ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাতৃস্নেহের সঙ্গে পিতৃস্নেহে শিক্ষারও প্রয়োজন আছে

মাতৃস্নেহের সঙ্গে পিতৃস্নেহে শিক্ষারও প্রয়োজন আছে
×

মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল প্রচলিত দৈনিক সমকালে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাব্বির নেওয়াজ লিখিত ‘প্রাথমিকের নারী শিক্ষক: তবে কি শিশুদের মাতৃস্নেহে শিক্ষার প্রয়োজন নেই!’ শিরোনামে লেখাটি আমার মনোযোগ কেড়েছে। তবে লেখাটি নিয়ে আমার কিছু কথা এখানে তুলে ধরতে চাই।
মুরালিধরন শেঠকে উদ্ধৃত করে লেখক যথার্থই বলেছেন, নারী শিক্ষক নিয়োগ বাড়ালে মেয়েদের গণিত/ভাষার ফল উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ বছরে ভর্তি, বিদ্যালয়ে টিকে থাকা এবং লেখাপড়া সম্পন্নকরণে মেয়েরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাপনী পরীক্ষার ফলেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। এ তথ্য হয়তো নারী উন্নয়নের দিক থেকে আশাব্যঞ্জক, কিন্তু প্রাথমিকের মোট ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪৭ মেয়ের পাশাপাশি ৪৭ শতাংশ তথা ৪২ লাখ ৩০ হাজার ১৮৯ জন ছেলেও রয়েছে। কারণ তারাও শিশু এবং এ দেশের ভবিষ্যৎ, যারা শিক্ষার প্রায় সর্বক্ষেত্রে দিন দিন পিছিয়েই পড়ছে। লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, চর, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলে নারী শিক্ষকের উপস্থিতি কম। এ কথা শুধু পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের (৪৩.৬%) জন্য প্রযোজ্য হলেও বাকি ৬৩টি জেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ বাকি সব জেলায় পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। তাই বলতে চাই, নারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি হলেই শিক্ষার মান বাড়বে, এটি সর্বদা সত্য নয়। তাই ছেলেমেয়ে উভয় শিক্ষার্থীর জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।

মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন: এমফিল গবেষক, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় [email protected]
 

আরও পড়ুন

×