পরিযায়ী পাখির আশ্রয়
রতন কুমার তুরী
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনীল আকাশে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে অচেনা পাখি। দুদিন আগেও যেসব পাখি বাংলাদেশের আকাশে দেখা যায়নি; শীত না আসতেই তারা বাংলার আকাশে দৃশ্যমান। বাংলাদেশে সাড়ে আট হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে প্রায় তিনশ পরিযায়ী পাখির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত পরিযায়ী পাখিরা শীতের সময় সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে আসে খাবারের খোঁজে। মূলত সাইবেরিয়ায় এ সময় তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ থেকে ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। যার কারণে সেখানে চারদিক বরফে আচ্ছাদিত থাকে। পাখিরা এ সময় সেখানে খাবার ও থাকার মতো জায়গা পায় না। ফলে তারা জীবন বাঁচাতে আমাদের দেশে চলে আসে। বাংলাদেশে এ সময় শীত মৌসুম হলেও সাইবেরিয়ার মতো বরফ-জমা ঠান্ডা পড়ে না। পাখিদের জন্য এ দেশের হাওর-বাঁওড়, জলাভূমি, পাহাড় ও নদীগুলোতে যথেষ্ট খাবার থাকে। পরিযায়ী পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোনাজঙ্গ, ল্যাঞ্জা, হরিয়াল, খুরুলে, কুনচুষী, বাতারণ, জলপিপি, দুর্গা টুনটুনি, লালবন মোরগ, তিলে ময়না, রামঘুঘু, হলদে খঞ্জনা, কুলাউ, কালাপাশ, চুটকি, কালো হাঁস এবং কাজল পাখি। শীতকালে এরা বরফপ্রধান দেশ থেকে বাংলাদেশে আসে। শীত শেষে তারা আবার নিজ দেশে ফিরে যায়। এসব পরিযায়ী পাখি প্রতিবছর আমাদের দেশে আসে। বাংলাদেশে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এবং নড়াইলের অরুণিমা ইকোপার্ক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিযায়ী পাখিদের জন্য প্রধান আশ্রয়স্থল। এর বাইরে বাংলাদেশের অসংখ্য খালবিল, নদী, পাহাড়েও এদের দেখা মেলে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় এবং জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় এসব পরিযায়ী পাখির মধ্যে কিছু পাখি সাময়িক সময়ের জন্য তাদের আবাসস্থল বেছে নেয়। কাপ্তাই লেকের আশপাশে এ সময় অসংখ্য নতুন পাখি দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে পরিযায়ী পাখিরা আমাদের দেশে আসে খাদ্যের খোঁজে। এসব পাখি অনেক সময় চোরা শিকারিদের ফাঁদে পড়ে জীবন হারায়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, শীত মৌসুমে যেসব পরিযায়ী পাখি আমাদের দেশে আসে, তাদের মধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক পাখি তাদের দেশে আর ফিরে যেতে পারে না শুধু চোরা শিকারিদের কারণে ।
শীত মৌসুমে আমাদের চারদিকের জলাভূমির দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে পরিযায়ী পাখিরা সেখানে নিরাপদে বসবাস ও খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে। যেহেতু পরিযায়ী পাখি আমাদের দেশে প্রতিবছর আসে সেহেতু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উচিত দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের জন্য বেশ কিছু নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা এবং সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রকৃতপক্ষে পরিযায়ী পাখিরা আমাদের দেশে এসে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে আমাদের প্রকৃতিকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখছে। এরা জলাভূমি, নদী ও জঙ্গলের বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে আমাদের প্রকৃতিকে বিশুদ্ধ রাখছে। আমরা প্রত্যাশা করব, যথাযথ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে আসা পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা দেবে এবং তাদের আশ্রয়স্থল আরও বাড়াবে।
রতন কুমার তুরী: কলেজ শিক্ষক
- বিষয় :
- পাখি
