ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ভেষজ তথ্যভান্ডার

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ভেষজ তথ্যভান্ডার
×

তথ্যভান্ডার গড়ে তোলায় এই দলটি নেতৃত্ব দেয়

মারসিফুল আলম রিমন

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৫ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ২১:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলার মাটি ভেষজের ঘাঁটি। উঠানের কোণে থানকুনির ঝোপ, বাড়ির পেছনে নিমগাছের ছায়া, আঙিনায় তুলসীর সবুজ–এসবই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহন করে এসেছে এক নীরব চিকিৎসাশাস্ত্র। কবিরাজের হাতে বাটা পাতা, দাদির দেওয়া পাঁচন কিংবা মায়ের রান্নাঘরের মসলা। লোকচিকিৎসার এই ধারা মুখে মুখে বয়ে এসেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, কোনো লিখিত দলিল ছাড়াই।

এই সবুজ ঐতিহ্যের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রসায়ন, কোন পাতায় কোন যৌগ আর সেই যৌগ কীভাবে সারিয়ে তোলে শরীর– তার বিজ্ঞানভিত্তিক হদিস এতদিন অনেকটা অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছিল। ঐতিহ্যের এই জ্ঞানভান্ডার আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রকাশ করছে দেশের প্রথম বায়োইনফরমেটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স লিমিটেড’-এর গবেষণা শাখা ‘ডন আই ল্যাব’। সম্প্রতি তারা প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশি মেডিসিনাল প্লান্টস ফাইটোকেমিক্যালস ডেটাবেজ’, সংক্ষেপে ‘বিএমপিপিডি’।

দেশের সাত শতাধিক ঔষধি উদ্ভিদের তথ্য নিখুঁত পরিশ্রমে সংকলিত হয়েছে এই উপাত্তভান্ডারে। প্রতিটি উদ্ভিদের পেছনে যুক্ত হয়েছে তার আণবিক ও রাসায়নিক পরিচয়। এসব উদ্ভিদ থেকে পাওয়া প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার ৪০০টি ফাইটোকেমিক্যাল এন্ট্রি জায়গা পেয়েছে এখানে; যার মধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০টি সম্পূর্ণ অনন্য রাসায়নিক যৌগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রায় দুই বছরের নিরলস গবেষণায় প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে একেকটি তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও পরিশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল এই ডেটাবেজ। কাজটি সময়সাপেক্ষ হলেও এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এই গবেষণা উদ্যোগের দলনেতা এস. কে. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘প্রকৃতি শুরু থেকেই যে ভাষায় কথা বলে এসেছে, তারই আধুনিক বৈজ্ঞানিক রূপ বায়োইনফরমেটিক্স। বিএমপিপিডির প্রতিটি যৌগের মধ্যে লুকিয়ে আছে একেকটি সম্ভাব্য জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। দক্ষিণ এশিয়ার ঔষধি ঐতিহ্যকে বায়োইনফরম্যাটিক্সের শক্তিতে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এখনই সময় এবং সেই যাত্রা বাংলাদেশ থেকেই শুরু হচ্ছে।’

এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জৈবপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পের গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি এক বিনিয়োগ হয়ে থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

×