যানজট নিরসনে চাই কঠোর তদারকি
খান ইয়ামিন
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানী ঢাকার যানজট নাগরিক জীবনের নিত্যদিনের এক বাস্তবতা। প্রতিদিন লাখো মানুষের কর্মঘণ্টা সড়কেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল। এসব গাড়ি প্রায়ই রাস্তার মাঝে বিকল হয়ে পড়ে, ধীরগতিতে চলে কিংবা হঠাৎ থেমে যায়; যা পুরো সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। একটি বিকল বাস বা ট্রাক কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি করতে সক্ষম। সমস্যা শুধু ফিটনেসে সীমাবদ্ধ নয়। বহু যানবাহনের নেই বৈধ রুট পারমিট বা লাইসেন্স। ফলে এগুলো যততত্র চলাচল করে, নির্দিষ্ট লেন মেনে চলে না। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন না থাকায় এগুলো মূল সড়কে বড় যানবাহনের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। যেখানে সেখানে থামে, যা যানজট আরও ঘনীভূত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে সবার আগে প্রয়োজন কঠোর ফিটনেস পরীক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করলে অনুপযুক্ত গাড়ি সড়কে নামার আগেই আটকানো সম্ভব। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন চালক ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পৃথক লেন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে বাসের জন্য নির্দিষ্ট লেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার জন্য পৃথক লেন এবং দ্রুতগতির গাড়ির জন্য আলাদা লেন থাকলে সড়কের শৃঙ্খলা অনেকাংশে ফিরে আসবে। এতে একদিকে যেমন গতি বাড়বে, তেমনি দুর্ঘটনার হারও কমবে।
তৃতীয়ত, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করে ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি শনাক্ত করা যেতে পারে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই এসব গাড়ি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি জরিমানা আদায় প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কঠোর করতে হবে, যাতে মালিকরা ফিটনেস সনদ নবায়নে বাধ্য হন। সব শেষে, ঢাকার যানজট নিরসনে শুধু রাস্তা সম্প্রসারণ বা ফ্লাইওভার নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামগ্রিক পরিকল্পনা, যেখানে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ, লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা কঠোরকরণ, পৃথক লেন প্রবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি একসঙ্গে কাজ করবে। তবেই রাজধানীর মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা রাস্তায় নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে এবং শহরের গতিশীলতা ফিরে আসবে।
খান ইয়ামিন: ২ নং হাবেলী গোপালপুর,
সদর ফরিদপুর
- বিষয় :
- যানজট