শিকড়ের সন্ধানে
ড. মাসউদ ইমরান মান্নু অধ্যাপক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মাসউদ ইমরান মান্নু অধ্যাপক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রত্নতত্ত্ব কেবল জাদুঘরে সংরক্ষিত দৃশ্যমান প্রাচীন বস্তুর পাঠ নয়; এটি আমাদের প্রাত্যহিক যাপনে মিশে থাকা ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের’ও (ইনটানজিবল কালচারাল হেরিটেজ) ধারক। শাড়ি বোনার নৈপুণ্য, পিঠার স্বাদ বা লোকজ শিল্পের অন্তর্নিহিত দক্ষতা–এসবই মানবজাতির অমূল্য সম্পদ। ইউনেস্কোর নীতিমালা অনুযায়ী, এই জীবন্ত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কারুশিল্পীর উপযুক্ত সামাজিক স্বীকৃতি ও ‘সাংস্কৃতিক সুরক্ষা’ অপরিহার্য। বৃহত্তর পরিসরে এই সুরক্ষার ভাবনা থেকে উদ্ভব ঘটে ‘সেফগার্ডিং গভর্মেন্টালিটি’-এর মতো তাত্ত্বিক ধারণার।
তবে বিশ্বায়নের এই তুমুল প্রতিযোগিতার যুগে কেবল সাংস্কৃতিক সুরক্ষাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুদৃঢ় বাণিজ্যিক নিরাপত্তা। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা ও ‘ট্রিপস’ চুক্তির যুগে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পণ্যের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ‘ভৌগোলিক নির্দেশক’ বা জিআই স্বত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এই আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি ঐতিহ্যকে টেকসই করতে প্রয়োজন ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির প্রসার। আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি বা লোকজ উপাদানগুলো নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাডেমিয়া বা শিক্ষাঙ্গনের সেতুবন্ধ এক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও আইইউবি-তে ‘হেরিটেজ স্টাডিজ’ পাঠ্যক্রমের আওতায় অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখানে শিক্ষার্থীরা ‘হেরিটেজ ওয়াক’ বা দেশীয় ‘কসপ্লে’-এর মতো আধুনিক পপ-কালচার টুল ব্যবহার করে পূর্বজর শাড়ি, গহনা ও পোশাক গায়ে জড়িয়ে শিকড়ের সংস্কৃতিকে বুকে টেনে নিচ্ছে। তারা নিজস্ব অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সাজপোশাক উদযাপনের আড়ালে ইউনেস্কো বা জিআই-এর তাত্ত্বিক বিষয়গুলো শিখছে এক আনন্দময় উৎসবের আবহে।
ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে এই তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক মেলবন্ধন আমাদের সাংস্কৃতিক সুরক্ষাকে যেমন সুদৃঢ় করবে, তেমনি অচিরে বাংলাদেশের জিডিপিতে সৃজনশীল অর্থনীতির এক বিশাল ও দৃশ্যমান অবদান নিশ্চিত করবে।
- বিষয় :
- গল্প