রাতের আঁধারে পাহাড় কাটা হয় পুটিবিলায়
কাইছার হামিদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
লোহাগাড়া উপজেলার পূর্ব প্রান্তে ছোট ছোট পাহাড় ঘেরা অপরূপ জনপদ পুটিবিলা। সেখানে চলছে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কাটা। পহরচান্দা গ্রামে ‘কালুনির বরঅ পাহাড়’ (কালুনির বাপের পাহাড়) নামে পাখির আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। রাতের অন্ধকার নামলেই সরব হয়ে উঠে খননযন্ত্র। ভোর রাত পর্যন্ত পাহাড়ের বুকে চলে এক্সক্যাভেটরের থাবা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পাহাড়টি স্থানীয় আবদু সালাম নামে এক ব্যক্তির দখলে ছিল। বর্তমানে সেটি পহর চাঁন্দা গ্রামের বাসিন্দা আবছার উদ্দিনের দখলে। মৎস্য খামারগুলো পরিচালনা করেন তিনি। জায়গাটা আবছারের প্রজেক্ট নামেও পরিচিত। এক বছর আগে পাহাড় কাটা শুরু হয়। গত এক মাস ধরে পাহাড় কাটছেন আবছার উদ্দিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়টি লোকালয় থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় আশপাশে বসতি নেই। তবে পাহাড়ের পাদদেশে অন্তত ৮টি মৎস্য খামার রয়েছে। প্রায় তিন একর আয়তনের পাহাড়টির অন্তত ২০ শতক জায়গা কাটা হয়েছে। পাহাড়ের কাটা অংশের দাগ থেকে বোঝা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড়ের মাটি কাটা হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালাও কেটে ফেলা হয়েছে।
লোকালয় থেকে দূরে নির্জন পাহাড়টি অসংখ্য পাখির আশ্রয়স্থল। স্থানীয়রা ‘কালুনির বরঅ পাহাড়’ কাটার সংবাদ উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় আবুল ফজল বলেন, ‘পাহাড়টি পুরোপুরি কাটা হলে হয়তো প্রশাসনের টনক নড়বে। এর আগে নয়। পাহাড় কাটা শেষ হলে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করবে। সামান্য জরিমানা করবে। তারপর তাদের দায়দায়িত্ব শেষ। এভাবেই তো পুটিবিলার সব পাহাড় ধ্বংস হচ্ছে।’ দিদারুল আলম বলেন, ‘বউত সাংবাদিক আইস্স্যে, পাহাড় হাটা বন্ধ অইয়ে নে? আইলেও কি, ন আইলেও কি।’
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের নজর এড়াতে রাতে পাহাড় কাটা হয়। পাহাড়ের মাটি ডাম্পারে করে নিয়ে যাওয়া হয় দূরদূরান্তে, ব্যবহৃত হয় জমি ভরাট, বাড়ি নির্মাণ ও ইটভাটায়।
অভিযুক্ত আবছার উদ্দিন পাহাড় কাটায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে পাহাড়টির দখলি স্বত্ব পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ আবদু সালামের কাছ থেকে সেটির দখলি স্বত্ব কিনে নেন মনছুর আলম নামে এক প্রবাসী। এলাকার কারও জায়গা ভরাটের জন্য মাটির প্রয়োজন হলে নিজেরাই পাহাড় থেকে মাটি কেটে নিয়ে যান।’
তবে স্থানীয়রা জানান, পুটিবিলায় পাহাড় কাটার একটি সিন্ডিকেট আছে। তারা সরকারি পাহাড় দখল করে। পাহাড়ের মাটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। প্রকাশ্যে এসব চললেও প্রশাসন অনেকটা নীরব।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, ‘কোনোভাবেই পাহাড় কাটা যাবে না। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে এ কাজে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেব।’
- বিষয় :
- পাহাড়
