পোষা নদীর পিঠে চেপে
নিজাম বিশ্বাস
নিজাম বিশ্বাস
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমাদের এক পোষা নদী ছিল। সেই নদীর পিঠে চেপে অনেক দূরে জলের দেশে হারিয়ে যেতাম। সেখানে আরও অসংখ্য নদী। পোষা নদীটি পথ ভুলিয়ে একদিন আমাদের নিয়ে এলো এই পোড়া মাটির নগরে। তার পিঠ থেকে নামতেই পুরোনো আস্তাবল। মাটিবন্দি হয়ে পড়লাম। হাঁটু গেঁড়ে গাছ হয়ে গেলাম। আমাদের শিকড় যে আটকে গেছে কংকরে। নদীও আর ফিরে আসে না। কেটে যায় গোধূলিকাল। পানকৌড়ির ডানার মতো রাত নামে শহরে। আমরা ধীরে ধীরে মানুষের সাথে মিশে গেলাম। কিন্তু তাদের কথা বুঝি না। সারাদিন জলের সাথে কথা হয়, বৃষ্টির সাথে কথা হয়, ফোয়ারার সাথে কথা হয়। কথা হয় চৌবাচ্চার সাথে, মানুষের চোখের জলের সাথেও। ফুলকা তড়পায়, তড়পায়। নদী ফিরে আসে না। চষে বেড়ায় না জানি কোনো দূর জলবনে।
জলের অক্ষরে লিখছি তার জন্যে। মাটির ওপর ফোঁটা ফোঁটা ব্রেইলের মতো অজস্র শিশির। নদী ফিরে এলে পড়বে এ বিরহগাথা। গাইবে আমার জলের কবিতা, আপন মনে।
২
‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ বইয়ের কবিতাগুলো ২০১২ থেকে ২৪ সালের ভেতর লেখা। ২০১১ সালে আমার প্রয়াত বন্ধু কবি মাহমুদ হাছানের সম্পাদনায় ‘মিথের পাখিরা’ নামে সাত কবির এক বই বেরিয়েছিল। সেখানে আমার কিছু কবিতা ছিল, যেগুলো মূলত ২০০১-১১ সালে লেখা। নামকবিতাটি লেখা হয় ২০১৪-১৫ সালে। শহরের উপকণ্ঠে মা আমাকে নতুন ঘর বানিয়ে দিলেন। ঘরে মন বসে না। নতুন ভূদৃশ্যে নিজেকে অচেনা লাগে। বিকেলে দূরের এক জলাশয়ের কাছে গিয়ে বসতাম, সঙ্গে থাকত পোষা বক, ডাহুক। সেখানে জলমাকড়ের দেখা পাই।
২০১৪ সালে একবার পাণ্ডুলিপি গুছিয়ে নিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম শিল্পী মুর্তজা বশীরের কাছে।
তিনি পাণ্ডুলিপি খুলে দেখলেন না। হাতে নিয়ে বসে থাকলেন। আমাকে বললেন সেই কথা, যে কথা তাকে বলেছিলেন ফজলে লোহানী। ‘শিল্প–সাহিত্যের রাস্তা পিচ্ছিল, আর তোমার পায়ে রাবারের জুতো। তাড়াহুড়ো করলে পিছলে পড়ে যেতে পারো।’ গুরুজির কথা রাখলাম। তাড়াহুড়ো করলাম না।
এ কবিতাবই আদৌ প্রকাশ সম্ভব হতো না যদি বন্ধু কবি তানিম কবির এগিয়ে না আসতেন। তিনি
আমাকে দারুণ উৎসাহ, তাগাদা দিয়ে গেলেন। অবশেষে পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হলো। ২০২৪ সালে প্রকাশিত হলো ‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’। প্রথম কবিতাবই।
৩
আমার প্রথম ও একমাত্র কবিতাবই ‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ ২০২৪ সালের ‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এ আনন্দের অনুভূতি এতটাই বিমূর্ত যে তাকে চেনা শব্দে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বইটি উৎসর্গ করেছিলাম আমার গুরুজি সাঈদ আহমদকে। পুরস্কারটিও তাঁর পদযুগলে অর্পণ করলাম।
- বিষয় :
- গল্প