ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ

শিক্ষার্থীরা ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার শিকার

শিক্ষার্থীরা ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার শিকার
×
×

মাহফুজুর রহমান মানিক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:৩২ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:৩৩

ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিট প্রজেক্টে কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে সরকারি শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটউট থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর; অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ও ইউনিভার্সিটি ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে পোস্ট-ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। মনিনুর রশিদের জন্ম পাবনায়। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক।

সমকাল: শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের ফল আপনি কীভাবে দেখেন? ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার?

মনিনুর রশিদ: এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে অনেক ফ্যাক্টর আছে। তবে একে একেকজন একেক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে পারেন। প্রশ্ন হলো, আপনি কোন লেন্স (দৃষ্টিকোণ) থেকে দেখছেন। আমার মনে হয়, এই ফলে শিক্ষা প্রশাসনের এক ধরনের হ্যাপিনেস (সন্তুষ্টি) হয়তো আছে। তারা মনে করছে, এতে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে। এতে পাসের হার কিংবা জিপিএ ৫ কম হলেও সমস্যা নেই। আগে ‘ভালো’ ফল দেখানোর যে প্রবণতা ছিল, সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে এই সরকার একটা লাগাম পরানোর চেষ্টা করছে।

সমকাল: এই অবস্থান কি ঠিক আছে?

মনিনুর রশিদ: আমি তো বললাম, এটা নিয়ে সরকারের সন্তুষ্টি থাকতে পারে; তার যুক্তিও অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু সমস্যাটা অন্যখানে। যে পদ্ধতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করছে, সে পদ্ধতিতেই সমস্যা। প্রশ্ন আসতে পারে, এবার কি শিক্ষার্থীরা কম পড়েছে? নাকি শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াননি? নাকি প্রশ্ন কঠিন হয়েছে? এখানে শিক্ষা প্রশাসন গবেষণা করে দেখতে পারে, এবারের প্রশ্ন আগের চেয়ে বেশি কঠিন হয়েছে কিনা। তার চেয়েও জরুরি এখানে স্ট্যান্ডার্ড এবং রুব্রিক (মূল্যায়ন নির্দেশিকা) ঠিক করা।

সমকাল: কীভাবে ঠিক করা যায়?

মনিনুর রশিদ: যেমন শিক্ষাবিদ বেঞ্জামিন ব্লুমসের টেক্সোনমি আছে। তার আলোকে মূল্যায়নের স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করা। যেমন আইইএলটিএস পরীক্ষা বিশ্বব্যাপী একটা স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট হিসেবে স্বীকৃত। যেখানেই পরীক্ষা দেন, তার ফল সমগ্র পৃথিবীতে একই রকম স্বীকৃত। বাংলাদেশে কেউ সিক্স পেলে আমেরিকায়ও সেটা সিক্স হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আমাদের পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি বা এইচএসসিতে এমন কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই। ফলে দেখা যাচ্ছে, একই শিক্ষার্থীর মূল্যায়নে একেক শিক্ষক ভিন্ন ভিন্ন নম্বর দিচ্ছেন। যেমন কয়েক মাস আগেই আমরা দেখেছি, এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীর ফলের পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এবারও অনেক শিক্ষার্থী হয়তো পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করবে। তার মানে, ফলের ক্ষেত্রে যে তারতম্য ঘটছে, সেটাই বলছে, আমাদের মূল্যায়নের গলদ আসলে কোথায়।

সমকাল: পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকরা তো খুব বেশি সময় পান না। এটাও প্রকৃত মূল্যায়নের পথে বাধা নয় কি?

মনিনুর রশিদ: অল্প সময়ে অনেক খাতা দেখলে ন্যায্য মূল্যায়ন সম্ভব কিনা, তা নিয়ে আমার সন্দেহ প্রবল। খাতা দেখার জন্য শিক্ষককে যে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া দরকার, সে সময় তারা পান না। এর আগে আমরা দেখেছি, সরকার এক ধরনের কৃতিত্ব নিতে চাইত– তারা দুই মাসের মধ্যে ফল দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কীভাবে লিখিত পরীক্ষার খাতা যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব? এটা আরও কঠিন। কারণ আমরা একই রুব্রিক ব্যবহার করছি না।

সমকাল: খাতা মূল্যায়নের রুব্রিক কীভাবে ঠিক করা যায়?

