ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মানবিকতার সন্ধানে ‘বিইং হিউম্যান’

মানবিকতার সন্ধানে ‘বিইং হিউম্যান’
×
×

দৃশ্য:: ‘বিইং হিউম্যান’

উপমা পারভীন

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

হুইলচেয়ারে বসা একজন নারী। অথচ তাঁর প্রতিবাদের শক্তি নাড়িয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে। রাজনীতিকদের প্রতিশ্রুতি আর দীর্ঘসূত্রতায় ক্লান্ত হয়ে তিনি একসময় বেছে নেন সরাসরি আন্দোলনের পথ। তাঁর নেতৃত্বে ২৬ দিন ধরে একটি সরকারি ভবন দখল করে অবস্থান করেন প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি ছিল একটাই–প্রতিবন্ধী মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলন ও এক নারীর আপসহীন নেতৃত্বের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে হলিউডের সিনেমা ‘বিইং হিউম্যান’। সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন জুডি হিউম্যান। শৈশবে পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই তাঁর স্বপ্ন কিংবা লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেন তিনি। 
১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল ভবনে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় ঐতিহাসিক অবস্থান কর্মসূচি। ২৬ দিন ধরে চলা সে আন্দোলন নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। 
১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাস হয় রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাক্টের ৫০৪ নম্বর ধারা; যার লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী মানুষের সমান সুযোগ ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু আইন পাসের পরও এর বাস্তবায়নে চলছিল গড়িমসি। প্রশাসনের এ দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে রাজপথে নামেন জুডি ও তাঁর সহযোদ্ধারা। তাদের আন্দোলনে অংশ নেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষ। সরকারি ভবনের একটি তলা দখল করে তারা শুরু করেন অবস্থান কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো ফেডারেল ভবনে এটিই ছিল দীর্ঘতম অবস্থান কর্মসূচি।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সিয়ান হেডার। রেবেকা টাউসিগের সঙ্গে যৌথভাবে চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি। এর আগে ‘কোডা’ সিনেমার জন্য ২০২২ সালে অস্কার জিতেছিলেন এ নির্মাতা। তবে ‘বিইং হিউম্যান’ প্রচলিত অর্থে কোনো পূর্ণাঙ্গ জীবনীচিত্র নয়। জুডি হিউম্যানের পুরো জীবন তুলে ধরার পরিবর্তে ১৯৭৭ সালের আন্দোলন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন অধিকারকর্মীর ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে এখানে বড় হয়ে উঠেছে একটি আন্দোলন, তার সংহতি ও সম্মিলিত প্রতিরোধের গল্প। 
সিনেমায় জুডি হিউম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুথ মেডলি। চরিত্রটির দৃঢ়তা, স্পষ্টবাদিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে মার্ক রাফালো অভিনয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণবিষয়ক সচিব জোসেফ ক্যালিফানোর চরিত্রে। ১২৭ মিনিটের সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন ডিলান ও’ব্রায়েন, ম্যাডেলিন ডেল্প, রবার্টা কলিনড্রেজ ও জন বিভার্স। 
সিনেমাটির অন্যতম শক্তিশালী দিক এর সম্মিলিত লড়াইয়ের চিত্রায়ণ। ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার মানুষ কীভাবে এক জায়গায় এসে পরস্পরের শক্তি হয়ে ওঠেন, তা গুরুত্ব পেয়েছে গল্পে। আন্দোলনের সময় তাদের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ, একে অন্যের প্রতি সহযোগিতা এবং অধিকার আদায়ের দৃঢ়তা দর্শককে ভাবাবে। 
২০২৩ সালে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান জুডি হিউম্যান। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন তিনি। এ কারণে তাঁকে বলা হতো ‘প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের জননী’। তাঁর আত্মজীবনীর নামও ‘বিইং হিউম্যান’। সিনেমাটি সেই মানুষটির লড়াইকে নতুন করে সামনে এনেছে। সিনেমাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯ থেকে ১১ নভেম্বর নির্বাচিত প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর ১৩ নভেম্বর থেকে অ্যাপল টিভিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×