বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার প্যানেল
আশিস রহমান
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৩ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে বর্ষা শেষ হয়ে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিংবা শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎসংকট এক পরিচিত ও ভোগান্তির চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধান কি শুধু নতুন নতুন পাওয়ার প্লান্ট বানানো আর আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভর করা? মোটেও না। সূর্য থেকে যে অফুরন্ত প্রাকৃতিক শক্তি আমরা বিনামূল্যে পাই, তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের বিদ্যুৎসংকট অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সোলার প্যানেলে সরকারি ভর্তুকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ কিস্তিতে সোলার সিস্টেম বিক্রির ব্যবস্থা করা।
সরকার যদি সাধারণ মানুষের জন্য এই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়, তবে দেশের প্রতিটি বাড়ি একেকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। বিষয়টি খুব জটিল কিছু নয়, সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে এটি ‘অন-গ্রিড’ (On-Grid) বা ‘নেট মিটারিং’ সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। ধরুন, কোনো একটি পরিবারের দৈনিক নিজস্ব চাহিদা মেটাতে এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। সেই পরিবারটি যদি দুই কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ সেটআপ বসায়, তবে তাদের চাহিদা পূরণ করে বাকি এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তারা জাতীয় গ্রিডে, অর্থাৎ সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবে।
এই ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো, একদিকে পরিবারটির বিদ্যুতের পেছনে মাসিক কোনো খরচ থাকবে না, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে তারা প্রতি মাসে বাড়তি আয় করতে পারবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য আয়ের একটি নতুন ও টেকসই উৎস হয়ে উঠবে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর থেকে জাতীয় সরবরাহ ঘাটতির চাপ কমবে, অন্যদিকে আমদানীকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে সরকারের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।
তাই জাতীয় স্বার্থে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সহজলভ্য করা জরুরি। স্বল্প সুদে ও দীর্ঘমেয়াদি সহজ কিস্তিতে সোলার সেটআপ কেনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকারের অনতিবিলম্বে যুগোপযোগী নীতিমালা ও প্রণোদনা ঘোষণা করা উচিত।
আশিস রহমান: উদ্যোক্তা ও পরিবেশকর্মী
[email protected]
- বিষয় :
- বিদ্যুৎ