ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সংবাদমাধ্যম

সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
×

ফাইল ছবি

--

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০ | ১৪:৫৯

এ দেশে সাংবাদিকতার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বস্তুত নানা নির্যাতন, হুমকি, মামলা, এমনকি হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়েই আমাদের সংবাদমাধ্যম দায়িত্ব পালন করে যায়। সাংবাদিকতার এই কণ্টকাকীর্ণ পথ সমকালের জন্যও প্রতিদিনের সংগ্রাম; আমাদের দু'জন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন দুর্বৃত্তের হাতে, মামলা ও হুমকিও মোকাবিলা করতে হয় প্রায়শই। কিন্তু গত এক সপ্তাহে তিনজন সাংবাদিকের ওপর যেভাবে নিখোঁজ হওয়ার অনিশ্চয়তা, মামলার হুমকি ও নির্যাতনের খÿ নেমে এসেছে, তা বাড়তি উদ্বেগের। এত অল্প সময়ে এতজন সাংবাদিক এভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আমাদের জানা নেই। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি, আলোচিত ও বহিস্কৃত যুবলীগ নেত্রীর গ্রেপ্তার ও সংশ্নিষ্ট ঘটনাবলি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের দায়ে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ওই তালিকায় থাকা ফটো সাংবাদিক ও 'পক্ষকাল' ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে মামলা দায়েরের পরদিন থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইতোমধ্যে যদিও তার পরিবারের পক্ষে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, কাজলের খোঁজ মেলেনি। এই দুই অঘটনের রেশ কাটতে না কাটতেই আমরা দেখছি, বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিকে শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য নির্যাতন এবং প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য নাগরিকদের প্রবল সমালোচনার মুখে রোববার ওই জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং সাংবাদিককে জামিন দেওয়া হয়েছে- এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরেকবার স্পষ্ট হয়েছে। আমরা দেখতে চাইব, অবিমৃশ্যকারী জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব বিভাগীয় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে জরুরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতেই থাকবে। মানবজমিন সম্পাদকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে 'মানহানি' মামলাও নিঃসন্দেহে প্রশ্নবোধক। আরও উদ্বেগের বিষয়, মানবজমিন যদিও মূলত মুদ্রিত সংবাদমাধ্যম, মামলাটি করা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। আমরা মনে করি, সংশ্নিষ্ট প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মামলাকারী সংসদ সদস্যের ক্ষোভ থাকলে তিনি প্রথমে প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতেন। আবার এই মামলার আসামি ফটো সাংবাদিক কাজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আরও অগ্রহণযোগ্য। এর নেপথ্যে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে উদ্ধার ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

আমরা দেখতে চাই, কাজলকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কথায় কথায় মামলা করার প্রবণতাও পরিহার করা উচিত। বিশেষত ক্ষমতাসীনদের মনে রাখতে হবে, সংবাদমাধ্যম কারও প্রতিপক্ষ নয়। বরং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠারই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমই পারে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে সহায়তা করতে। সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আঘাত আসলে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপরই আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনকে আরও আন্তরিক ও সক্রিয় দেখতে চাই আমরা।

আরও পড়ুন

×