টিএ বা আরএকে স্কলারশিপ বিবেচনা নয় কেন
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণ সুবিধার মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে রাষ্ট্র ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন। প্রেষণের মূল উদ্দেশ্যই হলো– রাষ্ট্রের বিদ্যমান জনবলকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে ফের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা। এটি কেবল ব্যক্তিগত শিক্ষালাভ নয়; বরং রাষ্ট্রের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
কিন্তু সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি পরিপত্র এই দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাকে নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, যারা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (টিএ), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (আরএ) বা অন্য কোনো ক্যাজুয়াল এমপ্লয়মেন্টের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্ত হবেন, তারা প্রেষণের জন্য যোগ্য হবেন না। কেবল যারা স্কলার বা বৃত্তি পাবেন, তারাই প্রেষণের সুযোগ পাবেন।
নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্তের মূল প্রশ্নটি এখানেই– টিএ বা আরএ কি আদৌ চাকরি, নাকি এটি উচ্চশিক্ষার অবিচ্ছেদ্য একাডেমিক প্রশিক্ষণের অংশ?
উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণা, বিশ্লেষণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা, ল্যাবরেটরি বা গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণ পিএইচডি প্রশিক্ষণের অংশ।
এই স্টাইপেন্ড কোনো বাণিজ্যিক চাকরির বেতন নয়; বরং এটি গবেষণা ও একাডেমিক প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি এবং শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়ার সহায়ক অর্থ।
একজন আরএ প্রফেসরের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে পরিসংখ্যান, গবেষণা পদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অন্যদিকে টিএ হিসেবে পাঠদান একজন গবেষকের তাত্ত্বিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যতের শিক্ষকতা ও গবেষণার জন্য প্রস্তুত করে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকাংশ গবেষকের প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশের অভিজ্ঞতা অর্জিত হয় এই আরএ বা টিএ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই। নতুন পরিপত্রে গ্রাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ-কে ক্যাজুয়াল এমপ্লয়মেন্টের সঙ্গে একই শ্রেণিতে বিবেচনা করায় নীতিগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের প্রধান উৎসই হলো টিএ অথবা আরএ।
অন্যদিকে, কোনো দায়িত্ব ছাড়াই শুধু বৃত্তি প্রদান করা উত্তর আমেরিকার গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে টিএ বা আরএ-কে চাকরি হিসেবে গণ্য করলে বাস্তবে উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত পিএইচডি প্রোগ্রামই প্রেষণের আওতার বাইরে চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রেষণ না দিলে উত্তর আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য নীতিটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
রবিউল ইসলাম: গবেষক
- বিষয় :
- স্কলারশিপ