ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রামগতি

ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পাচ্ছেন না চরের রোগীরা

ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পাচ্ছেন না চরের রোগীরা
×

২০২২ সালের অক্টোবরে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হলেও সেটির সুবিধা পাচ্ছেন না রামগতির চরাঞ্চলের মানুষ সমকাল

মিসুসাহানিক্কন, রামগতি (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

রামগতি উপজেলা সদরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরআবদুল্লাহসহ বিভিন্ন চরের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এসব চরের রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা-নেওয়ার জন্য তিন বছর আগে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিল সরকার। তবে রোগীরা সেই অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পাচ্ছেন না। বর্তমানে সেটি শুধু উপজেলা প্রশাসনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৯ হাজার ৩৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৯৪২ এবং মহিলা ৪ হাজার ৪৪৭ জন। জরুরি চিকিৎসার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জানা যায়, ২০২২ সালের অক্টোবরে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয় রামগতি উপজেলা প্রশাসনকে। এটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসাইন আকন্দ। স্থানীয় বাসিন্দা মো. পারভেজ বলেন, ‘উদ্বোধনের পর কিছু রোগী অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পেলেও গত দুই বছর ধরে সেবা বন্ধ। গত ২ বছরে একজনও রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে হাসপাতালে আনা-নেওয়া করা হয়নি। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কোনো মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়নি। এই অ্যাম্বুলেন্স এখন শুধু উপজেলা প্রশাসনের কাজে ব্যবহার করা হয়।’

স্থানীয় রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে এখনও নৌকা ভাড়া করে হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়া করতে হয়। অনেক সময় দ্রুত নৌকা পাওয়া যায় না। তখন রোগীর জীবন সংকাটপন্ন হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন সরকারি বরাদ্দকৃত এ অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিশ্চিত করছে না।’
সদ্দাম জানান, ‘চরআবদুল্লাহসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সটি এখনও চালু হয়নি। প্রসূতি মা ও গুরুতর অসুস্থ রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য আমাদের ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করে নৌকা ভাড়া করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাজ হলো জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখা, দুর্গত মানুষের উপকারে কাজ করা। তারা চরাঞ্চলের মানুষের দেওয়া ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে আর চরের মানুষ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে রোগী পরিবহন করছেন–এটা খুবই অন্যায়। আশা করি, প্রশাসন দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সটি চরের মানুষের রোগী পরিবহনের জন্য দিয়ে দেবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

×