ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

প্রতিবন্ধী শিশু

এখনও কাটেনি আঁধার

এখনও কাটেনি আঁধার
×

--

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২০ | ১৫:০০

রাষ্ট্র যেখানে প্রতিবন্ধীবান্ধব, সেখানে সমাজের কিছু অংশ ও পরিবার এখনও কতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন- এরই চিত্র ফুটে উঠেছে রোববার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। পাবনার চাটমোহরের কাটাখালী গ্রামের গৃহবধূ দুলালী খাতুন প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদানের কারণে ঠাঁই হয়নি তার শ্বশুরালয়ে। দুই বছর ধরে তিনি তার পিত্রালয়ে মানসিক ও আর্থিক কষ্টে দিনযাপন করছেন। প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদানের জন্য পরিবার থেকে পরিত্যক্ত হয়েছেন দুলালী। এ কোন অন্ধকারের গ্রাসে দুটি জীবন বিপন্ন-বিপর্যস্ত? সমাজের কেউই অবহেলিত নয়। সবারই রয়েছে মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বঞ্চনার শিকার এখনও অনেকেই। এরই দৃষ্টান্ত দুলালী ও তার শিশুপুত্র দুর্জয়। চিকিৎসকদের অভিমত, মায়ের অপুষ্টির কারণে দুর্জয় প্রতিবন্ধী হয়েছে। একজন গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিসহ পরিচর্যার দায় বর্তায় সর্বাগ্রে স্বামীর ওপর। দুলালীর স্বামী তা তো করেনইনি, উপরন্তু যে অমানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিবন্ধীদের জীবনমান ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন, সংজ্ঞায়িত ও শ্রেণিবিন্যাসও করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা-সচেতনতাও বেড়েছে। তাদেরকে সমাজের বোঝা মনে করার কারণ নেই। এমন অনেক নজির রয়েছে, প্রতিবন্ধী অনেকেই জীবনের প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে বহুক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। তাদের অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় একজন বাবা ও পরিবারের অন্যরা প্রতিবন্ধী শিশু ও তার মায়ের প্রতি যে আচরণ করেছে, এর বিহিত হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সমকাল প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে দুলালী খাতুনের শ্বশুর যে যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন, তা নেহাত খোঁড়া। দুলালীর স্বামী ও তার পরিবার অমানবিকতার যে জঘন্য নজির স্থাপন করেছে, এর যথাযথ প্রতিকারেই রয়েছে প্রতিবিধান। আমরা মনে করি, এমন কাণ্ড গুরুতর অপরাধেরও শামিল। শিশু দুর্জয়ের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


আরও পড়ুন

×