ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেসিপের চাকরি রাজস্বকরণ হোক

সেসিপের চাকরি রাজস্বকরণ হোক
×

মো. শাহাদাত হোসেন 

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৮ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | ১০:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা সংস্কারের প্রকৃত যুদ্ধ হয় প্রত্যন্ত গ্রামের শ্রেণিকক্ষে, যেখানে একজন শিক্ষক প্রতিদিন চল্লিশ-পঞ্চাশজন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণ করেন। সেই শিক্ষক যদি একাডেমিকভাবে একা হয়ে যান, যদি তাঁর পাশে কোনো দক্ষ পরামর্শক, প্রশিক্ষক, গবেষক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়ক না থাকে, তাহলে সর্বোত্তম শিক্ষানীতিও ধীরে ধীরে কাগজের দলিলে পরিণত হয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম-সেসিপের আওতায় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী পরিদর্শক, গবেষণা কর্মকর্তা, ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর এবং সহকারী প্রোগ্রামার পদগুলো সৃষ্টি করা হয়েছিল। এগুলো কোনো প্রকল্পের আনুষঙ্গিক পদ নয়; এগুলো বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার একাডেমিক স্নায়ুতন্ত্র।

যে শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষ কেউ দেখে না, পাঠদানের গুণগত মান কেউ বিশ্লেষণ করে না, প্রশিক্ষণের প্রভাব কেউ মূল্যায়ন করে না, গবেষণার ফল কেউ নীতিতে রূপ দেয় না এবং প্রযুক্তিগত তথ্যব্যবস্থাকে কেউ সচল রাখে না–সেই শিক্ষাব্যবস্থায় কেবল ভবন বৃদ্ধি পায়; শিক্ষার মান নয়।

একজন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এমন একজন নেতা, যিনি শিক্ষককে নিয়ন্ত্রণ করেন না; সক্ষম করে তোলেন। তিনি ভুল ধরেন না; সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। তাঁর হাতে থাকে না শাস্তির ক্ষমতা; থাকে পেশাগত উন্নয়নের দিকনির্দেশনা। তিনি যখন একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন, তখন তিনি শুধু পাঠদান দেখেন না; তিনি দেখেন–শিক্ষার্থী প্রশ্ন করছে কিনা? দুর্বল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে কিনা? শিক্ষক মুখস্থ নয়, চিন্তা শেখাচ্ছেন কিনা? ইত্যাদি অর্থাৎ তিনি একজন শিক্ষকের নয়, একটি শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের সহযাত্রী।

যেখানে একাডেমিক সুপারভাইজার উন্নয়নের সহচর, সেখানে সহকারী পরিদর্শক মাননিশ্চয়তার প্রহরী। এই জবাবদিহিতার সাংগঠনিক রূপই সহকারী পরিদর্শক। আর গবেষণা কর্মকর্তার গবেষণার প্রতিটি প্রতিবেদন ভবিষ্যতের শিক্ষা পরিকল্পনার ভিত্তিপ্রস্তর। পাশাপাশি ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটরের পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, তাঁর অনুসরণমূলক একটি পরিদর্শন, তাঁর দেওয়া একটি একাডেমিক পরামর্শ–হাজারো শিক্ষার্থীর শেখার অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে। একইসঙ্গে সহকারী প্রোগ্রামার ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার অদৃশ্য নির্মাতা।

সেসিপের এই জনবলকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তির চাকরি রক্ষার প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রশ্ন। যদি সরকার মনে করে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্থায়ী প্রয়োজন, একাডেমিক তদারকি স্থায়ী প্রয়োজন, শিক্ষা গবেষণা স্থায়ী প্রয়োজন, ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থাপনা স্থায়ী প্রয়োজন, বিদ্যালয়ভিত্তিক মাননিশ্চয়তা স্থায়ী প্রয়োজন, তাহলে এসব দায়িত্ব পালনকারী জনবলও স্থায়ী হতে হবে। 

মো. শাহাদাত হোসেন: ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর, সেসিপ এবং পিএইচডি গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
 

আরও পড়ুন

×