ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আসছে বছর আবার আসব

আসছে বছর আবার আসব
×
×

নাসরীন জাহান

নাসরীন জাহান

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের অনুষ্ঠানে আমার প্রতিবছর আসা হয়। বিগত বছরগুলোতে যতবার এসেছি, মনে হয়েছে ইশ আমি যদি একবার মঞ্চে উঠতে পারতাম! এ বছর তো ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করলাম। এ প্রাপ্তিতে আমার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার নয়। পুরস্কার পেয়ে খুবই ভালো লাগছে, এককথায় দারুণ।   

আমার লেখালেখির শুরুটা শৈশবে। স্কুলে থাকাকালে ‘দৈনিক বাংলা’ প্রথম আমার গল্প প্রকাশ করে। তখন আমি নবম বা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

২০২৫ সালের ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে আমার ‘পালকের চিহ্নগুলো’ গ্রন্থটি। বইজুড়ে পুরোটা আমি আছি। আমার শৈশব, কৈশোর, জীবনসঙ্গী, সাহিত্য– অর্থাৎ জীবন ও অস্তিত্ব সবকিছুর মিশেল এই গ্রন্থ। তাই এর কথা মনে হলে বাড়তি আবেগ কাজ করে। 

আমরা পথ দিয়ে হাঁটি না, মন ধরে হাঁটি। সেই মনকে আমরা অগ্রাহ্য করি। কেউ কাউকে মনের অসুখ বলতে চাই না। যদি হাসির পাত্র হয়ে উঠতে হয়! বোধ করি প্রত্যেকেরই কমবেশি মনের অসুখ আছে। 

গত বছর ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারের দিন জানতে পারি আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত। সেদিন সকালে রিপোর্ট হাতে আসে। তবুও সাহিত্য পুরস্কারের অনুষ্ঠানে হাজির হই। আমাকে দেখে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ভাই বলেছিলেন, “তুমি আজ রিপোর্ট পেয়েও এখানে চলে এসেছ? তুমি অনেকদিন বাঁচবে। তোমার কিচ্ছু হবে না।” মনজুরুল ভাই চলে গেলেন। গেল এক বছরে লেখালিখি ও ভাবনা নিয়ে অনেক রিল বানিয়েছি। পেছনে একটাই কারণ– লেখালিখি করতে গেলে শুধু মনে হতো মৃত্যু আসছে। মৃত্যুর পরে কী হচ্ছে, আগে কী হচ্ছে, সেসব বিষয়ও মনে হতে থাকে। এখন এমন এক পর্যায়ে আছি যে চিকিৎসক বলেছেন অস্ত্রোপচার করে গল ব্লাডার, কিডনি দুটো ফেলে দিতে হবে। এরপর থেকে কেবলই মনে হচ্ছে মৃত্যু আসছে। মৃত্যুকে আমি মোটামুটি মেনে নিয়ে চলছি। ভেতরটা নিভে গেছে অনেকটা। কিন্তু গত বছর একটি কথা বলে গিয়েছিলাম, সমকালের অনুষ্ঠান আমার খুব ভালো লাগে। 

আজ ক্যান্সার নিয়ে এসেছি, আসছে বছর সবার আশীর্বাদে সুস্থ হয়ে আবার আসব। আজকে এইখানে এ অনুষ্ঠানে এসেছি, বসে আছি। আসার আগে ভাবছিলাম মঞ্চে দাঁড়িয়ে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেব, বলব– আমি হয়তো আগামী বছর আসব না। কিন্তু আমার হঠাৎ করে একটা ভাবনা মাথায় এলো, এ অনুষ্ঠানে তা বলে রাখছি।  আমার মনে হলো মৃত্যু মানুষকে জিজ্ঞেস করে– ‘যাবে?’ তার প্রশ্ন মানুষ প্রায়ই শুনতে পায় না। অজান্তেই রাজি হয়ে চলে যায়।      আমি রাজি হচ্ছি না। 

আরও পড়ুন

×