সৃষ্টিশীল মানুষের স্বীকৃতি প্রয়োজন
ফারুক মঈনউদ্দীন
ফারুক মঈনউদ্দীন
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
গত বছর এই অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, সেশন জট কাটাতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার একই অনুষ্ঠানে দিতে চাই। এবছর বোর্ডকে বুঝিয়ে তা অনুমোদন করাই। দুটি বছরের পুরস্কার একসাথে আয়োজন করার কারণেই কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
বাংলাদেশে বহু সাহিত্য পুরস্কার চালু ছিল ও আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেগুলোর একটি বড় অংশ আজ বিলুপ্তপ্রায়। স্মৃতি থেকে বলতে গেলে পাকিস্তান আমল থেকে চালু হওয়া আদমজী সাহিত্য পুরস্কার বন্ধ হয়ে গেছে, আলাউল সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, মুক্তধারা একুশে সাহিত্য পুরস্কার, লেখিকা সংঘ স্বর্ণপদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার এবং লেখক শিবির পুরস্কার-এগুলোর একটিরও এখন অস্তিত্ব নেই। প্রথম আলো বর্ষসেরা বই সম্ভবত ২০২০ সালের পর, জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩ সালের পর দেওয়া হয়নি। আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার এবং সিটি ব্যাংক আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কারের তথ্যও চোখে পড়ে না। বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে মাত্র দু-তিনটি সাহিত্য পুরস্কার চালু রয়েছে, আর সরকারি পর্যায়ে দেওয়া হয় বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
২০২১ সালে আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কারের পর তারা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছিল। মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর প্রায় এক মাস ধরে সৈয়দ শামসুল হক এবং আমার ছবিসহ বিশাল বিলবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি আশা করব ভবিষ্যতেও যেন আমরা এমন উদ্যোগ নিতে পারি, যাতে লেখকরাও জনগণের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কেবল পুরস্কারের জন্য কেউ লেখেন না, তবে সমাজ ও বিশেষ করে করপোরেট বিশ্বের দায়িত্ব রয়েছে এসব সৃষ্টিশীল মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়া।
বিভিন্ন পুরস্কার বিলুপ্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো টেকসই ভিশনের অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, লোক দেখানো কোনো কাজের দীর্ঘস্থায়িত্ব থাকে না; যেমন দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক পুরস্কারটি কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সৃষ্টিশীল মানুষকে স্বীকৃতি দিতে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সেটিও ভাববার বিষয়। ব্র্যাক ব্যাংক কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয় এবং এর লভ্যাংশ কোনো ব্যক্তির পকেটে যায় না, বরং ব্র্যাকের সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। সমাজে যারা অবহেলিত ও উপেক্ষিত, তাদেরকে মূলধারায় তুলে ধরতে ব্র্যাক ব্যাংক নতুন স্লোগান দিচ্ছে—‘কী মেজরিটি’। প্রতি বছর সিএসআর খাতে একটি বড় বাজেট রাখা হয় এবং ২০২৬ সালে ৩৩ কোটি টাকা সিএসআর খাতে ব্যয়ের বাজেট ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। গত ১৫ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। অতীতে বিলুপ্ত হওয়া অন্যান্য পুরস্কারের মতো এটি বিলুপ্ত হবে না বলেই বিশ্বাস করি। যতদিন ব্র্যাক ব্যাংক ও সমকাল এই দুটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে, ততদিন ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার নিয়মিত প্রদান করা হবে।
- বিষয় :
- গল্প