নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকের কণ্ঠস্বর
ফাইল ছবি
রবিউল ইসলাম নয়ন
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ২১:১৬
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নতুন কোনো ধারণা নয়। তিন দেশে বিভিন্ন পরিবার থেকে একাধিক সরকারপ্রধান বা দলীয় প্রধান হওয়ার ধারা প্রমাণ করেছে, রাজনীতিতে পরিবারের যে কেউ যোগ্যতাবলে নেতৃত্ব দিতে পারেন। এই বাস্তবতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের রাজনীতিতে আসা প্রায় অনিবার্যই ছিল।
গত বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হলে সেই কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় তারেক রহমানকে। এমন পরিস্থিতিতে ওই বছর ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ৭৩তম ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি তিনি। সে সময় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান জাইমা রহমান। ওই সফরে তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার সাবেক গভর্নর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেকা ওয়াগনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তার আগেই, নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশে ঘটে গিয়েছিল জুলাই গণআন্দোলন; রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। জনগণ তখন বুঝে ফেলেছিল, পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। রাজনীতিতে পুরোনো রীতিনীতির দিন শেষ। মানুষ চায় নেতৃত্বে যোগ্যতা, চায় সিদ্ধান্তে মানবিকতা। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সেই প্রজন্মের প্রতিনিধি। একবার তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত এক ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতি কখনোই কেবল ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা হতে পারে না– রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার, সম্মান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।’
জাইমা রহমান আরও বলেছিলেন, ‘রাজনীতি ক্ষমতার লড়াই নয়, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের অধিকার আর সম্মানের লড়াই। যেখানে নেতা থাকবে মানুষের পাশে, আর সিদ্ধান্ত হবে জনগণের স্বার্থে। বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনীতিবিদদের জনগণের বাস্তব সমস্যার দিকে মনোযোগী হতে হবে এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।’
জাইমা রহমান তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত যে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এজন্য তরুণ সমাজকে সচেতনভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য নীতিনির্ভর ও মানবিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরে যেটা তরুণ প্রজন্মেরও একান্ত চাওয়া।
রবিউল ইসলাম নয়ন: রাজনীতিক
- বিষয় :
- জাইমা রহমান
- রাজনীতি
- তারেক রহমান
