সবসময় রেগে থাকেন? সমাধানে কী করবেন
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫৫
আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা সবসময় রেগে থাকেন। অনেকেই মনে করেন, এটা তার স্বভাব। বিষয়টা তা নয়। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন-
ভয় পাওয়া
অনেকেই খুব দ্রুত ধরে নেন, রাগ শুধুমাত্র প্রচণ্ড ক্রোধের কারণেই হতে পারে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে রাগ আসলে কোনো কিছু নিয়ে ভয় বা আতঙ্ক থেকেও হতে পারে। নিজের ভালো থাকা নিয়ে চিন্তিত থাকাটা খুবই স্বাভাবিক এবং ঠিক সে কারণেই অনেকেই নিজের ভাবমূর্তি, আত্মসম্মান বা এমনকি অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, এমন কিছু হলে রেগে যান। আবার কখনও কখনও প্রিয় কোনো ব্যক্তির নিরাপত্তা বা অনুভূতি ঝুঁকির মধ্যে পড়লেও ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে।সহজ কথায়, চিন্তিত থাকার মতো বিষয় আপনাকে রাগান্বিত করে তুলতে পারে।
যদি আপনি সারাক্ষণ যা ঘটেনি বা ঘটতে পারে -এমন কিছু নিয়ে ভয়ে থাকেন তাহলে সেটার মুখোমুখি হওয়া ভালো । একবার তা করতে পারলে, আপনি কেবল নিজেকে আরও শক্তিশালীই অনুভব করবেন না, আপনার রাগও কমে যাবে।
উদ্বেগজনিত সমস্যা
মাঝে মাঝে ভয় পাওয়া এক জিনিস, আর জেগে থাকার বেশিরভাগ সময়—কখনও কখনও কোনো কারণ ছাড়াই—ভয় পাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকাল বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ উদ্বেগে ভুগছেন। এর পেছনে মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
সারাক্ষণ উৎকণ্ঠায় ভোগা মানুষ সবার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। এর ফলে তাদের মধ্যে সব ধরনের আবেগের জন্ম হতে পারে— যার মধ্যে রাগ একটি।
হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার উদ্বেগ কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, যেমন যোগব্যায়াম করা, আরামদায়ক স্নান করা, পুরো শরীরে ম্যাসাজ নেওয়া, বই পড়া এবং এসেনশিয়াল অয়েলের ঘ্রাণ নেওয়া। কিন্তু উৎকণ্ঠায় ভোগা যদি নিত্যদিনের হয় তাহলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বেদনাদায়ক অতীত
এক ধরনের উদ্বেগ আছে যা অতীতের কোনো বেদনাদায়ক ঘটনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে — যেমন কোনো নৃশংস মৃত্যু প্রত্যক্ষ করা, জীবন-হুমকিপূর্ণ কোনো শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়া, ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হওয়া, গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ইত্যাদি। একে পিটিএসডি বলা হয়, যার পূর্ণরূপ হলো পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার। যখনই কোনো ঘটনার কারণে কিংবা এমনিতেই সেই স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তখন মানুষ সামান্য কারণেই রেগে ওঠে।
কারও যদি পিটিএসডি নাও থাকে, তারপরও কথায় কথায় রেগে গেলে একজন থেরাপিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া ভালো। তিনি আপনাকে সেই বেদনাদায়ক অতীত কাটিয়ে ওঠার উপায় সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে পারবেন।
অসহায়ত্ব
কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর উপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এটা বুঝে অনেক সময় অসহায় বোধ করতে পারেন। কেউই অসহায় বোধ করতে পছন্দ করে না কারণ এটি কষ্ট দেয়, আর তখন মানুষ একারণেই রেগে যায়।
আপনি হয়তো এমন কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন যা আপনাকে আগের জীবনযাপন থেকে বিরত রাখছে, এ কারণে আপনি অসহায় বোধ করছেন। আবার অনেক সময় সম্পর্কে টানাপোড়ন থাকা সত্ত্বেও যখন মানুষটাকে ছেড়ে যেতে পারেন না তখন আপনার মধ্যে রাগ কাজ করে। আবার যদি মনে হয় কেউ আপনার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে তখন রেগে যান।
মনোচিকিৎসকদের মতে, জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থতি হয় যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এমন পরিস্থিতি মন থেকে মেনে নেওয়াই একমাত্র সমাধান। মানুষেরর জীবনে কখনও কখনও এমন পরিস্থিতিও আসে যখন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা হয়তো তার জীবনকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি মেনে নিলে বা মানিয়ে নিলে রাগ কমে যায়। সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড
- বিষয় :
- রাগ নিয়ন্ত্রণ