ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শহরের শেষ বাড়িটি

শহরের শেষ বাড়িটি
×

সাইফান সানাফ

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাইরে অবিরাম বৃষ্টি। সব স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হঠাৎ দরজার হাতল ঘুরেও খুলল না। জানালাগুলোও যেন অদৃশ্য কোনো শক্তির কবলে। ঘর থেকে বের হওয়ার প্রতিটি পথ মুহূর্তেই অচল। চার সদস্যের একটি পরিবারের কাছে তখন নিজের বাড়িটাই পরিণত হয় সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগারে। কী শক্তি তাদের আটকে রেখেছে? কেনই বা তারা বের হতে পারছে না? উত্তর নেই। আছে শুধু অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা আর টিকে থাকার চেষ্টা। এমনই গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নেটফ্লিক্সের নতুন বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক থ্রিলার ‘দ্য লাস্ট হাউস’। লুই লেতেরিয়েরের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটি আগামীকাল শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে। ‘দ্য লাস্ট হাউস’ ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এমন একটি পরিবার, যারা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নিজেদের বাড়ির ভেতরে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকা পড়ে। শুরুতে ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও দিন গড়াতে থাকে। এক দিন, তিন দিন, এক সপ্তাহ। তারপর মাস, এমনকি বছরও পেরিয়ে যায়। ঘরের দরজা আর খোলে না। জানালাও ভাঙে না। বাইরের পৃথিবী যেন তাদের জন্য চিরতরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে খাবারের মজুত কমতে থাকে, পানির সংকট দেখা দেয়, বিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবনের সব সুবিধা একে একে হারিয়ে যায়। তখন পরিবারটির সামনে একটাই পথ। ঘরে যা আছে, তাই দিয়েই নতুন করে বাঁচার কৌশল খুঁজে বের করা। প্রতিটি জিনিস হয়ে ওঠে মূল্যবান সম্পদ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে তাদের ভবিষ্যৎ। সিনেমায় জেসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কার মনোনীত অভিনেতা ওয়াগনার মৌরা। তাঁর স্ত্রী অ্যানের চরিত্রে গ্রেটা লি। তাঁদের দুই সন্তান রুথ ও গ্রাহামের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইলি চুং ও নোয়া আলেকজান্ডার সসনোভস্কি। সময়ের সঙ্গে চরিত্রগুলোর বয়স বাড়ার অংশে অভিনয় করেছেন এমা হো ও গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। অর্থাৎ ছবিটি শুধু একটি সংকটের মুহূর্ত নয়, দীর্ঘ সময় ধরে বন্দিজীবনের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনও তুলে ধরবে। 
পরিচালক লুই লেতেরিয়েরের ভাষায়, এটি কেবল রহস্য নয়; এটি এমন এক গল্প, যেখানে খাবার ফুরিয়ে আসে, আশা ক্ষীণ হয়ে যায়, আর একটি পরিবারকে একে অপরের ওপর নির্ভর করেই টিকে থাকতে হয়। একই সঙ্গে তারা বোঝার চেষ্টা করে, কোন শক্তি তাদের বন্দি করে রেখেছে এবং মুক্তির কোনো পথ আদৌ আছে কিনা। 
অভিনেত্রী গ্রেটা লি মনে করেন, ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর মানবিক প্রশ্নগুলো। তাঁর কথায়, বেঁচে থাকার গল্প তিনি সবসময়ই পছন্দ করেন, বিশেষ করে যখন সেই গল্পে অপ্রত্যাশিত কোনো মোড় থাকে। এই চলচ্চিত্রও দর্শককে ভাবতে বাধ্য করবে। নিজের ঘরেই যদি হঠাৎ আটকা পড়ে যান, তাহলে কত দিন টিকে থাকতে পারবেন? ঘরের কোন জিনিসগুলো তখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে? আর সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় টিকে থাকবে কি পারিবারিক সম্পর্ক? বাস্তবসম্মত বেঁচে থাকার কৌশল তুলে ধরতে নির্মাতারা এই সিনেমায় যুক্ত করেছেন খ্যাতিমান সারভাইভাল বিশেষজ্ঞ মেগান হাইনকে। তাঁর পরামর্শে তৈরি হয়েছে এমন সব পরিস্থিতি, যেখানে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে নতুন নতুন উপায়ে জীবনধারণের চেষ্টা করতে দেখা যাবে। ফলে ছবির বেঁচে থাকার লড়াই কেবল কল্পনার নয়, বাস্তবতার সঙ্গেও মিল খুঁজে পাবেন দর্শক। 
অভিনেতা ওয়াগনার মৌরার মতে, এই সিনেমাটি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ এই পরিবারের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারবেন। কারণ, সবাই কোনো না কোনো পরিবারের সদস্য। কেউ বাবা, কেউ মা, কেউ সন্তান। সংকটের মুহূর্তে ভালোবাসা, ভয়, দ্বন্দ্ব ও আত্মত্যাগ এসবই মানুষের সহজাত অনুভূতি, যা ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করে।  

আরও পড়ুন

×