ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শতবর্ষে টেলিভিশন

জাদুর বাক্সের একাল সেকাল

জাদুর বাক্সের একাল সেকাল
×

আশরাফুল ইসলাম আকাশ

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৬ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

টেলিভিশনের বয়স শতবছর পেরোল। গত এক শতাব্দীতে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি। প্রযুক্তির কল্যাণে টেরেস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট ও স্যাটেলাইট কেবলের ছোঁয়া পেয়েছে জাদুর বাক্সটি। অডিও-ভিডিও প্রচারের অন্যতম এ মাধ্যমটির একাল-সেকাল নিয়ে লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ
------------------------------------------------------------

২১ নভেম্বর। প্রতি বছর এই দিনটি ‘বিশ্ব টেলিভিশন দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হয়। যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে টেলিভিশনের ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে ১৯৬৬ সালে দিবসটি ঘোষণা করে জাতিসংঘ। অবশ্য এই জাদুর বাক্সের ইতিকথা জানতে আরও পেছনে ফিরতে হবে।

উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের কথা। এ সময়টাতে ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টেলিভিশন উন্নয়নে গবেষণায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছে। ১৯২৫ সালে সবাইকে চমকে দিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড। তাঁর হাত ধরে মানবসভ্যতায় এলো প্রথম মেকানিক্যাল টেলিভিশন। 

মজার ব্যাপার–লোগি বেয়ার্ডের আবিষ্কারের দুই বছরের মাথায় রীতিমতো বিস্ময় নিয়ে হাজির হলেন মার্কিন আবিষ্কারক ফাইলো ফার্নসওয়ার্থ। এ উদ্ভাবক ১৯২৭ সালে ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্যবহার করে অডিও-ভিডিও প্রথম ট্রান্সমিট করেন। তাতেই বাজিমাত। ফাইলোর উদ্ভাবিত প্যাটেন্টই পরবর্তী সময়ে আধুনিক টিভির ভিত্তি গড়ে দেয়। লোগি বেয়ার্ড ‘টেলিভিশনের জনক’ হলেও ফাইলোকে ‘ইলেকট্রনিক টেলিভিশনের জনক’ বলা হয়।

১৯৩৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু করে বিবিসি। এর চার বছরের মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে টিভির সম্প্রচার শুরু হয়। এর পঁচিশ বছর পর অবিভক্ত পাকিস্তানে টেলিভিশন আসে। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক পণ্যটি আসে। ছয় কিলোওয়াটের একটা ট্রান্সমিটার স্থাপনের মধ্য দিয়ে ঢাকা স্টেশনে টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগমুহূর্তে দেশের প্রধান প্রধান কয়েকটি জেলায় টিভি পৌঁছেছিল। এর মধ্যে কেউ কেউ পণ্যটি কেনাবেচা করতেন। তবে সেই সংখ্যাটি ছিল খুব কম। তখন কিছু টিভি স্টক করেছিল বগুড়ার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিচিত্রা ইলেকট্রনিকস। এর স্বত্বাধিকারী আব্দুর রউফের হাত ধরে দেশের পুরোনো এই জেলায় টিভি আসে। পরে তাঁর বাড়িতেও বসানো হয় পিকচার টিউবের বড় বাক্সের টেলিভিশন। প্রয়াত এ ব্যবসায়ীর সন্তান সোহেল রহমান বলেন, ‘আমাদের বাসায় যখন টিভি আনা হলো, তখন আমরা বেশ ছোট ছিলাম। ১০-১২ বছরের বলতে পারেন। পুরো এলাকায় তখন আমাদের বাড়িতেই শুধু টিভি ছিল। সন্ধ্যা নামলেই এলাকার মানুষজন আমাদের উঠানে ভিড় করতেন। মাঝেমধ্যে ছবি চলে যেত, তখন চিলেকোঠায় উঠে অ্যান্টেনা নাড়িয়ে ঠিক করতাম।’

তথ্যমতে, ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত টিভিগুলো ছিল টেরিস্ট্রিয়াল ট্রান্সমিশন সিস্টেমের। তবে ১৯৯৬ সালে দেশের টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন আসে। ষাটের দশক থেকে একুশ শতকের প্রাক্কালে টেরিস্ট্রিয়াল থেকে স্যাটেলাইট এবং সবশেষে স্যাটেলাইট কেবল সংযুক্ত হয় টেলিভিশনে।

গত কয়েক বছরে টেলিভিশনের ধারায় বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ঘরে ঘরে সেট-টপ বক্স ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বড় পিকচার টিউব ধীরে ধীরে ছোট হয়ে তা এলসিডিতে রূপান্তর হয়। তা এখন একেবারেই পাতলা, যাকে বলা হচ্ছে এলইডি। আগে যে টেরিস্ট্রিয়াল সিগন্যাল ব্যবহার হতো সেটির সীমা ছিল ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকায় সাবস্টেশন করা হতো। টেক ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য বলছে, আগামী বিশ্বে টিভি চলে আসবে হাতের মুঠোয়। ইতোমধ্যে ইন্টারনেটভিত্তিক আইপি টিভির প্রচলন শুরু হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এই যন্ত্রের অবস্থান নেবে কোনো সোশ্যাল কিংবা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। এখন যা অনেকটাই দৃশ্যমান।

আরও পড়ুন

×