ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূমি অফিসে ‘অ্যানালগ’ সিন্ডিকেট

ভূমি অফিসে ‘অ্যানালগ’ সিন্ডিকেট
×

প্রতীকী ছবি

মো. কামরুজ্জামন হিমু

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫২ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের স্মার্ট নাগরিক সেবা– সবখানেই একটি স্লোগান অত্যন্ত জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে: ‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’। বিশেষ করে যে খাতটি ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, ভোগান্তি আর দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস সবচেয়ে পুরোনো, সেই ভূমি মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করার নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চালু করা হয়েছে ‘পেপারলেস’ বা সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ই-নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রম। 

উদ্দেশ্য, মানুষ যেন ঘরে বসেই হয়রানিমুক্ত উপায়ে তাঁর ভূমির মালিকানার আইনি স্বীকৃতি পেতে পারেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী বলছে? নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কি সত্যিই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে পেরেছে, নাকি প্রযুক্তির আড়ালে দুর্নীতির কৌশল বদলেছে মাত্র?

সম্প্রতি ঢাকার উপকণ্ঠের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল’ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা উদ্বেগজনক। সম্প্রতি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া বিভিন্ন তথ্য ও ফেসবুকে ভিডিওচিত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলে সাধারণ আবেদনকারীদের ডিজিটাল আবেদনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির ‘হার্ডকপি’ বা কাগজের ফাইল জমা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে, যেখানে স্বয়ং ভূমি মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পেপারলেস সেবার ওপর বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে মাঠপর্যায়ের এই কার্যালয়ে সমান্তরাল ‘কাগুজে ব্যবস্থা’ টিকিয়ে রাখা হচ্ছে? উত্তরটা খুব সহজ– স্বচ্ছতা আড়াল করার জন্য। কারণ সম্পূর্ণ অনলাইন কার্যক্রমে আর্থিক লেনদেন বা দালালি চক্রের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত, কিন্তু ফাইলের ‘হার্ডকপি’ হাতে থাকলেই কেবল টেবিল থেকে টেবিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি ও দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হয়।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, একটি নামজারির নির্ধারিত ফি মাত্র ১১৭০ টাকা। এই নামমাত্র মূল্যে নাগরিকরা সেবা পাবেন, এটাই আইনি অধিকার। বাস্তবে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, নামজারি কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি নির্দিষ্ট টালি খাতায় কোন ফাইলের বিপরীতে কত টাকা নেওয়া হলো, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখছেন। ফাইলের পেছনে দালাল চক্রের দেওয়া বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন দেখে এই হিসাব মেলানো হচ্ছে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, প্রতি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে এই অবৈধ অর্থের ভাগবাটোয়ারার হিসাব নিয়ে বসা হয়। সরকারি একটি কার্যালয়ের ভেতরে বসে দিনের পর দিন এভাবে প্রকাশ্যে দুর্নীতির মহোৎসব চলা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার চরম অবমাননা।

মো. কামরুজ্জামন হিমু: আমিনবাজার, ঢাকা
 

আরও পড়ুন

×