মনিনুর রশিদ: এটার নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। শিখনফলের আলোকে মূল্যায়নের মাপকাঠি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্তর ঠিক করতে হয়। পরবর্তী ধাপে প্রতিটি স্তরের জন্য স্পষ্ট ও সহজ ভাষায় লিখতে হয়, যেন নম্বরের পার্থক্য স্পষ্ট হয় এবং সবশেষে প্রতিটি মাপকাঠির গুরুত্ব অনুযায়ী নম্বর চূড়ান্ত করতে হবে। এই শিক্ষকদের অ্যাসেসমেন্টে ট্রেনিং দিতে হয়, যেটা আমাদের শিক্ষকদের সেভাবে দেওয়া হয় না। আবারও আইইএলটিএসের কথা বলি। কারণ তারা রুব্রিক দিয়ে তাদের রাইটিং পার্ট মূল্যায়ন করে, সেভাবে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেয়। এককথায় বলতে গেলে, কী লিখলে কত মার্কস পাবে, সেটাই ঠিক করে রুব্রিক। আমাদের সেটা নেই; উল্টো সময় দেওয়া হয় কম। ফলে খাতা মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। 

সমকাল: শিক্ষকদের সরকারের নির্দেশনাও তো মেনে চলতে হয়।

মনিনুর রশিদ: পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় অনেক কিছু ফিলআপ করতে হয়। সরকারের নির্দেশনা তো আছেই। সরকার যদি চায়, শিক্ষার্থীকে পাস করাতেই হবে, তখন তিনি সেভাবে দেখেন। আবার যদি গোপন নির্দেশনা থাকে, বেশি নম্বর দেওয়া যাবে না, তখন কেউ চেপে চেপে নম্বর দেয়। এভাবেই পার্থক্য তৈরি হয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের সামেটিভ ও ফরমেটিভ উভয় ধরনের মূল্যায়ন হওয়া দরকার। 

সমকাল: সামেটিভ ও ফরমেটিভ মূল্যায়নের যদি ব্যাখ্যা করেন।

মনিনুর রশিদ: ফরমেটিভ মূল্যায়ন হলো, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময়েই মূল্যায়ন। আর সামেটিভ হলো, নির্দিষ্ট সময় শেষে মূল্যায়ন। যেমন বার্ষিক পরীক্ষা কিংবা এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ায় স্কুল সিস্টেমে শিক্ষকরা যখন পড়ান, তখনই শিক্ষার্থীদের অ্যাক্টিভিটি দেখে নম্বর দেন। কিন্তু আমাদের পরীক্ষাগুলোতে কেবল মুখস্থ বিদ্যার পরীক্ষা হয়। কে কত মুখস্থ করে খাতায় লিখতে পারছে, তার ওপর মার্কস, যা ব্লুমসের ট্যাক্সনমির সঙ্গে মিলে না। আমরা শিক্ষার্থীর ক্রিয়েটিভিটি দেখছি না। অ্যানালিটিক্যাল বিষয়গুলো দেখছি না। এভাবে ছয়টি ধাপ আছে। আমরা কেবল নলেজ তথা মুখস্থ বিদ্যাই দেখছি। সুতরাং এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই করা সম্ভব নয়। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় একটা রূপান্তর দরকার। আমাদের ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্টে জোর দিতে হবে। শিক্ষকদের সেভাবে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে; বেতন কাঠামোও সেভাবে ঠিক করতে হবে। সামেটিভ ও ফরমেটিভ উভয় পদ্ধতির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিখন মূল্যায়ন করা সম্ভব। 

সমকাল: এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দুই বিষয় পর্যন্ত ফেল করা শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলছে সরকার। এটি কেমন সিদ্ধান্ত?

