পাক-ভারতে বোমা বিস্ফোরণের চাপান-উতোর
ডান স্ট্রাম্ফ, তুবা খান, সুধী রঞ্জন সেন
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:১৯ | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারত ও পাকিস্তানের রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভয়ানক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। উভয় ঘটনায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন; অনেকেই আহত। ভারত সরকার সোমবার নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরণের কারণ যখন অনুসন্ধান করছিল, তখনই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বিস্ফোরণ ঘটে। নয়াদিল্লিতে সোমবার সন্ধ্যায় একটি গাড়ি ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ট্রাফিক সিগন্যালে ধীরে চলার সময় বিস্ফোরিত হয়। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামাবাদের জনাকীর্ণ আদালত ভবনের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। স্বভাবতই এ ঘটনায় পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইসলামাবাদে অবস্থিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে ভারতকে অভিযুক্ত করে। সেখানে মঙ্গলবারের ঘটনাকে তাদের ‘অঞ্চলে ভারতীয় রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণগুলোর একটি’ বলে অভিহিত করা হয়। যদিও বিবৃতিতে বিস্ফোরণের সঙ্গে দিল্লির কোনো সংযোগের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং এ ধরনের অভিযোগ ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবেই করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানি তালেবানের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ জামায়াত-উল-আহরার গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও আজবগুবি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দেশটির নেতৃত্বকে ‘স্পষ্টতই বিকারগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। রণধীর জয়সওয়াল লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের এ কৌশল অনুমিতই ছিল। দেশটি ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প তৈরি করে তাদের জনগণের দৃষ্টি দেশটির অভ্যন্তরে সামরিক-অনুপ্রাণিত সাংবিধানিক সংকট এবং ক্ষমতা দখলের ঘটনা থেকে অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছে।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি বিস্ফোরণের পেছনের ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, তবে কোনো সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ করেননি কিংবা এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেও আখ্যায়িত করেননি। চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তান-ভারতের মধ্যকার চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর থেকে সন্দেহ গভীরতর হয়েছে। ওই সংঘর্ষে উভয় দেশ একে অপরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, কামান এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে।
পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে ১৯৭১ সালে যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তার পর থেকে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল এবারের মে মাসের সংঘাত। বস্তুত সংঘাতের সূচনা হয় কাশ্মীরের বিবদমান অঞ্চলে ভারতীয় পর্যটকদের ওপর হামলার মাধ্যমে। নয়াদিল্লি সে ঘটনার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে।
লন্ডনের সোয়াস সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুবীর সিনহা এই সপ্তাহের হামলার ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগের অভিযানের সীমিত সাফল্য সত্ত্বেও ভারতে অনেকের মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষ দেখার আগ্রহ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের একটি বড় অংশের কাছে সেই হামলা ছিল এক অসাধারণ সাফল্য’, যেখানে পাকিস্তানের প্রধান স্টক সূচক আগের পতনের ধারাবাহিকতায় আরও ২.৪ শতাংশ কমে প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
ভারতীয় দায়িত্বশীল, যিনি সেখানে হামলার বিষয়ে খোঁজ রাখছিলেন তাঁর মতে, দিল্লিতে সোমবার যে গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটেছিল সেটি কাশ্মীরের এক বাসিন্দা এনেছিলেন এবং বিস্ফোরণের সময় তিনি গাড়ির ভেতরেই ছিলেন। এদিকে মঙ্গলবারের বিবৃতিতে পাকিস্তান বলেছে, তারাও ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে এবং এ ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
ডান স্ট্রাম্ফ, তুবা খান ও সুধী রঞ্জন সেন: ব্লুমবার্গের সাংবাদিক; ইংরেজি থেকে
ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক
- বিষয় :
- পাকিস্তান
- ভারত
- বোমা বিস্ফোরণ
