পপের দুনিয়ায় নতুন সেনসেশন
সাইফান সানাফ
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
পপসংগীতের দুনিয়ায় প্রতিনিয়তই নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটে। কেউ কণ্ঠের জাদুতে, কেউ গানের কথায়, আবার কেউ মঞ্চে পারফরম্যান্সের বৈচিত্র্যে জায়গা করে নেন শ্রোতার মনে। তবে এই প্রতিযোগিতার ভিড়ে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন কানাডীয় সংগীতশিল্পী টেট ম্যাকরে। গান, নাচ ও মঞ্চ পরিবেশনায় তাঁর বহুমাত্রিক উপস্থিতি তাঁকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতি। অল্প সময়েই পপসংগীতের আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন এই তরুণ শিল্পী।
২০০৩ সালের ১ জুলাই কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরিতে জন্ম টেট ম্যাকরের। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রথম পরিচিতি পান তিনি। পরে সংগীতের প্রতি ঝোঁক তাঁকে নিয়ে আসে গানের জগতে। নাচের অভিজ্ঞতা তাঁর সংগীত পরিবেশনাকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। ফলে কেবল কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, একজন পারফরমার হিসেবেও দর্শকদের নজর কেড়েছেন তিনি। ২০২০ সালে প্রকাশ হওয়া ‘ইউ ব্রোক মি ফার্স্ট’ গানটি তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে। গানটি আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে ১৭ নম্বরে জায়গা করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি বাড়তে থাকে টেটের। গানটি ছিল ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর ইপি ‘টু ইয়াং টু বি স্যাড’-এর। এই ইপিই প্রথমবারের মতো তাঁকে বিলবোর্ড ২০০ অ্যালবাম চার্টে জায়গা করে দেয়।
এরপর একের পর এক গান প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজের একটা সংগীতভাষা তৈরি করেছেন টেট। তাঁর গানে পপ, ড্যান্স-পপ ও ইলেকট্রনিক সংগীতের মিশ্রণ যেমন রয়েছে, তেমনি আছে সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, আবেগ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গল্প। সহজে মনে থাকার মতো সুরের সঙ্গে সমসাময়িক তরুণ প্রজন্মের অনুভূতিকে মিলিয়ে দিতে পারেন তিনি। এ কারণেই তাঁর গান তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
২০২৫ সাল ছিল টেট ম্যাকরের ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বছর। মার্কিন সংগীতশিল্পী মরগান ওয়ালেনের সঙ্গে তাঁর দ্বৈত গান ‘হোয়াট আই ওয়ান্ট’ বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে। এটি ছিল এই চার্টে তাঁর প্রথম গান। একই বছর প্রকাশিত অ্যালবাম ‘সো ক্লোজ টু হোয়াট’ বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নেয়। অ্যালবাম চার্টে এটিই ছিল তাঁর প্রথম শীর্ষস্থান অর্জন। ফলে একক গান ও অ্যালবাম–দুই ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন এই শিল্পী।
২০২৬ সালেও টেটের সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিলবোর্ড উইমেন ইন মিউজিক আয়োজনে তাঁকে ‘হিটমেকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই বছর ‘এফ ওয়ান’ সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য গাওয়া ‘জাস্ট কিপ ওয়াচিং’ গানটির সুবাদে গ্র্যামি মনোনয়নও পেয়েছেন তিনি। সেরা ড্যান্স পপ রেকর্ডিং বিভাগে এটি ছিল তাঁর প্রথম গ্র্যামি মনোনয়ন।
টেটের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ তাঁর গানের উপস্থাপনভঙ্গি। ব্যক্তিগত অনুভূতি, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা আত্মবিশ্বাসের গল্প–সবই তিনি গানে তুলে ধরেন নিজস্ব ভঙ্গিতে। তাঁর গানে তরুণ বয়সের আবেগ যেমন জায়গা পায়, তেমনি থাকে নিজের অবস্থান তৈরি করার প্রত্যয়।
সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী। নতুন গান, মিউজিক ভিডিও কিংবা মঞ্চের পরিবেশনা–প্রতিটি বিষয় নিয়েই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় আগ্রহ। সংগীতের পাশাপাশি নাচের দক্ষতা তাঁকে লাইভ পারফরম্যান্সেও এগিয়ে রাখছে। ফলে শ্রোতাদের কাছে তিনি কেবল গান শোনার শিল্পী নন, বরং দেখার মতো একজন পারফরমারও।
টেট ম্যাকরের সাফল্যের পেছনে শুধু জনপ্রিয় গান নয়, রয়েছে নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা। নৃত্যশিল্পী হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগাচ্ছেন সংগীত পরিবেশনায়। মঞ্চে তাঁর সাবলীল চলন, কোরিওগ্রাফি এবং গানের সঙ্গে পারফরম্যান্সের সমন্বয় তাঁকে সমসাময়িক পপশিল্পীদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছে। একদিকে টপচার্টের শীর্ষস্থান, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি–সব মিলিয়ে টেট ম্যাকরের ক্যারিয়ার এখন ঊর্ধ্বমুখী। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই পপসংগীতের বড় পরিসরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। সামনে তাঁর সংগীতযাত্রা কোন নতুন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা। তবে এটুকু স্পষ্ট, পপের দুনিয়ায় নতুন সেনসেশন হিসেবে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছেন টেট ম্যাকরে।
- বিষয় :
- বিনোদন