একটি ভ্যান ও কিছু স্বপ্ন
দিনমজুর মামুন হোসেনের হাতে নতুন ভ্যান তুলে দেন পালেরহাট অল ইয়ুথ সোসাইটির সদস্যরা সমকাল
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটি ভ্যান, একঝাঁক মানুষের ভালোবাসা পাওয়ায় নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে বিভোর দিনমজুর মামুন হোসেন (৩৮)। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে।
সম্প্রতি পালেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রঙিন বেলুন ও ফিতা দিয়ে সাজানো একটি নতুন ভ্যান তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভ্যানটি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিনের কষ্ট, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এই উপহার যেন তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
স্ত্রী রুমি বেগম, ১২ বছরের ছেলে আব্দুর রহমান ও ১০ বছরের মেয়ে মাহমুদা আক্তারকে নিয়ে মামুনের সংসার। বহু বছর ধরে অন্যের ভ্যান ভাড়া চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ১৫ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় ডান পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তার জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে না পারায় পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট।
অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে নিজের একটি ভ্যানের স্বপ্ন দেখতেন মামুন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পালেরহাট অল ইয়ুথ সোসাইটি। সংগঠনটির ‘স্বাবলম্বী প্রকল্প’-এর আওতায় তাকে একটি নতুন ভ্যান উপহার দেওয়া হয়।
মামুন হোসেন বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি নিজের একটি ভ্যান হবে। এতদিন অন্যের ভ্যান ভাড়ায় চালিয়েছি। আজ নতুন ভ্যান পেয়ে মনে হচ্ছে আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেলাম। এখন নিয়মিত কাজ করতে পারব, সন্তানদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারব। যারা আমাকে এই সহায়তা করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।’
অনুষ্ঠানে অল ইয়ুথ সোসাইটির উদ্যোগে আরও চারজন অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।
অল ইয়ুথ সোসাইটির মুখপাত্র আবু জাহিদ পাটোয়ারী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু সহায়তা দেওয়া নয়, একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। প্রতিবছর স্বাবলম্বী প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত একটি পরিবারকে সহায়তা করি আমরা। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা হবে। এতে অন্যদের সহায়তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’
- বিষয় :
- দিনমজুর
