার পকেটে মানিব্যাগটি নেই। এবং যথারীতি যে লোকগুলো আমাকে খাতির-যত্ন করে ঘুম পাড়িয়েছিল, তাদের কেউই ট্রেনে নেই।
আমি চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এসে নামি।
আমার খালি পা।
আমার কাছে একটি পয়সাও নেই।
কেন যেন মনে হয়েছিল, আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
অনেক দুঃখ একসঙ্গে জড়ো হয়েছে। কোনটা বড় দুঃখ, কোনটা ছোট দুঃখ বুঝতে পারছি না। টাকা না থাকার দুঃখ ঘুচে গিয়েছিল কিছুক্ষণের মধ্যেই।
রেলস্টেশন থেকে একটা রিকশা নিয়ে আগ্রাবাদ কলোনিতে হানিফের বাসায় গিয়ে উঠলাম।
প্রথম দুঃখ শেষ।
কিন্তু ব্যাগ হারানোর দুঃখ?
এটা আর কাটিয়ে ওঠা গেল না।

হানিফকে বললাম—এসেছিলাম কলেজে গিয়ে বাংলার স্যারের সঙ্গে দেখা করব বলে। তার আর প্রয়োজন নেই।
আমি হানিফের বাসায় দাওয়াত খাই। তার মা আমার জন্য জুতা কিনে আনেন, শার্ট কেনেন, প্যান্ট কেনেন। আসার সময় ২০০ টাকা আমার পকেটে ভরে দেন।
চট্টগ্রাম শেষে আমার ঢাকা যাওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তারও কোনো কারণ এখন আর নেই। তবুও হানিফদের সঙ্গে আমি কলেজে গেলাম। আমাদের টেস্টিমোনিয়াল হাতে হাতে নিয়ে এলাম। এবং এলোমেলো ঘোরাঘুরি করলাম।
নজরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। আমাকে দেখে তিনি সামনে এগিয়ে এসে বলেন—কী লেখক, কিছু লিখছো?
আমি হ্যাঁ-না কিছুই বলি না।
আমি কিছুই বলতে পারি না।
সেই রাতে আমার ঢাকা যাওয়ার কথা। ঢাকা আমি এর আগে কখনও যাইনি। কিন্তু জানি, ট্রেন থেকে ভোরবেলা নেমে ৭৪ ফরাসগঞ্জে গেলেই আমি চিত্তরঞ্জন সাহার দেখা পেয়ে যাব।
কিন্তু এখন তো আমার যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
আমি লক্ষ্মী ছেলের মতো আবার চলে আসি বাড়িতে। মাথিউরায়।
লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ডে হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি রবীন্দ্রনাথ ফিরে পেয়েছিলেন Lost and Found-এর ঘরে। আমার ব্যাগের ভেতর চোরেরা যা নিতে পারে, তার মধ্যে এই হাতে লেখা একমাত্র কপির পাণ্ডুলিপিটির তো তাদের কোনো দরকার ছিল না। 
আমি এই কষ্ট ভুলতে বহু বছর সময় নিই।
২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমার বড় পুত্র ইশমাম ১২ বছরে পা দিল। আমি তাকে দেখি আর ২৮ বছর আগের আমার নিজেকে দেখি।
আমি কোনো অবস্থাতেই আমার ছায়া আমার পুত্রের ওপর ফেলতে পারি না। তখন ভাবি, আমার পুত্রের আসলে জেনে যাওয়া দরকার—তার এই বয়সের কালে তার পিতা কেমন করে এ সময়টি অতিক্রম করেছিল।
এই চিন্তা থেকেই আবার নতুন করে সেই লেখাটি শুরু করে ফেলি।
ঠিক করলাম, প্রথম বছরের কাহিনিই লিখব। আমি ক্যামেরা বসালাম ১৯৭৮ সালের আমার নিজের ওপর। সে গ্রাম দেখছে, মেঠো পথ দেখছে। দেখতে দেখতে সে চলে যায় আধাসামরিক, sophisticated এক জীবনে, যার বীজ বোনা হয়েছিল ব্রিটিশ pre-military schooling থেকে।
নেপোলিয়ন বোনাপার্টও একসময় ইতালি থেকে ফ্রান্সে এসে ক্লাস সেভেনে ভর্তি হয়েছিলেন প্রি-মিলিটারি স্কুলে। সেখান থেকে পরে কমিশন পান। এখানেও তাই।
১৯৫৮ সালে দুই পাকিস্তান মিলে চারটি ক্যাডেট কলেজ করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ভাগ্যে পড়ে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট গ্রামের ১৮৫ একর জায়গা। পেছনে পাহাড়, সামনে সাগর, মাঝখানে রেললাইন—সিলেট-চট্টগ্রামের রেলপথ।
আমি কেমন করে সেখানে গিয়ে কী পরিবেশে নিজেকে অভিযোজিত করলাম, তা ইনিয়ে-বিনিয়ে লেখার কসরত করতে থাকি।
