সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্য
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৭ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১০:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক স্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভিত্তি তৈরি করে দেয় এই প্রাথমিক শিক্ষা। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত উন্নত, সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার দ্রুত ঘটেছে। বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি, শিক্ষার ধারাকে দুর্বল করে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতা যাচাই করার জন্য মৌলিক স্বাক্ষরতাজ্ঞান ও মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান যাচাই শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম গ্রহণের পর থেকে মাঠ পর্যায়ের এটিইওরা প্রতিনিয়ত শিশুদের শিখন ঘাটতি এবং পারদর্শিতার স্তর নির্ণয় করছেন। শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার দেশের ১৫০টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী জানুয়ারি থেকে তা সারাদেশে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জরুরি মনিটরিং এবং মেন্টরিং কার্যক্রম। এ কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা; বিশেষ করে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা (এটিইও)। তথ্যমতে, এটিইও পদ বর্তমানে ২৬০৭টি। বিভিন্ন কারণে পদশূন্য সহস্রাধিক। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি দরকার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রেষণা প্রদান।
১৯৯০ সালের আগস্টে এটিইও পদটি দ্বিতীয় শ্রেণি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধি সংশোধন করে ১৯৯৪ সালে পদটি দশম গ্রেড করা হয়। দীর্ঘ ৩৬ বছরে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নয়ন হয়ে দশম গ্রেড হলেও এটিইওদের গ্রেডের কোনো উন্নয়ন হয়নি। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পদকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও এটিইও পদটি দ্বিতীয় শ্রেণি রয়ে গেছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৮ গ্রেড থেকে কয়েক ধাপে ১১ গ্রেড হওয়ার দ্বারপ্রান্তে নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের পদকে দশম গ্রেড ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ এসব শিক্ষককে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদের সমগ্রেডে রাখা হয়েছে। সমগ্রেডে থাকা প্রধান শিক্ষকদের পাঠদান পর্যবেক্ষণ ও ফিডব্যাক প্রদান সমগ্রেডের এটিইওরা কীভাবে করবেন, কতটুকু ফলপ্রসূ হবে এ বিষয়টি সরকার চিন্তা করছে না। তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে শিশুদের এই দুর্বলতা দূরীকরণে কতটুকু সফলতা আসবে তা অনুমেয়।
বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে শিক্ষকদের মোটিভেশন দেওয়ার চেষ্টা প্রশংসার দাবিদার। এখন সময় এসেছে, শিক্ষকদের পাশাপাশি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদটি দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে ভাবতে হবে। সামষ্টিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সম্প্রদায়কে অবহেলায় রেখে তাদের অধীন শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেলে প্রতিষ্ঠিত করে প্রকৃত উন্নতি হবে কি? তাই সরকার এটিইওদের নবম গ্রেড ও শতভাগ পদোন্নতি প্রদান করলে প্রাথমিক শিক্ষা আরও বেগবান হবে।
- বিষয় :
- শিক্ষা