ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাবার যখন রোমাঞ্চকর খেলা

খাবার যখন রোমাঞ্চকর খেলা
×

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কাঁপানো ‘স্পিড ইটার’ লিয়া শাটকেভার

শাহেরীন আরাফাত

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪১ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

খাবারের টেবিল সাধারণত তৃপ্তি, অবসর আর আড্ডার জায়গা কিন্তু যুক্তরাজ্যের তরুণী লিয়া শাটকেভারের কাছে এটি আক্ষরিক অর্থে এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ‘সময়’। দ্রুত গোগ্রাসে খাবার গিলে ফেলার এই অদ্ভুত বিষয়টিকে তিনি কেবল শখ বা পাগলামির পর্যায়ে আটকে রাখেননি; বরং একে রীতিমতো পরিণত করেছেন এক শিল্পে। স্পিড ইটার বা দ্রুতগতিতে খাবার খাদক হিসেবে লিয়া শাটকেভার আবারও খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি নিজের হারানো বুরিটো (একটি পাতলা গমের রুটি বা টরটিলার ভেতরে মাংস, মটরশুঁটি, চাল, চিজ ও নানা রকম মসলা দিয়ে শক্ত করে রোল বা প্যাঁচিয়ে তৈরি করা মেক্সিকান খাবার) খাওয়ার রেকর্ডটি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েছেন। এখন পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ৪২টি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক লিয়া। 

গত ৪ আগস্ট লন্ডনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সদরদপ্তরে হাজির হয়েছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল বেশ কিছু সুস্বাদু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা; যার মধ্যে একটি হারানো মুকুট পুনরুদ্ধারের অদম্য জেদও কাজ করছিল তাঁর ভেতর। সেখানে লিয়া যেন একাই এক ভোজসভার আয়োজক আর তিনিই একমাত্র অতিথি! ওইদিন তিনি ১ মিনিটে সর্বোচ্চ আটটি মিষ্টি চুরোস (জনপ্রিয় স্প্যানিশ ফ্রাই পেস্ট্রি, যা বাইরের দিকে মুচমুচে এবং ভেতরটা নরম হয়) খেয়ে একটি রেকর্ড গড়েন। এরপর মাত্র ১ মিনিটে ৬১৩ গ্রাম (১.৩৫ পাউন্ড) স্ট্রবেরি সাবাড় করে দ্বিতীয় রেকর্ডটি নিজের ঝুলিতে রাখেন। তবে দিনের সবচেয়ে বড় চমকটি তোলা ছিল শেষের জন্য– বচেয়ে কম সময়ে বুরিটো খাওয়ার বিশ্বরেকর্ড পুনরুদ্ধার।

বুরিটো খাওয়ার রেকর্ডের সঙ্গে লিয়ার সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ২০১৯ সাল থেকে এই রেকর্ডটি তাঁর দখলে ছিল। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির মিলানে ‘লো শো দেই রেকর্ড’-এর সেটে মাত্র ৩২.৩৫ সেকেন্ডে একটি বুরিটো খেয়ে নিজের রেকর্ডটি নতুন করে ঝালিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। গল্পের মোড় ঘোরে সে বছরের ২২ অক্টোবর। আরেক কিংবদন্তি মার্কিন ‘স্পিড ইটার’ মিকি সুডো মাত্র ৩১.৪৭ সেকেন্ডে বুরিটো খেয়ে লিয়ার মুকুট ছিনিয়ে নেন। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে হার মেনে নেওয়া লিয়ার স্বভাববিরুদ্ধ। তাই তো এবারের প্রচেষ্টায় নিজের আগের চেয়ে ১.৬ সেকেন্ড সময় বাঁচিয়ে মাত্র ৩০.৭৫ সেকেন্ডে পুরো একটি বুরিটো সাবাড় করে হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি।

পেশাদার স্পিড ইটার হিসেবে লিয়ার শুরুটা কেমন ছিল? সেই গল্প সিনেমাকেও হার মানায়। লিয়া বলেন, ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ভাঙার এই যাত্রার পেছনের গল্পটা এমন, যা বলতে আমি জীবনেও ক্লান্ত হবো না।’

লিয়া তখন শখের বশে ফুড চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভিডিও বানাতেন। একদিন তিনি সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ‘চকলেট অরেঞ্জ’ খাওয়ার একটি অফিসিয়াল রেকর্ডের খোঁজ পান। কৌতূহল থেকে তিনি চেষ্টা করেন, ভিডিও করেন এবং ইউটিউবে আপলোড করে ভুলে যান। চমকপ্রদ ব্যাপার ঘটে যখন ‘ব্রিটেনস ফেভারিট চকলেট’ নামের একটি টিভি শোর নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা চেয়েছিলেন লিয়া যেন একজন বিচারকের সামনে মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করেন। লিয়া সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং সফলভাবে রেকর্ডটি ভেঙে ফেলেন। সে মুহূর্তের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনে এমন বাঁধভাঙা আনন্দ আমি আগে কখনোই অনুভব করিনি। সেই যে রেকর্ডের নেশা মাথায় ঢুকল, আমি আজও সে অনুভূতির পেছনে ছুটছি।’

লিয়া মূলত একজন স্থপতি। স্থাপত্যবিদ্যায় তাঁর একটি সম্মানজনক ডিগ্রি রয়েছে। ভবনের নকশা করার চেয়ে এখন খাবার সাবাড় করার এ ক্যারিয়ারে তিনি বেশি তৃপ্ত।
তিনি বলেন, “আমার ক্যারিয়ারে আমি বেশ সৌভাগ্যবান যে অনেক সুযোগ নিজ থেকে আমার কাছে ধরা দিয়েছে। আমি ছিলাম সেই মানুষ, যার যথেষ্ট ‘ক্ষুধা’ ছিল সেই সুযোগগুলোকে হ্যাঁ বলার।’’

লিয়া নিজেকে একজন ফিটনেস ফ্রিক হিসেবে দাবি করেন। লিয়া বলেন, ছোটবেলায় তিনি বেশ স্থূলকায় ছিলেন। ‘ফিটনেস আমার জীবন, আমার পরিচয় কিন্তু প্রতিযোগিতামূলকভাবে খাওয়া আমার পেশা। আমি এ দুটি জিনিসকে সমান তালে চালিয়ে নিতে পছন্দ করি।’

আরও পড়ুন

×