আমার সম্বল—আমার বাবার রেখে যাওয়া একটা কোর্ট ফাইল। কলেজ থেকে বাবার কাছে যত চিঠিপত্র যেত, তার সবই বাবা জমিয়ে রাখতেন সেই ফাইলে।
সে ফাইলটি উদ্ধার করার পর অনেক কিছু পেয়ে যাই ওখানে।
আমাদের কলেজের এক অধ্যাপক, জনাব আ ত ম নাসির চৌধুরী, আমাদের প্রতিদিন রোজনামচা লেখার অভ্যাস করিয়েছিলেন। সেটাও আমার আরেক সম্বল। তা নিয়ে আমি আবার বসে পড়ি।
১৯৮৪ সালে আমি কী লিখেছিলাম, তার একটি শব্দও আমার মনে নেই। সেই দিস্তা কাগজের পাণ্ডুলিপির কোনো কার্বন কপি বা জেরক্স কপি আমার কাছে নাই, ছিলও না।
কিন্তু এই লেখাটি শুরু করার পর দেখি, চলচ্চিত্রের ফ্ল্যাশব্যাকের মতো একটার পর একটা পুরোনো দৃশ্য ভেসে আসছে।
আমি দেখতে থাকি আর লিখতে থাকি।
এর মধ্যে ডেকে আনি আমার ক্যাডেট কলেজের পুরোনো বন্ধুদেরও। ওদের সঙ্গে ঝালিয়ে নিই কিছু স্মৃতি। আবার লিখতে থাকি।
মোসলেহ, প্রসেনজিৎ, জিয়াউর, সোহেল, লুৎফুল—মনে করিয়ে দেয় অনেক কিছু।
এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার ক্যাডেট কলেজজীবনের জুনিয়র-মোস্ট জীবনের গল্পের মধ্যেই আমার প্রথম দফার লেখাটি শেষ রাখব। যদিও ১৯৭৮-এর জুন থেকে ১৯৭৯-এর জুন পর্যন্ত ব্যাপ্তি নিয়ে আমার এই লেখা, তথাপি এ সময়টাকে আমি ক্লাস সেভেনের সময় হিসেবেই দেখতে চাইলাম।
একসময় শেষ হলো পাণ্ডুলিপি।
আমি আমার ক্যাডেট কলেজের বন্ধুদের অফিসে ডেকে আনি। এটা-ওটা খাওয়াই আর আমার বই থেকে তাদের পড়ে শোনাই।
মোসলেহ প্রথমেই লাফ দিয়ে ওঠে। বলে, সে নিজের পয়সায় বই ছাপিয়ে দেবে। আমাকে বলে—খরচ কত?
আমি বলি—বই নিজে ছাপালে লাভ কী? এটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে ভালো কোনো প্রকাশক লাগবে।
একসময় এক প্রকাশকের কাছে গেলাম। পাণ্ডুলিপি দিলাম। পরের দিনই তিনি কোনো আগাম টাকাপয়সা বা অগ্রিম বই কেনার কথা না বলে আমাকে বললেন—আমরা এর প্রচ্ছদ করার জন্য দিয়ে দিয়েছি। আশা করি, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই আপনার বইটি আমরা বাজারে তুলতে পারব।
বই ছাপানোর লোক পাওয়া গেল।
এবার আমার বন্ধুরা আরও অস্থির হয়ে গেল। বলল—এটা ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্রজীবন নিয়ে লেখা প্রথম বই, তাই এর একটা বড় প্রকাশনা উৎসবও করতে হবে।
ওল্ড ফৌজিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা চ্যাপ্টার সোনারগাঁও হোটেলে এর প্রকাশনা উৎসব করে ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। তারাই দাওয়াত দিয়ে আনিসুজ্জামান স্যার ও সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম স্যারকে প্রধান অতিথি আর প্রধান আলোচক করে আনে।
আমাদের কলেজের নাসির স্যার সাহিত্য পড়াতেন। তাঁকেসহ আরও শিক্ষকদের উপস্থিত করায়। আর আমার বন্ধুরা এই দিনটি আমার জন্য এক উৎসবে পরিণত করে।
চট্টগ্রাম থেকে ফার্স্ট ফ্লাইটে রাব্বি এসে আমাদের সবার আগে সোনারগাঁও হোটেলের লাউঞ্জে বসে থাকে। আর অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ারপোর্টে চলে যায়, ফিরতি প্লেনে চট্টগ্রাম যাবে বলে।
ক্লাস সেভেন ১৯৭৮ বইটি হুমায়ূন আহমেদের হাতে যাওয়ার পরদিন থেকেই আমি তাঁর বন্ধু হয়ে যাই। 
এ পর্যন্ত আমার লেখা বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪০। ক্লাস সেভেন ১৯৭৮ আমার প্রথম লেখা স্মৃতিচারণমূলক বই।
কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি—আমার প্রিয় বই—ক্লাস সেভেন ১৯৭৮।
আচ্ছা, ১৯৮৪ সালে যখন ক্যাডেট ছিলাম যদি মুক্তধারা থেকে বেরোত, তাহলে ২৪ বছর আগেই আমি লেখক হিসেবে স্বীকৃত হতাম।
পাণ্ডুলিপি হারিয়ে সেই ২৪ বছর কি আমি আসলেই হারিয়েছিলাম? 

আরও পড়ুন

×