মনিনুর রশিদ: আমি একে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। কারণ যে শিক্ষার্থী একটি বা দুটি বিষয়ে ফেল করছে, তাকে পুরো বছর অপেক্ষা করানোর কোনো মানেই হয় না। এতে তার জীবন থেকে একটা বছর চলে যাবে কিংবা কেউ এ সময়ে ঝরে পড়তে পারে। দুয়েক মাসের মধ্যে পরীক্ষা হলে ভালো হবে। কারণ ওই বিষয়গুলোতে ইতোমধ্যে তার প্রস্তুতি আছে। এমন না যে, সে তো পড়াশোনাই করেনি। সুতরাং এক মাস সময় দিয়ে যদি পরীক্ষা দেয় তাতে সময় বাঁচবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারবে। 

সমকাল: এসএসসি-এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা তথা প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার পরই আমরা দেখি, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থী ফেল করে। বিশেষ করে এসএসসিতে ইংরেজি ও গণিতের কথা জানি। এবার এইচএসসিতে ইংরেজির সঙ্গে আইসিটিতে ফেল বেশি করেছে। এর কারণ কী?  

মনিনুর রশিদ: আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি ও গণিতভীতি দীর্ঘদিনের। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ইংরেজি ও গণিতে ফেল করে আসছে। এর অন্যতম কারণ ভালো শিক্ষক নেই। ইংরেজির ভালো শিক্ষক নেই, গণিতেও নেই। ইংরেজি নিয়ম করে মুখস্থ করে পরীক্ষা দিতে হয়। ইংরেজি ক্রিয়েটিভ পদ্ধতিতে পড়ানোর জন্য শিক্ষকরা প্রস্তুত নন। আইসিটি বিষয়টিও এবার এসেছে। আমাদের সব কলেজে আইসিটির শিক্ষক নেই। হয়তো গণিত কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, যিনি একটু আইসিটি ভালো পারেন তিনিই ক্লাস নেন। দ্বিতীয় আরেকটা বিষয় হলো, আইসিটি হলো প্র্যাকটিক্যাল বিষয়, এটি হাতে-কলমে শিখতে হয়। এর পরীক্ষা ল্যাব বেজড হওয়া দরকার হলেও মুখস্থ পরীক্ষাই হয়। তাতে শিক্ষার্থীর দক্ষতা দেখার সুযোগ থাকে না। এই জায়গাগুলোতে গ্রামের পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমাদের প্রচুর ভালো ইংরেজি শিক্ষক দরকার। ভালো গণিত শিক্ষক দরকার। আইসিটি শিক্ষক দরকার। আর যোগ্য শিক্ষক পেতে হলে সেভাবেই শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে হবে। 

সমকাল: শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠান কমছে না কেন? 

মনিনুর রশিদ: শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমাতে হলে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ মেন্টরিং করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট দিতে হবে একই সঙ্গে জবাবদিহিও বাড়াতে হবে। সরকার দেখা যায়, কেবল হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ শেষ করতে চায়। সরকারের উচিত হবে– কোন কোন প্রতিষ্ঠান ফেল করল, কেন ফেল করল। এর মানে কারণগুলো চিহ্নিত করা। আমরা যদি রোগ ডায়াগনসিস (নির্ণয়) না করি, তাহলে তো ওই জায়গায় চিকিৎসা বা ট্রিটমেন্ট দিতে পারব না। আমাদের আসলে কোনো সিস্টেমই কাজ করে না। কোনো মনিটরিংও কাজ করে না। কোনো জবাবদিহিও কাজ করে না। যারা ভালো করছে, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে।

সমকাল: কী শিক্ষণীয়? 

মনিনুর রশিদ: তারা শিক্ষকদের বেতন দেয়। শিক্ষকদের জবাবদিহির মধ্যে রাখছে এবং শিক্ষার্থীদেরও জবাবদিহির মধ্যে রাখে। সে জন্য তারা প্রতিবারই ভালো করে। ক্যাডেট কলেজগুলোতেও এমন। আমাদের অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান নষ্ট হয়ে গেছে জবাবদিহি ও মেন্টরিংয়ের অভাবে। 

সমকাল: মানুষের ধারণা, এখন শিক্ষার্থীরা বেশি পরিমাণে মোবাইল ফোন দেখছে বলে ফেল করছে। এর কোনো প্রভাব আছে?

মনিনুর রশিদ: আমরা কেবল শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়ে বাঁচতে চাই। ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোন দেখছে, এটা সত্য। কিন্তু এ বিষয়ে কি জাতীয়ভাবে আমরা কিছু করেছি যে, শিক্ষার্থী কতক্ষণ মোবাইল ফোন দেখতে পারবে, কী দেখতে পারবে, কী পারবে না? এ ধরনের অভ্যাস বা সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি? যেমন অস্ট্রেলিয়া বলছে, বাচ্চাদের ফেসবুক থাকবে না। মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে কিন্তু ক্লাসে ব্যবহার করতে পারবে না। এখন শিক্ষার্থী অনেকে বরং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে শিক্ষকদের দুর্বলতা কাটাচ্ছে। কঠিন বিষয়গুলো শিখছে অনলাইনে থাকা নানা ম্যাটেরিয়াল থেকে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমরা মোবাইল ফোন অ্যাভয়েড করতে পারব না। বরং মোবাইল ফোন টেকনোলজিতে কীভাবে লার্নিং প্রমোট করা যায়, সে চিন্তা করতে হবে।
বাস্তবতা হলো, আমাদের রিক্রিয়েশনের জায়গা, মাঠ ও লাইব্রেরি নেই। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়। কিন্তু অনেক জায়গায়ই ক্লাসে পড়াশোনা হয় না। সে জন্য তাদের প্রাইভেট-কোচিংয়ে দৌড়াতে হয়। অনেক শিক্ষক এমনভাবে পড়ান যেন তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়।

সমকাল: আমাদের এসএসসি-এইচএসসি তথা পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আপনার পরার্মশ কী?

মনিনুর রশিদ: প্রথম কথা হলো, এসব ফল নিয়ে আমাদের এত বেশি উন্মাদনার দরকার নেই। একে নরমালাইজ করা দরকার। এসএসসি পর্যায়ে শিক্ষার্থী যখন নবম শ্রেণিতে পড়ে, তখন থেকেই তার মূল্যায়ন শুরু করা দরকার। নবমের সিলেবাস নবমে শেষ করে মূল্যায়নও শেষ হয়ে যাবে। এভাবে দশম শ্রেণিরও। অনুরূপভাবে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের মূল্যায়ন প্রথম বর্ষেই হবে। তবে কিছু মার্কস রাখতে হবে ফাইনাল পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সম্পূর্ণ মার্কস ফাইনালের জন্য রাখা যাবে না, যার মূল্যায়ন হয় কেবল মুখস্থ পরীক্ষায়। কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, আবার পরীক্ষাভীতি কাজ করতে পারে। ফাইনাল পরীক্ষাই সব হওয়া উচিত নয়। আমাদের বহুকাল ধরে যে মূল্যায়ন পদ্ধতি চলে আসছে, তার খোলনলচে পাল্টে দিতে হবে। এখন অন্য ধরনের অল্টারনেটিভ অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম তৈরি হয়েছে এবং সারাবিশ্ব ব্যবহার করছে, সেখানে পুরোনো মূল্যায়ন ব্যবস্থা আঁকড়ে ধরে থাকার মানে হয় না। এই বের হওয়াটা এক দিনে নয়, ধীরে ধীরে হতে হবে; কিন্তু হওয়া জরুরি। 

সমকাল: তার মানে মূল্যায়ন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তনের কথা আপনি বলছেন। 

মনিনুর রশিদ: সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীর শিখনের মূল্যায়ন করতে চাইলে পদ্ধতির আমূল পরিবর্তনের বিকল্প নেই। আমাদের মূল্যায়নের আউটকাম চিন্তা করতে হবে। শিক্ষার্থীর কেবল জ্ঞান নয়, তার সৃজনশীলতা, আচরণসহ একটা সম্পূর্ণ মূল্যায়ন জরুরি। যতদিন আমরা সেখানে যেতে না পারব, ততদিন আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নষ্ট হবে। যার জন্য তারা দায়ী নয়, দায়ী হলো আমাদের সিস্টেম। অথচ দায়টা আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর, অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি। এটা একটা ব্লেম গেম হচ্ছে। সরকার ব্লেম দেয় শিক্ষকদের; শিক্ষকরা ব্লেম দেয় অভিভাবকদের; অভিভাবক ব্লেম দেয় ছাত্রদের। এই ব্লেম গেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সমকাল: সুদূর দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থেকেও সময় দিয়েছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

মনিনুর রশিদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। সমকালের জন্য শুভকামনা।

আরও পড়ুন

×